দিনভর আনন্দ-উৎবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো নরসিংদী জেলাবাসীর পিকনিক
কমিউনিটিতে এটি ছিল অন্যতম সেরা একটি গুছালো পিকনিক : সিটি কাউন্সিলর কান্দাভেল
প্রবাসী কণ্ঠ, ১৮ অগাস্ট, ২০২৬ : দিনভর আনন্দ উচ্ছ্বাস আর মজাদার সব খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গত ১৬ অগাস্ট টরন্টোর স্কারবরোতে অবস্থিত কর্নেল ড্যানফোর্থ পার্কের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নরসিংদী জেলা বাসীর বার্ষিক পিকনিক ২০২৬। অত্যন্ত পরিপাটি ও গোছানো এই পিকনিকে বরাবরের মতো এবারও র্যাফেল ড্র-তে ছিল টরন্টো-ঢাকা-টরন্টো বিমান টিকিটসহ আকর্ষণীয় অন্যান্য পুরস্কার। এবার বিমানের টিকেটটি জিতে নেন রিয়েলটর কামরুন সুমী।

সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ আর চমৎকার আবহাওয়ার উষ্ণ পরশ এবং সেই সঙ্গে মজাদার সব খাবার খেয়ে সবাই উপভোগ করেছেন দিনটি। সারাদিনের হৈচৈ, আড্ডা আর হাস্যকৌতুক পিকনিকের পরিবেশকে করে তুলেছিল সত্যিই আনন্দমুখর। শিশুদের দৌড়-ঝাপ আর কলকাকলি পিকনিকে এনেছিল আনন্দের বাড়তি মাত্রা।
পিকনিকের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আবহাওয়ার বার্তা ছিল বেশ হতাশাব্যঞ্জক। দিনভর বৃষ্টি হবে এমনই পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে পিকনিকের দিন একফোটা বৃষ্টিও হয়নি। তাপমাত্রাও ছিল আরামদায়ক।
১৬ তারিখ সকাল থেকেই লোকজন আসতে থাকেন পিকনিক স্থলে। এই সময় সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। নাস্তায় ছিল মজাদার নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী ফুল পিঠা। ছিল চিতল পিঠা, তেল পিঠা। সেই সাথে ছিল শুটকীর ভর্তা, মাংস, চৌমিন, ভেজিটেবল রোলসহ আরো কয়েক পদের খাবার।
বেলা বারটা নাগাদ লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে পিকনিকস্থল। তার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পর্ব। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জমে উঠে খেলাধুলার পর্ব। এই সময় মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে দর্শকরা তাদের উৎসাহ জোগান। খেলাধুলার পর্বটি পরিচালনা করেন নজরুল ইসলাম, মার্জিয়া হক ও বুশরা দীবা।
খেলাধুলার পাশাপাশি চলতে থাকে সঙ্গীত পরিবেশনাও। স্থানীয় শিল্পীরা উপস্থিত অভ্যাগতদের মনোরঞ্জনের জন্য দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন। এই পর্বের দায়িত্বে ছিলেন রিয়েলটর ও সঙ্গীত শিল্পী রাফি আলম। তিনি নিজেও অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন।
দুপুরে পরিবেশন করা হয় মধ্যাহ্ন ভোজ। অতিথিগণ ঐ সময় সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করেন। মজাদার বিভিন্ন পদের খাবার খেয়ে সকলেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন।
দুপুরে পিকনিক স্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন স্কারবরো সাউথওয়েস্ট এর সিটি কাউন্সিলর Parthi Kandavel. তিনি উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাউন্সিলর একাধিকবার বাংলায়ও কথা বলেন যদিও তিনি তামিল ব্যাকগ্রাউন্ডের। পরবর্তীতে এক খুদেবার্তায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এরকম একটি গোছালো পিকনিক উপহার দেওয়ার জন্য। তিনি আরো বলেন কমিউনিটিতে এটি ছিল অন্যতম সেরা একটি গোছালো পিকনিক।
পিকনিকে উপস্থিত আরো অনেক অতিথিই নরসিংদী জেলার এই পরিপাটি ও গোছানো পিকনিক এর প্রশংসা করেন। তারা সুস্বাদু খাবারেরও প্রশংসা করেন।
অপরাহ্ণে আবারও শুরু হয় খেলাধুলার পর্ব। এই পর্বে অংশ নেন বয়স্করা। ফুটবল, পিলোপাস-সহ আরো কয়েক ধরনের খেলার আয়োজন ছিল বয়স্ক নারী-পুরুষদের খেলাধুলার পর্বে। স্বেচ্ছাসেবীরা সচেষ্ট ছিলেন সুচারুরূপে সবকটি খেলা পরিচালনা করার জন্য। অন্যদিকে অংশগ্রহণকারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেতে উঠেন খেলায়।
বিকেলে খেলা শেষে শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন ইভেন্টে যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।
টরন্টোতে বসবাসরত নরসিংদী জেলা বাসীর এবারের পিকনিকে পাঁচজনকে বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হয়। এরা হলেন, শাহজাহান সরকার, খুরশিদ আলম, লুৎফর কবীর কাজল, সিরাজুল ইসলাম মৃধা ও মোহাম্মদ আশরাফুল আলম চৌধুরী (মরনোত্তর)। বিগত প্রায় দুই দশক ধরে টরন্টোতে নরসিংদী জেলাবাসীর পিকনিকে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাঁদেরকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গতবারের মত এবারের পিকনিকেও র্যাফেল ড্র এর বড় আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ বিমানে টরন্টো – ঢাকা- টরন্টো রিটার্ন টিকিট যেটি প্রদান করেন মোর্শেদ নিজাম, সিপিএ। এছাড়াও ৫০ ইঞ্চি স্মার্ট টিভিসহ ছিল আরো আকর্ষণীয়সব পুরস্কার। এবারের পিকনিকে র্যাফেল ড্রতে অন্যান্য যারা পুরস্কার দিয়েছেন তারা হলেন, আমাজন ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট ও শিকড় টিভির কর্ণধার ওয়াজির হোসেন মুরাদ, ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, ব্যারিস্টার জয়ন্ত কুমার সিনহা, ব্রোকার অব রেকর্ড সাব্বির খান (ড্রিম ভ্যালী), রিয়েলটর মিঠু সোম, রিয়েলটর দুলাল ভৌমিক, রিয়েলটর আকমল সরকার, রিয়েলটর আলাউদ্দিন কাজল এবং সি. কে. ফুডস।
এবারের পিকনিকে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর প্রায় সাড়ে তিন শ লোক। যারা পিকনিকে স্পন্সর করেছেন তাদের মধ্যেও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। স্পন্সররা হলেন, তাজমহল গ্রোসারীর কর্ণধার রিয়াজ আহমেদ, আসাবউদ্দিন খান আসাদ (ম্যানেজিং পার্টনার-ওকপার্ক মর্টগেজ গ্রুপ, ব্যারিস্টার ওমর জাহিদ, ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার শামীম আরা, ব্যারিস্টার শাকিব আলম, মর্টগেজ এ্যাডভাইজার আতিক খান (সিআইবিসি), ব্রোকার ও রিয়েলটর আনোয়ার কামাল, রিয়েলটর রাফি আলম, রিয়েলটর কামরুন সুমী ও নিউট্রিশনিস্ট বুশরা ফারা দীবা।
পিকনিকে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ছিল এনআরবি টিভি, প্রবাসী টিভি, শিকড় টিভি ও বিসিই।
খাবারের দায়িত্বে ছিলেন এবারের পিকনিক কমিটির কনভেনর রিয়াজ আহমেদ। নরসিংদীর পিকনিকে প্রতিবারই তিনি মজাদার খাবার সরবরাহ করে সকলের প্রশংসা কুড়ান। পিকনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আসাবউদ্দিন খান (আসাদ)। তার নেতৃত্বে এবারের পিকনিকও অত্যন্ত সফল হয়ে উঠে। তাকে সহযোগিতা করেন নজরুল ইসলাম, আতিক খান, মশিউর রহমান মুরাদ, অহসান উল্লা, কামরুল হাসান, উম্মে হানি, বুশরা দীবা, মারজিয়া হক, নাজমা হক, রোকেয়া পারভীন ও জুবায়ের জয়।
