বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ফিফা ও রেফারির নগ্ন হস্তক্ষেপ: এ লজ্জা কার?
শৈলেন কুমার দাশ
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের এক নান্দনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। যার পায়ের জাদুতে অভিনব ফুটবলের নয়ন মুগ্ধকর চিত্রকর্ম তৈরি হয় সবুজের গালিচায়। আর এই জাদুতে বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের প্রাণে ছড়িয়ে যায় আনন্দ উল্লাসের এক নবীন শিহরণ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রিয় জন্মভূমি আর্জেন্টিনার প্রতিটি মেসে দ্যুতি ছড়িয়েছে তাঁর পায়ের নিপুণ যাদু! হয়ে উঠেছিল বিশ্বকাপ আসরের শৈল্পিক উদ্দীপক কোটি মানুষের প্রাণে। ফাইনাল মেসটিও অসাধারণ উপভোগ্য হবে এই বিস্ময়কর জাদুকরের পায়ের অবিশ্বাস্য জাদুতে, সেই আশায় ছিল বিশ্বের শত শত কোটি মানুষ। কিন্তু সেই আশা ও সবুজের বুকে প্রতি মুহূর্তে নয়ন মুগ্ধকর আলপনা দেখা থেকে বঞ্চিত হল বিশ্ববাসী! এর পেছনে লুকায়িত কারণ হলো স্বয়ং ফিফার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র এবং রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এর নগ্ন রেফারিং। মেসিকে আটকাতে হবে; আর্জেন্টিনাকে আটকাতে হবে! স্পেনকে জেতাতে হবে! তা নাহলে উচ্চবর্ণের ইউরোপিয়ানদের মান থাকবে না! তাই এই জঘন্য কুৎসিত খেলায় মেতে উঠেছিল গোপনে ফিফা! তাই তারা মাঠে পাঠালো আর্জেন্টিনার চিরশত্রু স্লোভেনিয়ান এই চরম শঠ রেফারিকে। এ পর্যন্ত সে আর্জেন্টিনার যতটি খেলা পরিচালনা করেছে তার একটিতেও সে আর্জেন্টিনাকে জিততে দেয়নি। আপনাদের মনে আছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সৌদি আরবের সাথে আর্জেন্টিনার মেসটির কথা? সেই মেসেও এই ভিনচিচ ছিল রেফারি। যে মেসে সে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারাতে আনকোরা সৌদিআরবকে নগ্ন সাহায্য করেছিল এই অভিশপ্ত রেফারি।
এই রেফারি ভিনচিচের ব্যক্তিগত জীবনও পরিচ্ছন্ন নয়। ২০২০ সালের মে মাসে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় একটি কেবিনে অভিযান চালানোর সময় পুলিশ তাকে আটক করেছিল। মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং পতিতাবৃত্তি আয়োজনের অভিযোগে সে ছিল সন্দেহভাজনের তালিকায়। আর ফিফা এসব জানার পরও এই পাপিষ্ঠ রেফারিকে বিশ্বকাপের মত আসরে তাকে মেস পরিচালনার দায়িত্ব দেয়? তাহলে বুঝতে হবে ফিফার মত জগৎনন্দিত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আজ কোন নিম্নতর মাত্রায় পৌঁছেছে!

বিষয়টি এমন ছিল যে মেসিকে আটকাতে হবে; আর্জেন্টিনাকে আটকাতে হবে! মেসিকে কোন পজিশন ও রিওয়ার্ড দেয়া যাবে না! মেসি যখন ‘গোল্ডেন বুট’ দখলের সীমানায় তখনই আরেক মেস পাতানোর কুৎসিত পরিকল্পনা করে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারণী মেসে। জগৎ দেখেছে কি হাস্যকরভাবে গোলের বন্যা বয়ে গেল এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মেসে! মূল বিষয় হচ্ছে ফ্রান্সের এমবাপের গোলের সংখ্যা যদি ১০ বা ১০এর অধিক হয়ে যায় তাহলে মেসি আর ”গোল্ডেন বুট’ পাবে না। তাই ব্রিটিশরা তাকে মনখুলে গোল দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। হায়রে নোংরামি! ব্রিটিশ নোংরামি আবার দেখলো গোটা বিশ্ববাসী!
ব্রিটিশ ফুটবল দলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলায় বহুল প্রচলিত সেই বিখ্যাত প্রবাদটি। “অপরের জন্য কুৎসিত খাল খনন করলে, নিজেকেই সেই খালে পড়ে হাবুডুবু খেতে হয়।” গোটা বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে ভারতবর্ষে ১৯০ বছরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের ফল তো এখন গোটা ব্রিটেন ভোগ করছে। ব্রিটিশ সমাজে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? এসব কিন্তু চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের ফল! আর আজকের এই ফুটবলের সুন্দর বিশ্ব আসরকে কুৎসিত ব্রিটিশ চিন্তায় কলুষিত করার ফলও কিন্তু ব্রিটিশ ফুটবলে কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করবে। লিপিবদ্ধ হবে ঘৃণ্য ও অতি নিম্নমানের ইতিহাস যারা এক সময় গোটা পৃথিবীকে ফুটবল শিখিয়েছে সেই ব্রিটিশদের জন্য। একটু গভীরভাবে সজ্জন ব্রিটিশদের বিষয়টি অনুধাবনের জন্য অনুরোধ করছি।
প্রিয় মেসি হয়তো তোমার জীবনের শেষ বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল এটি! তবে তোমার এই বিদায় আসরটি এমন নগ্ন দুর্বৃত্তায়নে সাজাবে ফিফা তা সত্যিই আমরা ভাবতে পারিনি! ফিফা এতটা নগ্ন ও অসৎ হবে আমাদের ভাবনার সপ্ত আকাশেও ছিল না। আজ চারিদিকে শুধু প্রশ্ন, আর্জেন্টিনা কেন তাদের চিরসুন্দর নান্দনিক ফুটবল খেলতে পারেনি? না তাঁদেরকে তাঁদের চিরচেনা খেলা না খেলতে বাধ্য করেছে ফিফা বা বিশ্বকাপের জন্য অসুস্থ লালায়িত স্পেন?
বাতাসে এ গুঞ্জনও ভেসে বেড়াচ্ছে আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনিসহ অনেক ফুটবলার যারা স্পেনের ক্লাবে খেলে তাঁদের পরিবার পরিজন বসবাস করছে স্পেনে। স্পেনের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনাকে বলা হয়েছে তাঁরা যদি ফাইনাল মেসে খারাপ খেলে না হারে তাহলে তাঁদের পরিবারকে জিম্মি করা হবে! এ যদি সত্যি হয় তাহলে এরচেয়ে জঘন্য নিম্নমানের কাজ কি হতে পারে? সেজন্যই নাকি মেসিসহ আর্জেন্টিনার কোন প্লেয়ার ভাল খেলেনি! স্বয়ং মেসিকেও নাকি লাল কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা ছিল এই চাটুকার রেফারি ভিনচিচের। খুব ভাল ফর্মে থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে হঠাৎ তোলে নেয়া এবং রোমেরো এর ইনজুরি এবং তুলে নেয়া নাকি স্প্যানিশদের কুৎসিত পরিকল্পনার অংশ! অপ্রতিরোধ্য এনজো ফার্নান্দেজ যখন গোটা মাঠে একাই প্রতিরোধ ব্যূহ রচনা করছিল তখনই রেফারি মহাঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয় অথচ ফার্নান্দেজ স্প্যানিশ ঐ প্লেয়ারের গায়ে স্পর্শই করেনি। সে নিজে ইচ্ছাকৃতভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দৌড়ে এসে ফার্নান্দেজ এর গায়ে পড়ে এবং মাটিতে গড়াগড়ি করে অভিনয় করতে থাকে। ফার্নান্দেজ এবং মেসি বার বার VAR এ বিষয়টি নিরীক্ষণের জন্য পাঠানোর অনুরোধ জানালেও পক্ষপাত রোগাক্রান্ত রেফারি কোন কর্ণপাত করেনি। মানসিক অসুস্থ এই রেফারির মিশনই ছিল আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করা। তারপরও যখন স্পেনের ক্লিব প্লেয়াররা গোল দিতে পারেনি, তখন নাকি আর্জেন্টিনাই প্লেয়ারদের বাধ্য করা হয় ভুল পাসে স্প্যানিশ প্লেয়ারদের পায়ে বল তুলে দেয়ার জন্য! এই ছিল বিশ্বকাপ ফাইনালে জঘন্য ফিফা ও স্পেনের কুৎসিত ও অতি ঘৃণ্য ভূমিকা। এসব জঘন্য ও অতি নিম্নমানের আচরণ দেখে সব সুশীল জনেরা বলছেন “এই আসর আয়োজনের দরকার কি? যাকে পছন্দ হয় তাকে কাপ দিয়ে দিলেই হয়?”
সুতরাং প্রিয় পাঠক, কেন আর্জেন্টিনা তাঁদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলতে পারেনি এখন হয়তো অনুধাবন করতে পারছেন? কেন ফিরতে পারেনি তাদের চিরচেনা ফুটবলের নান্দনিক শিল্পকর্মে? আর পারবেইবা কিভাবে, সবই যে পূর্ব কুৎসিত পরিকল্পনার অংশ! আরও বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে সবকিছুই দিবালোকের মত পরিস্কার হয়ে যাবে। রেফারি ভিনচিচ আর্জেন্টিনাকে ৫টি হলুদ কার্ড এবং ২টি লাল কার্ড দিয়েছে (১টি খেলা শেষে)! এর পর কি করে একটি দল তার স্বাভাবিক খেলা খেলে? রেফারি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে লাল কার্ডটি দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে হারানোর জন্য। প্রথম থেকেই তার রেফারিং এর নমুনায় বুঝা গেছে সে যেন আর্জেন্টিনাকে হারানোর জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে মাঠে নেমেছে। তার আচরণ দেখে আমি প্রথমেই মনে মনে ভাবছিলাম ফুটবলের নান্দনিক সৌন্দর্যে সাজানো একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল মেস দেখা থেকে বঞ্চিত হবে আজ গোটা বিশ্ববাসী! আর সত্যি সত্যি তাই হল। অনেকেই এই রেফারির একচোখা আচরণ দেখে বলেছেন সে হয়তো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঘুষ নিয়েছে স্পেনের নিকট থেকে বা স্বয়ং ফিফা তাকে আর্জেন্টিনাকে যেনতেনভাবে হারানোর মিশন দিয়েই মাঠে নামিয়েছে।
পরে দ্বিতীয় ভাবনাটিই সত্য বলে ধরে নিয়েছে বিশ্ববাসীর মন। কারণ ফিফা যখন ‘গোল্ডেন বলটি’ গোটা এই বিশ্বকাপ আসরকে ফুটবলের অপার নান্দনিক সৌন্দর্যে যিনি সাজিয়েছেন সেই মেসিকে না দিয়ে স্পেনের মিডফিল্ডার রুদ্রিকে দিয়েছে, যে কিনা গোটা আসর জুড়ে একটিও গোল করেনি। তার খেলার মধ্যে গায়ের জোরে দৌড়ানো ছাড়া ফুটবলের নান্দনিক শিল্পকর্মের কোন ছোঁয়া নেই! এসব বুঝা ফিফার আমলাতান্ত্রিক ও নির্দিষ্ট অঞ্চলকেন্দ্রিক মানসিকতা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের অন্ধ পরিসরের অনেক দূরে। সত্যি বিশ্বব্যাপী সর্বক্ষেত্রে আজ সুশীল, সুন্দর ও নিরপেক্ষ চিন্তার খরা চলছে। ভাবছিলাম ফুটবল আসরটি এ থেকে দূরে? কিন্তু আজ ফাইনাল মেসের খেলা পরিচালনা দেখে আমার সেই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হল। এই মানসিকতার পরিবর্তন ও নিরপেক্ষ সরল সৌন্দর্যের আবরণে সজ্জিত না হলে একদিন হয়তো এই আসরে অনেক দেশই ঘৃণা আর তিরস্কারের সাথে পা রাখবে না। বা পাশাপাশি জন্ম নিতে পারে ফুটবল শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিরপেক্ষ ফুটবল বিচার ও বিচক্ষণতা শৈলী মহাদেশীয়, আন্তঃমহাদেশীয়, এমনকি বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থার। যারা ফুটবলের কালো অধ্যায় দূর করে নিরপেক্ষ ফুটবল শৈলী ও রেফারিং এর অলংকারে সাজাবে বিশ্ব ফুটবল আসরকে!
কোনকিছুই অসম্ভব নয়! সময় তার নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্থান আপন অলংকারে সাজাতে নিজেই সব পুরানো কালো অধ্যায় পরিহার করে জ্যোতিস্নাত হয় নবীন আলোর ধারায়। মনে হয় এখন সময় এসেছে ফিফার অত্যাচার, অনিয়মের একচ্ছত্র ঘৃণ্য আধিপত্য থেকে বিশ্ব ফুটবলকে মুক্তি দিতে। ফিফার এই বিমাতা সুলভ আচরণের বার বারই বলি হয় আর্জেন্টিনার মত অর্থনৈতিকভাবে দ্বিতীয় সারিতে থাকা দেশগুলো।
দু’দলের খেলায় একদল তো হারবেই। এটাই তো ফুটবলের স্বাভাবিক সৌন্দর্যে কিন্তু এই ঘৃণ্য অনিয়ম আর পক্ষপাতিত্ব কেন? যা সত্যি আজ ফিফার মেস পরিচালনার আচরণ নিয়ে গোটা বিশ্ববাসীর মনে নানাবিধ মলিন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে?
এ রকম ফাইনাল খেলায় কোন টিমকে লাল কার্ড দেয়া মানে ঐ টিমকে হারানোর জন্য দেয়া! লাল কার্ড দেয়া হয় কখন? যখন কোন খেলোয়াড় মারাত্মক কোন ফাউল করে? রেফারির যুক্তি হয়তো এক্ষেত্রে আর্জেন্টাইন মিড ফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দু’টি হলুদ কার্ডের জন্য লাল কার্ড পেয়েছেন। আসলেই কি ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন? এরচেয়ে তো স্প্যানিশরা মারাত্মক দু’টি ফাউল করেছিল মেসির উপর। সেখানে তো লাল কার্ড দেয়া দূরের কথা হলুদ কার্ডও দেয়নি কানা রেফারি! এটি খুবই পরিষ্কার যে রেফারিকে মাঠে পাঠানো হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করার মিশন দিয়ে। যা সত্যি ফিফার জন্য কলঙ্ক, ফুটবলের জন্য কলঙ্ক এবং বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য কলঙ্ক।
আরো একটু বিস্তারিত বললে আর্জেন্টিনাকে হারানোর বিষয়টি যে রেফারি/ফিফার পূর্ব পরিকল্পিত তা বুঝা যাবে! এই মেসে রেফারি আর্জেন্টিনার ফাউল ধরেছে ২৪টি আর স্পেনের ২১টি (মূলতঃ স্পেনের ফাউল ছিল আরো বেশি ২৯টির মত)। কিন্তু রেফারি স্পেনকে একটিও হলুদ কার্ড দেয়নি অথচ আর্জেন্টিনাকে দিয়েছে ৫টি হলুদ কার্ড ও ২টি লাল কার্ড (খেলা শেষ হওয়ার পর ১)? মেসিকে দু’বার স্প্যানিশরা মারাত্মক ফাউল করেছে কিন্তু রেফারি কোন হলুদ কার্ড দেয়নি! অথচ যে গ্ৰাউন্ডে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত মিড ফিল্ডারকে লাল কার্ড দিল, মেসিকেও মারাত্মকভাবে ফাউলের জন্য স্প্যানিসদের অন্ততঃ একটা লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল। কানা, একচোখা রেফারি এ ক্ষেত্রে হলুদ কার্ড পর্যন্ত দেয়নি। স্প্যানিশরা মেসিকে এমন মারাত্মকভাবে ট্যাকল করার বডি ল্যাংগুয়েজ প্রদর্শন বা অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ করেছে ফলে মেসি বল ধরতেই পারেননি। অর্থাৎ বল ধরতে গেলেই মেসির উপর অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ। রেফারির পক্ষ থেকে এ অবস্থা উত্তরণের কোন প্রচেষ্টা চোখে পড়েনি। মেসির মত বিশ্বের প্রথম সারির ফুটবলারদের গায়ে স্পর্শ করলেই ফাউল এমনকি হলুদ কার্ড দেয়া হয় সাধারণতঃ যাতে মেসিরা ফুটবলে শৈল্পিক নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারে। কিন্তু এই ফাইনাল মেসে রেফারির আচরণ যা সত্যি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং মারাত্মকভাবে ফুটবলের এবং বিশ্বকাপের সৌন্দর্যকে ধূলিলুণ্ঠিত করেছে। আবারও বলছি এর ফলে এমন অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে আগামীতে, অনেক দেশই হয়তো কলঙ্কিত এই বিশ্বকাপ আসরে পা বাড়াবে না!
বিশ্বকাপ আসরকে ফুটবল শিল্পের অসাধারণ নৈপুণ্য দিয়ে দেদীপ্যমান আলোর ধারায় প্রথম থেকে শেষ অবধি যিনি দু’হাতে সাজিয়ে দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন মেসি। শিল্পীর নিপুণ তুলির নিখুঁত রং ছড়ানোর মতই করেছেন ৮টি নান্দনিক গোল! আর ৪টি শৈল্পিক এসিস্ট! যা দেখলে সময় যেন থমকে যায় ক্ষণকালের জন্য! চক্ষু যেন স্থির হয়ে যায় বাতাসে ভেসে ভেসে বলের গোলের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অতিক্রমের সময়ের অপার সৌন্দর্যে! আর সার্থক এক শিল্পীর রং জড়ানো নান্দনিক তুলির আঁচরের মত বার বার সাজিয়ে দিয়েছে সতীর্থদের খেলার আসর! যা বিশ্বব্যাপী ফুটবল প্রেমীদের নয়নকোণে স্থান করে নিয়েছে ম্যাজিকের মত! এর পরও যখন মেসিকে ‘গোল্ডেন বল’ না দিয়ে অন্য কাউকে দেয়া হয় ‘গোল্ডেন বল’ তখন ফিফার দুরভিসন্ধি আর বুঝতে কি বাকি থাকে? তাতে কি এটি বুঝতে সহজ হয়না যে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পরাজিত করার মিশন ছিল স্বয়ং ফিফার? ছি ছি ও ধিক্কার এই একচোখা, কানা ও অনিরপেক্ষ ফিফাকে। ফুটবলের অমিয় সুন্দর, নান্দনিক শিল্পের উৎকর্ষ বিধানে নিরপেক্ষ বিচারবোধের উজ্জ্বল আবিরে সজ্জিত হতে পারলে এই ফিফা টিকে থাকুক, তা না হলে থেমে যাক এ পথ, জন্ম নিক এক সম্পূর্ণ সুন্দর, সুশীল ও নিরপেক্ষ এক আগামী বিশ্ব ফুটবল সংস্থার।
পরিশেষে প্রিয় মেসিকে বলবো এই একটি ম্যাচ কখনোই আপনার মত একজন ফুটবল কিংবদন্তির পরিচয় বদলে দিতে পারে না! বদলে দিতে পারে না বিশ্ব ফুটবল আসরের নান্দনিক এক জাদুকরের পায়ের জাদুতে সাজানো এক শিল্পের রঙিন দিগন্তরেখা! অসীম সৃষ্টি ও স্মৃতিময় ফুটবলের বর্ণাঢ্য পথরেখা! এক জীবনে সবকিছু পাওয়া যায় না ভেবে সান্ত্বনা খুঁজবেন মনে। আর মাপ করে দিবেন তাদেরকে যারা আপনার পরাজয়ের এমন কলুষিত পথরেখা সাজিয়েছে ঘৃণ্য পরিকল্পনায়! তারপরও আপনি সবাইকে ছাপিয়ে ফুটবল গগনে এক বিস্ময়কর উজ্জ্বল নক্ষত্র, এই শতাব্দীর অন্যতম সেরা ফুটবলার, কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে।
আজ হয়তো আপনার চোখে কষ্টের জল; হতে পারতো আনন্দের অশ্রু! হয়নি কেন তাই ছিল আজকের আলোচনার উপজীব্য বিষয়! কিন্তু ফুটবলকে আপনি যা দিয়েছেন, এই অঙ্গনে দু’হাতে যে রং ছড়িয়েছেন তা ইতিহাস কখনো ভুলবে না। আপনার দু’পায়ের অকল্পনীয় জাদু, আপনার জয়োদীপ্ত লড়াই, আপনার বিনম্র বিনয়, সতীর্থদের প্রবল মনোবলে সাজিয়ে দেয়ার শক্তি …. এসবই আপনাকে অমর করে রাখবে বিশ্বময় শুধু ফুটবল আসর নয়; মানুষের প্রাণের আসরে! আপনার নাম প্রজন্মের পর প্রজন্মে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুরাগে উচ্চারিত হবে বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের প্রাণে!
শৈলেন কুমার দাশ
কলামিস্ট, কানাডা
