প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার খোয়ালেন অন্টারিওর এক বৃদ্ধা নারী
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুন ২৭, ২০২৬ : অন্টারিওর এক বৃদ্ধা নারী একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে ৯ লক্ষ ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করার পর বুঝতে পারেন তিনি এই বৃদ্ধ বয়সে এসে কত বড় ভুল করেছেন। তিনি তার এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন মিডিয়াতে। খবর সিটিভি নিউজের।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালে। সেই সময় অন্টারিওর সল্ট সেন্ট মেরির ৮৬ বছর বয়সী জুডি স্কিন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির একটি ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের ডিপফেক ভিডিওর সম্মুখীন হন।

সেই সময়ে জুডি ভিডিও’র লিংকটিতে ক্লিক করে সাইন আপ করেন এবং একটি প্রাথমিক বিনিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ছবি দেখে তিনি মোটেও সন্দেহ করেননি এই ভিডিওর বিষয়ে।
জুডি বলেন, “আমি ফেসবুকে মার্ক কার্নির একটি বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম, যেখানে বলা হয়েছিল যে আমি যদি ৩৫০ কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করি, তবে তার নিশ্চয়তা দেবে ব্যাংক অফ কানাডা।”
প্রাথমিক বিনিয়োগের পর, জুডি এমন একজনের কাছ থেকে একটি ফোন কল পান যিনি দাবি করেন যে তার বিনিয়োগকৃত অর্থের মূল্য ইতিমধ্যেই তিনগুণ বেড়ে গেছে। পরবর্তী কয়েক মাস ধরে, জুডি তার সর্বস্ব বিনিয়োগ করেন, এমনকি নিজের কন্ডোর ওপর বন্ধকও নেন তিনি।
একটি ভুয়া বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে তখন দেখা গিয়েছিল যে তার টাকা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে তার কাছ থেকে ৯০০,০০০ ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
জুডি জানান, “শেষ কিস্তিটা দেওয়ার পর প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং আর কোনো কথা হয়নি তাদের সাথে। ইতিমধ্যে আমি আমার সব টাকা হারিয়েছি।”
বস্তুত অনলাইনে বিনিয়োগ জালিয়াতি অনেক দিন ধরেই চলে আসছে, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে কোন ভিডিওগুলো আসল আর কোনগুলো নকল, তা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ‘ডিপফেক’ ভিডিওগুলো দেখা যায়, সেগুলোতে সাধারণত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মতো সেলিব্রিটি ও রাজনীতিবিদদের সমর্থন বা জড়িত থাকার কথা বলা হয় যাতে করে টার্গেটরা সহজেই শিকার হতে পারেন। জুডির ক্ষেত্রেও সেরকমটাই ঘটেছিল। তিনি মার্ক কার্নির ছবি দেখে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করতে পারেননি।
