টরন্টোতে সানস মেট্রোমনিয়াল এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

প্রবাসী কণ্ঠ : গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টরন্টোতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো ‘সানস মেট্রোমনিয়াল’। এ উপলক্ষে টরন্টোর লবঙ রেস্টুরেন্ট এর পার্টি রূমে  হয়ে গেল এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল এর সম্পাদক ও প্রকাশকগণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। এর পর উপস্থিত সুধীবৃন্দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন সানস মেট্রোমনিয়াল এর কর্ণধার জনাব ওয়াজির হোসেন মুরাদ যিনি টরন্টোর বিশ্বস্ত ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘আমাজন ইমিগ্রেশন এ্যান্ড লিগ্যাল সার্ভিসেস ইন্ক.’ এরও স্বত্বাধিকারী।

জনাব মুরাদ তার বক্তব্যে বলেন, আমরা মূলত কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বিবাহযোগ্য পাত্র-পাত্রীদের নিয়ে কাজ করবো। ঢাকার বনানীতে আমাদের ‘আমাজন ইমিগ্রেশন এ্যান্ড লিগ্যাল সার্ভিসেস ইনক. এর অনেক বড় অফিস আছে। সেখানে ইমিগ্রেশনের পাশাপাশি সানস মেট্রোমনিয়াল এর ম্যাচ মেকিং এর কার্যক্রমও চলবে। আর টরন্টোতেও আমাদের ‘আমাজন ইমিগ্রেশন এ্যান্ড লিগ্যাল সার্ভিসেস ইনক.’ এর বড় অফিস রয়েছে। এখানেও একইভাবে চলবে সানস মেট্রোমনিয়াল এর ম্যাচ মেকিং এর কার্যক্রম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের একাংশ

উল্লেখ্য যে, টরন্টোর একটি নন-প্রফিট ম্যাচ মেকিং প্রতিষ্ঠান ‘টরন্টো মুসলিম ম্যারিজ সোসাইটি’র সাথে জনাব মুরাদ গত প্রায় ১৩ বছর ধরে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। জনাব মুরাদ জানান, দীর্ঘদিনের ঐ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই সানস মেট্রোমনিয়াল এর কার্যক্রম  শুরু করেছেন। তার মতে সিস্টেমেটিক ও প্রফেশনাল ওয়েতে একটি প্রফিট অর্গানাইজেশন হিসাবে এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলে এর মাধ্যমে অধিকতর সেবা প্রদান করা যাবে।

জনাব মুরাদ আরো বলেন, যখন আমরা পাত্র বা পাত্রী খুঁজতে যাই তখন কিন্তু আমরা রাইট ম্যাচআপটা পাই না। প্রবাসে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রায় সবারই পরিচিতির গন্ডি থাকে সীমাবদ্ধ। তাই পাত্র-পাত্রির খোঁজ করাটাও খুব চ্যালেঞ্জিং।

এর বিকল্প হতে পারে অনলাইনের ম্যাচমেকিং সাইট বা স্যোসাল মিডিয়া। কিন্তু সেগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বাসযোগ্য তা যাচাই করার কোন সহজ উপায় নেই। তাছাড়া কোন সমস্যা হলে এদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কোন সুযোগ নেই। কারণ এদের প্রতিষ্ঠানিক কোন রূপ নেই, ঠিকানাও থাকে না তাদের ওয়েবসাইটে। 

তাই আমার কাছে মনে হয়েছে টরন্টোতে আমাদের এমন একটা ম্যাচ মেকিং প্রতিষ্ঠান থাকা জরুরী যার একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ থাকবে, অফিস থাকবে, এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ একটা সিষ্টেম থাকবে এবং থাকবে ওয়েবসাইটও। এবং সর্বোপরি থাকবে বিশ্বাসযোগ্যতা ও জবাবদিহিতা।

জনাব মুরাদ উপস্থিত সুধীজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পাত্র-পাত্রী খোঁজার সময় অথেনটিকেশনের ‍উপর বিশেষ জোর দিবে সানস মেট্রোমনি। কেউ যাতে প্রতারণা করার সুযোগ না পায় এবং কেউ যাতে প্রতারিত না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।

তিনি আরো বলেন, কারোর যদি চরম আর্থিক সমস্যা থাকে তবে তাদের ছেলে বা মেয়ে বিয়ে দেবার ব্যাপারে  আমরা তাকে সাহায্য করবো। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্ব আমরা নিব। প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাও করবো বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য। হয়তো বড় আকারে কোন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে না। তবে মিনিমাম ডিসেন্টভাবে যতটুকু করা যায় তা আমরা করবো। এনকি রেজিস্ট্রেশন ফিও নিব না। কারণ আমরা ম্যাচ মেকিং-কে একটি জনসেবামূলক কাজ বলে মনে করি। আমাদের সানস মেট্রোমনি শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই নয়, আমরা সমাজ সেবাও করবো। 

সানস মেট্রোমনির সার্ভিস সমূহের এর মধ্যে আছে :

  • ম্যাচ মেকিং বা ঘটকালী যার মাধ্যমে পাত্র বা পাত্রীর পছন্দের উপর ভিত্তি করে উপযুক্ত সঙ্গী চিহ্নিত করা যাবে।
  • সার্চ স্কোপ। কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ থেকে পাত্র বা পাত্রী অনুসন্ধানের সুযোগ।
  • বিয়ে সম্পর্কিত পরামর্শ। অর্থাৎ পাত্র বা পাত্রীকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার জন্য পেশাদার পরামর্শ।
  • এবং ইন্ট্রোডাকশন। অর্থাৎ উভয় পক্ষের সম্মতিতে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে নিরাপদ ও সৌজন্যপূর্ণ পরিবেশে পরিচিতি সভা।

অল ইনক্লুসিভ প্যাকেজ মূল্য ধরা হয়েছে ২০০ ডলার। তবে ক্ষেত্র বিশেষ এই ফি কমানো যেতে পারে বা একেবারেই ফ্রিতে সার্ভিস প্রদান করা যেতে পারে যারা আর্থিক সমস্যার কারণে এটি দিতে অপরাগ।

সানস মেট্রোমনিকে কেন বেছে নিবেন? এ বিষয়ে জনাব মুরাদ বলেন,

  • আমাদের রয়েছে যাচাইকরণ পদ্ধতি। আমরা নিশ্চিত করি যে প্রতিটি প্রার্থী খাঁটি, সত্যবাদী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
  • আমাদের ক্লায়েন্টদের জন্য আমরা সার্ভিস প্রক্রিয়াটি সহজ রাখবো।
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পূর্ণ অধিকার থাকবে পাত্র-পাত্রীর। আমরা মনে করি পাত্র-পাত্রীর জীবন তাদের সিদ্ধান্ত দ্বারাই পরিচালিত হওয়া উচিৎ। 
  •  গোপনীয়তা। শুধুমাত্র পাত্র বা পাত্রীই বেছে নিতে পারবেন তার মুখ কোথায় দেখা যাবে। তার পরিচয় একান্তই তার।
  •  পাত্র-পাত্রীর তথ্য আমাদের কাছে নিরাপদ থাকবে শতভাগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনরাও বক্তব্য রাখেন অনেকে। তারা সকলেই ‘আমাজন ইমিগ্রেশন এ্যান্ড লিগ্যাল সার্ভিসেস ইন্ক.এর এই নব উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

উল্লেখ্য যে, কানাডায় বাংলাদেশী অভিবাসীদের মধ্যে পাত্র-পাত্রীর তীব্র সংকট রয়েছে। আর এ কারণে প্রবাসে প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী বাবা-মায়েরা তাঁদের দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের বিয়ে করাতে বা দিতে গিয়ে একটা বড় ধরনের সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। তাঁদের বিয়ের উপযুক্ত ছেলে থাকলে তার জন্য মেয়ে খুঁজে পান না, অথবা মেয়ে থাকলে ছেলে খুঁজে পান না।

ভোগান্তি যেমন বাবা-মায়ের তেমনি ছেলে-মেয়েদেরও। উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী খুঁজে পাওয়াটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার জন্যই। আর এই চ্যালেঞ্জের পিছনে রয়েছে অনেক কারণ। ধর্ম, বর্ণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, এথনিসিটি, ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ও বয়সসহ আরো কিছু বিষয়ে মিল খুঁজে না পাওয়াতে পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া যোগাযোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে সমস্যা। নিজ নিজ মাতৃভূমিতে অভিবাসীদের সকলেরই অনেক আত্মীয় বন্ধু থাকেন। থাকেন পাড়া-প্রতিবেশী যাদের কাছে পাত্র-পাত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু কানাডা ও আমেরিকায় অভিবাসীদের সেই সুযোগ খুবই সীমিত। অন্যদিকে অনলাইনে অনেক মেট্রোমনির সাইট থাকলেও তার সবগুলোর প্রতি অনেকেরই আস্থা নেই। অধিকাংশের নেই আবার ফিজিক্যাল এড্রেস। ফলে সরাসরি যোগাযোগ করা যায় না তাদের সাথে।

সে ক্ষেত্রে কানাডায় মেট্রোমনি বা ঘটক প্রতিষ্ঠান, যাদের রয়েছে নিজস্ব অফিস এড্রেস, তারা গ্রাহকের আস্থা অর্জনে রাখতে পারে বড় ধরণের ভূমিকা।

সানস মেট্রোমনিয়াল’ এর সাথে যোগাযোগের ঠিকানা : SANSS Matrimony Inc. 3209 Danforth Ave, Scarborough, ON M1L 1B8. E-mail : info@sanss.ca Phone: (416) 686-2985. Website address : https://www.sanss.ca/