শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসার একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ’জীবনের ধ্রুবতারা’
অখিল সাহা, টরন্টো॥ আনন্দধারা পারফর্মিং আর্টস এর উদ্যোগে গত ২০শে জুন টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথিতযশা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসার একক রবীন্দ্রসঙ্গীতানুষ্ঠান ”জীবনের ধ্রুবতারা”। শিল্পী লাইসা আহমেদ ছাড়াও স্থানীয় শিশু-কিশোরদের সম্মিলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাথে পরিবেশিত নাচ দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
প্রবাসে বাঙালী সংস্কৃতির প্রসার ও চর্চায় অগ্রণী ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য অনুষ্ঠানে চারজন গুণী প্রবীণ বাঙালী অভিবাসীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

গত ২০শে জুন রবিবার বিকালটি টরন্টোর বাঙালীসমাজের কাছে সবিশেষ হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানটি একক রবীন্দ্রসঙ্গীতের হলেও সেখানে কিছু অলংকার যুক্ত হয়েছিল। সময় মেনে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনোত্তর পর্বে বাঙালির সামাজিক, আনুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিজীবনের সমস্ত পর্বের অবশ্যম্ভাবী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুইপাখি কবিতাটির একটি সঙ্গীতরূপের সাথে নৃত্যরূপ পরিবেশন করেন বীণা দাস ও দীনা এগনেস সাহা। এটির নির্দেশনায় ছিলেন দেশে ও প্রবাসে সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী সীমা বড়ুয়া। তারপর সীমা বড়ুয়া তার সহশিল্পীদের নিয়ে মঞ্চে আরেকটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাথে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর একটি উদ্দীপনামূলক রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাথে নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্চে আসেন গার্গী লাহিড়ী, দেবলীনা বসাক ও অন্বিতা এমিলি সাহা। এই নাচটির নির্দেশনায় ছিলেন ঢাকার গুণী নৃত্যশিল্পী সাব্বির আহমেদ বিজু।
টরন্টোর আনন্দধারা পারফর্মিং আর্টস ইনক কানাডায় প্রবাসের মাটিতে বাঙালি সংস্কৃতির উন্নয়নে ও প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যা অনুষ্ঠিত হলো গত ২০শে জুন রবিবার টরন্টোর বাঙালি বসবাসের প্রাণকেন্দ্র সানরাইজ এভিনিউতে অবস্থিত হাংগেরিয়ান কানাডিয়ান কালচারাল সেন্টারের সুপরিসর হল ঘরে। টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি অতি পরিচিত নাম, আনন্দধারা পারফর্মিং আর্টস ইনক এবং এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার শিপ্রা চৌধুরী।
টরন্টোর বাঙালি অভিবাসীদের মধ্যে প্রবীণ ও বাঙালি সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সবিশেষ অবদান রাখায় চারজনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন টরন্টোতে ট্যাগোর রিসার্চ এন্ড সং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা কলিকাতায় জন্মগ্রহণ করা ভারত, ইংল্যান্ড ও কানাডায় চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সংগীতপ্রেমী শিল্পী বহুগুণে গুণান্বিত শ্রী সঞ্জীব মুখার্জী। আনন্দধারার পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা হস্তান্তর করেন শ্রী অমর চৌধুরী। এরপর প্রবাসে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা অব্যাহত রাখার জন্য বর্ষীয়সী শিল্পী শ্রীমতি রুবি মুখার্জীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আনন্দধারার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় হস্তান্তর করেন শ্রী সুব্রত মুখার্জী। প্রবাসে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত প্রসারে ভূমিকা রাখার জন্য সিলেটে জন্মগ্রহণ করা আরেক শিল্পী শ্রী রনিপ্রেন্টিস রয়কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন শ্রী অসীম সেনগুপ্ত। প্রবাসে সঙ্গীত চর্চা ও প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য প্লেব্যাক শিল্পী ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের উল্লেখযোগ্য নাম শিল্পী আলেয়া শরাফীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আনন্দধারার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন শ্রী অমর রায়। সম্মাননা পর্বশেষে শ্রী সঞ্জীব মুখার্জী মঞ্চে অনুরুদ্ধ হয়ে তাঁর বার্ধক্যের বাঁধা অতিক্রম করে দু’টি রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনান, যে গান দু’টি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের প্রিয় গান ছিল।
এই পর্ব শেষ হলে মঞ্চে আসেন ছায়ানটের সম্পাদক প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতের গুণীশিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা। হলভর্তি মানুষ তাঁর গানের আকর্ষণে এই সুন্দর সন্ধ্যায় সমবেত হয়েছিলেন। তিনি নিরবচ্ছিন্ন এক ঘণ্টারও অধিক সময়, কখনো ধীরলয়ের গানগুলো তবলা ছাড়াই কেবলমাত্র হারমোনিয়াম বা খালি গলায় গেয়ে, কখনো তাল সঙ্গত হয়ে, রবীন্দ্রসঙ্গীতমাধুর্য্যে দর্শক-শ্রোতাদের আবিষ্ট করে রাখেন। অনুষ্ঠানটি সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে সহযোগিতায় অক্লান্ত ছিলেন ধ্রুবপদ মিউজিক এন্ড রিসার্চের কর্ণধার রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ডঃ মমতাজ মমতা। এই অনুষ্ঠানে আগাগোড়া শিল্পীর সাথে তানজির আলম রাজীব ও জাহিদ হোসেন যথাক্রমে তবলা ও কি-বোর্ডে তাদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। শব্দ ও আলোক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ডিজে ইমন।
