ইতিহাস গড়ে বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হলেন তানভীর শাহনাওয়াজ
প্রবাসী কণ্ঠ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ : বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক নির্বাচনী এলাকা থেকে ফেডারেল উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তানভীর শাহনাওয়াজ। এর মাধ্যমে এই আসনটিতে লিবারেল পার্টি অফ কানাডা’র শক্ত ঘাঁটি বজায় রাখলেন তিনি। উল্লেখ্য যে, বিচেস-ইস্ট ইয়র্কে অনুষ্ঠিত গত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে একটি বাদে বাকি সবকটিতেই লিবারেলরা জয়লাভ করেছে।
‘জীবনের সেরা সম্মান’: শাহনাওয়াজ
গত রাতে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই তানভীর শাহনাওয়াজ সিবিসি নিউজকে বলেন “এই মুহূর্তটা ‘কানাডিয়ান স্বপ্ন সত্যি’ হওয়ার মতো লাগছে।”

বিচ এলাকার কুইন স্ট্রিট ইস্ট-এর ‘দ্য স্টোন লায়ন’ পাবে আয়োজিত বিজয় উৎসবে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে শাহনাওয়াজ বলেন, “বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের পরবর্তী সংসদ সদস্য হিসেবে আমার একমাত্র চেনা রাইডিং এর প্রতিনিধিত্ব করা হবে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান।”
এরপর তিনি শত শত স্বেচ্ছাসেবক এবং সহকর্মী ককাস সদস্যদেরকে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। এই সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন অত্র এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য নাথানিয়েল আর্স্কিন-স্মিথ, পার্শ্ববর্তী আসনের সংসদ সদস্য ডলি বেগম সহ আরো অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি। উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবাও।
উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, কয়েক সপ্তাহ আগে তানভীরকে সমর্থন জানাতে এই নির্বাচনী এলাকাটি পরিদর্শন করেছিলেন।
তানভীর শাহনাওয়াজের এই জয়ের পর টরন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দেখা দেয় আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি বিচেস—ইস্ট ইয়র্ক আসন থেকে লিবারেল পার্টির নাথানিয়েল আর্স্কিন-স্মিথ পদত্যাগ করার পর আসনটি খালি হয়ে যায়। এরপর এই আসন থেকে নমিনেশন পান তানভীর শাহনাওয়াজ। তানভীর প্রায় এক দশক ধরে বিদায়ী এমপির কমিউনিটি অফিসে প্রথমে সহকারী এবং পরে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
গতকাল নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর আরস্কিন-স্মিথ বললেন “যাকে আপনি পুরোপুরি বিশ্বাস করেন, তার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াটা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।”

আরস্কিন-স্মিথ আরো বলেন, ”তানভীর একজন তরুণ, যিনি বিচেস-ইস্ট ইয়র্কে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠেছেন এবং সর্বদা তাঁর সম্প্রদায়ের সেবা করে এসেছেন।”
লিবারেল পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, তানভীর শাহনাওয়াজ বিচেস—ইস্ট ইয়র্কের জনগণের সেবায় এক প্রমাণিত পরিশ্রমী স্থানীয় নেতা। তিনি বিচেস—ইস্ট ইয়র্ক এবং সকল কানাডাবাসীর জন্য একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করতে প্রস্তুত।
গতকাল টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এলাকায় সকাল ৯:৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং রাত ৯:৩০ মিনিটে তা শেষ হয়। প্রধান তিন দলের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় লিবারেল পার্টির প্রার্থী তানভীর শাহনাওয়াজ ভোট পান ১৮,৩৬১ টি (৫৫.৭%), এনডিপি’র প্রার্থী শ্যানন ডিভাইন ভোট পান ৮,৫১২টি (২৫.৮%) এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দল কনজার্ভেটিভ পার্টির প্রার্থী জিম সিরবোস ভোট পান ৫১১৬টি (১৫.৫%)।
উল্লেখ্য যে, টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এলাকায় প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ও ইমিগ্রেন্ট বাস করেন। টরন্টোর ‘বাংলা টাউন’ও অত্র এলাকায় অবস্থিত। তানভীর শাহনাওয়াজ এই এলাকারই বাসিন্দা। ৩০ বছর বয়সী তানভীরের মা-বাবাও টরন্টোতে থাকেন। তার মা-বাবা বাংলাদেশ থেকে কানাডায় আসার অল্প কিছুদিন পরেই তার জন্ম হয়।
স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত এপ্রিল মাসে বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনের পাশ্ববর্ত আসন স্কারবরো সাউথওয়েস্ট থেকে লিবারেল পার্টির হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন ডলি বেগম। সেদিন প্রবাসী বাঙ্গালিদের জন্য সৃষ্টি করেন নতুন এক ইতিহাস। তাঁর ঐ ঐতিহাসিক জয়ে সেদিন আনন্দে ভেসেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
সেই সময় স্কারবরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং- এর সাবেক এমপি ও মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার যুক্তরাজ্যে কানাডার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করাতে ঐ আসনটি খালি হয়ে গিয়েছিল। এর পরপরই ডলি বেগম ঐ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন।
ইতিপূর্বে ডলি বেগম স্কারবরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং থেকে প্রভিন্সিয়াল এনডিপি’র হয়ে পরপর তিনবার এমপিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি দলটির ডেপুটি লিডারও ছিলেন। স্কারবরো সাউথওয়েস্টে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর এই এলাকায়ও প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী বাস করেন।
তানভীরের জয়ের মধ্য দিয়ে এবার কানাডার পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ালো দুইয়ে। পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার এই ইতিহাস প্রথম গড়েছিলেন ডলি বেগম। তার কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ইতিহাস গড়লেন তানভীর শাহনাওয়াজ।
