অন্টারিওতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অধিকাংশ অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষার সময় বেড়েছে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘কানাডিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভস’-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, অন্টারিওতে এমআরআই (MRI) পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার সময় বেড়েছে। হাসপাতালের পরিবর্তে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা স্থানান্তরের ফলেই মূলত এমনটা ঘটেছে। আর ‘কুইন্স পার্ক’-এর প্রতিবেদক লরেন্ডা রেডডেকপ যেমনটি জানিয়েছেন, অপেক্ষার সময় বেড়ে যাওয়ার ঘটনা কেবল এই একটি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রদেশটির সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত অধিকাংশ অগ্রাধিকারমূলক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কানাডিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভস (CCPA)-এর প্রকাশিত ঐ গবেষণা অনুযায়ী, যে ১২টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই সময়ে অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে, তার মধ্যে এমআরআই (MRI) স্ক্যান, ছানি অপারেশন এবং সব ধরনের ক্যান্সার সার্জারি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওই কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যান্ড্রু লংহার্স্ট বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে প্রাইভেট সেক্টরের মুনাফা-ভিত্তিক অস্ত্রোপচারের পেছনে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, অথচ অন্টারিওবাসী সেই অর্থের বিনিময়ে কী পাচ্ছেন, তা দেখানোর মতো কোনো ফলাফল আমাদের কাছে নেই।”
২০২৩ সালে অন্টারিও সরকার ‘ইউর হেলথ অ্যাক্ট’ (Your Health Act) নামে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিষয়ক একটি বিল পাস করে। ঐ বিলের আওতায় সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা সেবা—যেমন ছানি অপারেশন এবং রোগ নির্ণয়মূলক ইমেজিং ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা—প্রদানের সুযোগ আরও বেশি সংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিককে দেওয়া হয়। চিকিৎসা সেবার জন্য অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনা এবং জমে থাকা অস্ত্রোপচারের দীর্ঘ তালিকা বা জট কমানোর লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনারই একটি অংশ ছিল ঐ বিল।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে যে, এমআরআই (MRI) স্ক্যানের জন্য অপেক্ষার সময় (median wait time) ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যা ২০১৭ সালের ৩৫ দিন থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪৭ দিন হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মূত্রথলি, স্তন, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট ও ফুসফুসসহ সব ধরনের ক্যানসার অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে লংহার্স্ট বলেন, “সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকার তার নীতিমালার মাধ্যমে যে ফলাফল পাওয়ার দাবি করেছিল, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। অথচ এই প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। এখন সময় এসেছে সরকারি হাসপাতালগুলোতেই সেই বিনিয়োগগুলো করার।”
এদিকে সিইউপিই (CUPE)-এর হাসপাতাল বিষয়ক শাখা ‘অন্টারিও কাউন্সিল অফ হসপিটাল ইউনিয়নস’-এর সভাপতি মাইকেল হার্লি সিসিপিএ (CCPA)-র গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রদেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে অর্থায়ন বন্ধ করে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হার্লি বলেন, “দক্ষতা ও সমতার স্বার্থে বেসরকারি সার্জিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থায়ন বাতিল করা উচিত। পাশাপাশি, বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামোর দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।”
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলভিয়া জোন্স সোমবার বলেছেন, “যখন স্থানীয় পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলো চালু থাকে এবং ছানি, অর্থোপেডিক ও এন্ডোস্কোপি সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়, তখন এর অর্থ হলো—মানুষের জন্য সেবার সুযোগ বাড়ে এবং তারা দ্রুত সেই সেবাগুলো পায়।”
জোনসের মুখপাত্র সিবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, “সিসিপিএ-র প্রতিবেদন অন্টারিওর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না।”
সোমবার এক ইমেইলে জোনসের মুখপাত্র লিলি বার্নস সিবিসিকে বলেন, “হিপ ও হাঁটুর মতো জয়েন্ট সার্জারির ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় সবচেয়ে কম রেখে পুরো দেশে নেতৃত্ব দিতে পেরে অন্টারিও গর্বিত। অপেক্ষার সময় কম রাখার লক্ষ্যে আমরা রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি; এর মধ্যে কেবল চলতি বছরেই স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১০১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি।”
তবে লিবারেল এমপিপি (MPP) ও চিকিৎসক আদিল শামজি বলছেন যে, অন্টারিওবাসীরা “আরও খারাপ ফলাফলের জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করছেন।”
এনডিপি-র এমপিপি ফ্রান্স জেলিনাস সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “বেসরকারিকরণ অতি ধনীদেরই সহায়তা করে। এটি অপেক্ষার সময় কমাতে কোনো ভূমিকা রাখে না। মানুষের সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতেও এটি কোনো কাজে আসে না। বরং এতে খরচ বেশি পড়ে।”
অন্টারিও গ্রিন পার্টির নেতা ও এমপিপি মাইক শ্রেইনারও এই গবেষণার ফলাফলের বিষয়ে প্রদেশটির সমালোচনা করেছেন। তিনি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “ডগ ফোর্ড বারবারই ধনী শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং অন্টারিওবাসীকে সবার শেষে রেখেছেন। এর ফলে মানুষের জীবন আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।”
