টরন্টোতে কনসুলেট জেনারেল অফ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে বিজয় দিবস পালন

প্রবাসী কণ্ঠ, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ : টরন্টোতে অবস্থিত কনসুলেট জেনারেল অফ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে গত মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের  মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়।

যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়

দিনের শুরুতে টরন্টোর নর্থ ইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ হাউজ প্রাঙ্গণে যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই সময় কনসুলেট অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে টরন্টোতে অবস্থিত কনসুলেট জেনারেল এর কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এক ভবনের মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন টরন্টোতে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা এবং কনসুলেট অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাজানো হয় বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সঙ্গীত। এই সময় সবাই দাঁড়িয়ে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাণী পাঠ করে শুনানো হয়।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বে অংশ নেন টরন্টোর স্থানীয় বাংলাদেশী শিল্পীরা। সাথে ছিলেন কনসুলেট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তাও। কবিতা পাঠ, নৃত্য পরিবেশনা ও দেশাত্ববোধক গান দিয়ে সাজানো হয়েছিল এই পর্বটি। অনবদ্য এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথিগণ।

সাংস্কৃতিক পর্বের পর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। এই পর্বে অংশ নেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রায় ঘন্টাখানেক চলে এই আলোচনা পর্বটি। 

বক্তব্য রাখছেন কনসাল জেনারেল জনাব মোঃ শাহ আলম খোকন

সবশেষে বক্তব্য রাখেন কনসাল জেনারেল জনাব মোঃ শাহ আলম খোকন। তিনি তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আমরা একাত্তর পেয়েছি, মুক্তিযুদ্ধ পেয়েছি যা আমাদের দিয়েছে একটি পাসপোর্ট। কিন্তু আমরা এতদিন যা পাইনি সেটা এবার প্রথম পেয়েছি। সেটা হলো এই বিদেশে বসে ভোট দেওয়ার অধিকার। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের মালিক কে? জনগণ। এবং সেই মালিকানা কি দিয়ে প্রকাশিত হয়? ভোট দিয়ে। আপনি যতদিন ভোট দিতে পারেননি ততদিন আসলে আপনি রাষ্ট্রের মালিক ছিলেন না। আপনি প্রথম মালিক হয়েছেন এইবার যখন আপনি বিদেশ থেকে ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছেন। আপনার মালিকানার এক্সপ্রেশন হলো ভোটাধিকার। আপনারা সবাই ভোট দিবেন। বিদেশ থেকে ভোট দেওয়ার যে প্রক্রিয়া সেটা আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে যাচ্ছি। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি যে রাষ্ট্রের মালিক সেটা আপনি প্রমাণ করবেন।

অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হচ্ছে

জনাব শাহ আলম আরো বলেন, এই চব্বিশের পর আমরা আরেকটি জিনিস পেয়েছি। সেটা হলো, এনআইডি । তিনি বলেন, আমরা একটি জায়গায় ভুল করি। আমরা মনে করি একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হলো তার পাসপোর্ট। না, পাসপোর্ট কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট না। এটি একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট যা মুভমেন্ট এর জন্য প্রয়োজন হয়। মুভমেন্ট এর প্রয়োজন না হলে বাংলাদেশে কেউ পাসপোর্ট নেয় না। সে কারণে রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হলো তার এনআইডি। পাসপোর্ট একটি রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রমাণক নয়। পাসপোর্ট জাতীয়তার প্রমাণক নয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাজানো হয় বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সঙ্গীত। এই সময় সবাই দাঁড়িয়ে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন

জনাব শাহ আলম বলেন, আমাদের এই কনসুলেট অফিসে এনআইডি সেবা চালু হয়েছে। অন্যদিকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগও তৈরী হয়েছে। এটি চব্বিশের আন্দোলনের ফল। আমি চব্বিশ এবং একাত্তর কে আলাদা করে দেখবো না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রের প্রতি সবার আনুগত্য থাকতে হবে। আর যাদের এই আনুগত্য আছে এই মঞ্চ সবসময় তাদের জন্য খোলা।

জনাব শাহ আলম বলেন, সম্প্রতি তথ্যসেবা উন্মোচন করার জন্য আমরা আমাদের মিশনে চালু করেছি ভার্চুয়াল কনসুলার সেবা যেটা বিদেশে বাংলাদেশী মিশনের মধ্যে প্রথম।

আমরা কনসুলার সেবার সময়সীমাও বাড়িয়েছি। আগে ছিল ১০টা থেকে ১টা এবং ২টা থেকে ৪টা। মোট ৫ ঘণ্টা। এখন সেটি করা হয়েছে ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মোট সাত ঘণ্টা।

এছাড়াও আমরা আমাদের কনসুলেট অফিসের ওয়েবসাইটা আরো সহজ করার ব্যবস্থা করছি। ওয়েবসাইটে এনআইডি’র এপ্লিকেশন নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ রয়েছে। যে জন্য আমাদের সময়ও লাগে তা প্রসেস করতে। আমরা এনআইডি’র এপ্লিকেশন প্রক্রিয়া খুব সহজ করে দিচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আপনারা খুব শীঘ্রই এর ফলাফল দেখতে পাবেন।

অনুষ্ঠান সফল করার জন্য জনাব শাহ আলম তার সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ জানান শিল্পীদেরকেও।  

সবশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে সান্ধ্যভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন কনসুলেট অফিসের কনসুলার এবং চ্যান্সেরি প্রধান শ্রী বিদোষ চন্দ্র বর্মণ।