শহর পরিচ্ছন্নতা অভিযানে টরন্টোবাসীরা
ইয়াকুব সিদ্দিকী

“আত্তাহুরো সাত্রুল ঈমান” অর্থাৎ পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। হাদীসের এই অমর বাণী বাস্তবতার সাথে যেমন সামঞ্জস্যশীল মানসিক প্রশান্তির জন্য তেমনি শতভাগ অপরিহার্য। আবার দৈহিক স্বাস্থ্য ছাড়া মানসিক প্রশান্তির আশা করাও দূরাশামাত্র। একটির সাথে আরেকটি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। দৈহিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজের শরীরকে নীরোগ রাখতে হবে, তবেই তো মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যাবে। নিজের শরীরকে নীরোগ রাখতে হলে যেমন সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই তেমনি নানা রোগ-জীবানুর হাত থেকে নিজেকে নিরাপদও রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের অজান্তেই আমাদের পরিবেশের চারদিকে অসংখ্য রোগ-জীবানু প্রতিনিয়ত বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, আবার পানিও তা বহন করে বেড়াচ্ছে। এই রোগ-জীবানু যেকোন মুহূর্তে আমাদেরকে আক্রমণ করার জন্য ওৎ পেতে বসে আছে। একটু সুযোগ পেলেই খপ্ করে ধরে ফেলবে। তাহলে আমাদের এই পরিবেশকে আমাদের বসবাসের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের ব্যক্তিস্বাস্থ্য এবং আমাদের সামাজিক, আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কিছুতেই রক্ষা পাবে না। এ পরিবেশ তৈরী করা একদিনের কাজ নয় এবং আমার আপনার একার কাজও নয় এবং সম্ভবও নয় – এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টার এবং সমন্বিত সচেতনতার।

সুখের বিষয় কানাডার সর্বস্তরের জনগণ এ ব্যাপারে সবিশেষ সচেতন। কোন নাগরিককে রাস্তাঘাটে চলাফেরায় যত্রতত্র কোন ময়লা আবর্জনা, উচ্ছিষ্ট কোথাও ছুড়ে ফেলতে দেখা যায় না। রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে কোথাও কোন ময়লা আবর্জনা দৃষ্ট হয় না।
প্রতিদিনই দেখা যায় অগণিত কুকুর-পোষা ভদ্রলোক তাঁদের কুকুর নিয়ে রাস্তায় হাঁটছেন, আশেপাশে কোন লোকজন নেই, এমন সময় কারও একজনের কুকুরটি হয়ত মল ত্যাগ করলো, ভদ্রলোকটি দিব্বি মল ফেলে রেখে চলে যেতে পারেন, কেউ তো তা দেখছে না। কিন্তু তিনি তা করছেন না – ঘৃণা ত্যাগ করে মিনি পলিথিন ব্যাগে মল তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কারো অজান্তে পাশে কোথাও ছুড়ে ফেলেও দিচ্ছেন না, বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন গার্বেজ করার জন্য। পরিবেশ সম্বন্ধে তাঁরা কত সচেতন!
টরোন্টোবাসীরা প্রতি বছর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বসন্তকালীন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রোদ-বৃষ্টি যাই হোক সরকারী জায়গা পরিচ্ছন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালে ৫৫৮টি কমিউনিটি, ৩০৯টি করপোরেট, ৫৩৫টি স্কুল এবং ২০,০০০ স্বেচ্ছাসেবক এই মহৎ উদ্যোগে তালিকাভূক্ত হন। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীগণও সানন্দে নাম লেখান।

তন্মধ্যে স্কারবোরো মুসলিমরাও যুক্ত হন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন ও অন্যান্য দেশের মুসলমান পুরুষ, মহিলা ও ছেলেমেয়েরাও এই আবর্জনা সংগ্রহ অভিযানে সাগ্রহে অংশ গ্রহণ করেন।
আমাদের ভাগে পড়েছিলো টরোন্টোর স্কারবোরো এলাকার রোজব্যাংক পার্ক এবং তৎসংলগ্ন এলাকা। রাস্তা পরিস্কার করার প্রয়োজন হলো না, কারণ রাস্তায় কোন আবর্জনাই নেই, তার পরিস্কার করবো কি। খুঁটে খুঁটে দু চারটা যা আবর্জনা পাওয়া গেলো তাই গার্বেজ ব্যাগে ভরে জমা দিয়ে আসতে হলো। শুধু কয়েকটি রাস্তা ঘুরে এলাকাবাসীকে আরেকটু সচেতন করে দেয়া মাত্র। সুখের বিষয় আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন স্কারবোরোর (উত্তর) এম পি মিঃ শাওন চেন।
স্কারবোরো, টরন্টো থেকে।
ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২২
