‘বেস্ট বিফোর ডেট’বনাম এক্সপায়ারী ডেট

এই দুয়ের সঠিক অর্থ অনুধাবন করতে না পারায় কানাডায় শত শত কোটি ডলারের খাবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, মে ১৭, ২০২৬ : নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা জুড়ে ফুড ব্যাংকগুলো যখন রেকর্ড পরিমাণ চাহিদার সম্মুখীন হচ্ছে, তখন ‘বেস্ট বিফোর’ লেবেল সংক্রান্ত বিভ্রান্তির কারণে শত শত কোটি ডলার মূল্যের পুরোপুরি ভোজ্য খাবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে। খবর গ্লোবাল নিউজের।

টরন্টো-ভিত্তিক খাদ্য উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সেকেন্ড হারভেস্ট’ এর এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, কানাডায় পরিহারযোগ্য খাদ্য অপচয়ের প্রায় ২৩ শতাংশ, যার মূল্য ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, তা তারিখ কোডিং সংক্রান্ত সেকেলে পদ্ধতির কারণে ঘটে থাকে।

‘বেস্ট বিফোর’ ডেট এবং এক্সপায়ারী ডেট এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। ছবি : প্রবাসী কণ্ঠ

সেকেন্ড হারভেস্টের সিইও লরি নিক্কেল বলেন, “খাদ্য অপচয় রোধের কৌশলে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি…। মানুষ পুরোপুরি ভালো খাবারও ফেলে দিচ্ছে, কারণ তারা মনে করে একটি নির্দিষ্ট দিনের পর খাবার অনিরাপদ হয়ে যায়।” 

সংস্থাটি বলছে, ‘বেস্ট বিফোর’ ডেট এবং এক্সপায়ারী ডেট এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণেই মূলত এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

বর্তমান ফেডারেল বিধান অনুযায়ী, ৯০ দিন বা তার কম সেলফ লাইফ (সংরক্ষণকাল) এর খাবার এর প্যাকেটে বেস্ট বিফোর ডেট থাকা বাধ্যতামূলক। এই বিধান হেলথ কানাডা কর্তৃক নির্ধারিত। আর এটি সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব কানাডিয়ান ফুড ইন্সপেকশন এজেন্সির।

যেসব পণ্যের সংরক্ষণকাল দীর্ঘ, সেগুলোতে এই লেবেলগুলো থাকা বাধ্যতামূলক নয়, যদিও অনেক প্রস্তুতকারক স্বেচ্ছায় সেগুলো যুক্ত করে থাকে।

সেকেন্ড হারভেস্ট এর প্রধান নির্বাহী লরি নিক্কেল বলেন, “কানাডায় মাত্র পাঁচ ধরনের খাবারের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।”এর মধ্যে রয়েছে শিশুখাদ্য, মিল রিপ্লেসমেন্ট, প্রোটিন বার এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায় না এমন দুটি খাবার।

সেকেন্ড হারভেস্টের মতে, অনেক কানাডাবাসী ‘বেস্ট বিফোর’ লেবেলকে খাদ্যের গুণমানের পরিবর্তে খাদ্য সুরক্ষার সূচক হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। নিক্কেল বললেন, “মানুষ জানেই না যে ‘বেস্ট বিফোর’ তারিখটি কোনো পণ্যের সর্বোচ্চ সতেজতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

হেলথ কানাডার মতে, “বেস্ট বিফোর” তারিখ বলতে বোঝায় কখন কোনো পণ্য তার সতেজতা, স্বাদ বা পুষ্টিগুণ হারাতে শুরু করতে পারে, অন্যদিকে এক্সপায়ারী ডেট বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নির্দেশ করে যে নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট কিছু খাবার কখন আর খাওয়া উচিত নয়।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, কানাডা অনেক সমকক্ষ দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে, যারা বৃহত্তর খাদ্য অপচয় হ্রাস কৌশলের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই তারিখ-চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, ক্যালিফোর্নিয়া “best if used by” এবং “use by” লেবেলকে প্রমিত বা স্ট্যান্ডারডাইজড করেছে এবং ২০২৬ সালের জুলাই থেকে “expires on” লেবেলের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অন্যান্য উন্নত দেশগুলোও খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্যের গুণমান সম্পর্কিত লেবেলের মধ্যে পার্থক্য করছে।

সেকেন্ড হারভেস্টের অনুমান অনুযায়ী, কানাডায় ‘বেস্ট বিফোর’ জটিলতায় ফেলে দেওয়া খাবারের ৪১ শতাংশেরও বেশি উদ্ধার করা সম্ভব, যা দিয়ে ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষকে এক বছর ধরে দিনে তিন বেলা খাওয়ানো যাবে।

সংস্থাটি চারটি প্রধান পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছে। এর মধ্যে আছে, কিছু খাদ্যদ্রব্য থেকে অপ্রয়োজনীয় “সর্বোত্তম ব্যবহারের তারিখ” লেবেল অপসারণ, লেবেলের স্পষ্টতা বৃদ্ধি, জনশিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং কানাডার জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশলে খাদ্য অপচয় হ্রাসকে অন্তর্ভুক্ত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *