টরন্টোতে প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন দারিদ্র্যের শিকার

কিছু পরিবার দারিদ্র্যসীমার আরও নিচে নেমে যাচ্ছে

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুন ১২, ২০২৬ : নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, টরন্টোর প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন দারিদ্র্যের শিকার, কারণ শহরটিতে কিছু পরিবারের আয় ক্রমশ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। খবর সিটিভি নিউজের।

নিউজ চ্যানেলটি জানায়, গত ৯ জুন প্রকাশিত ‘অ্যাডভান্সিং দ্য প্রমিজ ফর টরন্টোজ চিলড্রেন: চাইল্ড অ্যান্ড ফ্যামিলি পভার্টি রিপোর্ট কার্ড, টরন্টো ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের সর্বশেষ করদাতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে টানা তৃতীয় বছর ধরে শহরটিতে দারিদ্র্য বৃদ্ধি ও আরো গভীর হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২০২১ সালের আদমশুমারি থেকে প্রাপ্ত ২০২০ সালের আয়ের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণারও সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

দৃশ্যমান সংখ্যালঘু পরিবারে শিশু দারিদ্রতায় হার বেশি।  ছবি : হাফিংটন পোস্ট

অলাভজনক সংস্থা সোশ্যাল প্ল্যানিং টরন্টো (এসপিটি) কর্তৃক প্রকাশিত ১০৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে শিশু দারিদ্র্যের প্রবণতা, এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি এবং এই ধারাকে পাল্টে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে এর লেখকরা জানিয়েছেন।

টরন্টোর ২৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে এতে দেখা গেছে যে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টরন্টোতে শিশু ও পারিবারিক দারিদ্র্য ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ২৫.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এই বৃদ্ধি অন্টারিওর গড়ের অনুরূপ, তবে এটি জাতীয়ভাবে ০.২ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধির চেয়ে দ্বিগুণ বেশি।

সোশ্যাল প্ল্যানিং টরন্টো’র  সারসংক্ষেপে বলেছে, “আপাতদৃষ্টিতে যদিও এই বৃদ্ধি সামান্য বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এর অর্থ হলো আরও প্রায় ১,৮০০ শিশু দারিদ্র্যের কবলে পড়েছে।”

একই সাথে, সকল নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

টরন্টোতে যেখানে শিশু দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও শহরজুড়ে শিশু দারিদ্র্য বিদ্যমান, তবে গ্রেটার টরন্টো এলাকার স্কারবোরো এবং শহরের কেন্দ্রস্থল জুড়ে এর প্রকোপ বিশেষভাবে বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে – টরন্টোর ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে নয়টিতে শিশু দারিদ্র্যের হার ৩০ শতাংশ বা তার বেশি ছিল, যার মধ্যে টরন্টো সেন্টার ৩৬.১ শতাংশ হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল, এরপরে ছিল হাম্বার রিভার-ব্ল্যাক ক্রিক ৩৫.০ শতাংশ এবং স্কারবোরো-গিল্ডউড ৩৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টরন্টোর ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে শিশু দারিদ্র্যের হার বেড়েছে, বিশেষ করে ইটোবিকোক সেন্টারে, যেখানে এই হার ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১৮.৬ শতাংশ থেকে ১৯.৯ শতাংশ হয়েছে। এর পরেই রয়েছে ডন ভ্যালি ইস্ট, যেখানে এই হার ১.২ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৩৩.১ শতাংশ হয়েছে এবং ডন ভ্যালি ওয়েস্ট ও হাম্বার রিভার—ব্ল্যাক ক্রিক, উভয় স্থানেই এই হার ১.১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ২৬.৭ শতাংশ ও ৩৫.০ শতাংশ হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে টরন্টোতে আসা অনেক পরিবারের শিশু দারদ্রতার শিকার হয়ে বিভিন্ন মৌলিক সহায়তা ও সেবা যেমন- শিক্ষা, ভাল বাসস্থান, সামাজিক ও বিনোদনমূলক সুযোগ, চাইল্ড কেয়ার ইত্যাদিতে সমান সুযোগ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই শিশুদের বাবা-মা প্রায় সকলেই বাংলাদেশের স্বচ্ছল পরিবার থেকে আসা। টরন্টোতে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য দেশ থেকে আসা অনেক পরিবারের শিশুদেরও একই অবস্থা।

২০১৬ সালের আদম শুমারীর উপর ভিত্তি করে ইতিপূর্বে রচিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছিল। প্রতিবেদনটি তৈরী করেছিল Social Planning Toronto  নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।

টরন্টো স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এখানে এথনিক বা দৃশ্যমান সংখ্যালঘু পরিবারের শিশুরা কানাডিয়ান পরিবারের শিশুদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে দারিদ্রতায় ভুগছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, শতকরা হিসাবে দৃশ্যমান সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে ২৩.৩% শিশু দারিদ্রতায় ভুগছে। কানাডিয়ান পরিবারগুলোতে এই হার ১১.৪%। আর টরন্টোতে বসবাসরত আদীবাসী পরিবারগুলোতে শিশু দারিদ্রতার হার ৮৪%।

অন্যদিকে নতুন আসা ইমিগ্রেন্ট পরিবারের শিশুদের মধ্যে দারিদ্রতার হার প্রায় ৫০%। এরা কানাডায় এসেছেন গত ৫ বছরের মধ্যে এবং এদের মধ্যে অনেকেই দৃশ্যমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য।

টরন্টোর ড্যানফোর্থ ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় প্রচুর সংখ্যক উচ্চশিক্ষিত তরুণ বাংলাদেশী ইমিগ্রেন্ট থাকেন। টরন্টো স্টার এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই এলাকায় শিশু দারিদ্রতার হার টরন্টোতে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। এই এলাকার শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ শিশু দরিদ্র অবস্থায় বাস করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *