অন্টারিও এক-তৃতীয়াংশের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হারাবে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, মে ১৭, ২০২৬ : ফেডারেল সরকার কর্তৃক স্টাডি পারমিটের সংখ্যা সীমিত করার প্রচেষ্টার কারণে গত দুই বছরে অন্টারিওর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ৯০,০০০-এরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হারিয়েছে, এমনটাই জানাচ্ছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার একটি নতুন প্রতিবেদন। খবর সিটিভি নিউজের।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ক্রমাগত বৃদ্ধির পর ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে অন্টারিওতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, কিন্তু এখন তা ২০২১-২০২২ সালের স্তরের নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানিয়েছে যে, তাদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অন্টারিওতে ৯২,০০০ কম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থাকবে, যা ৩৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।

দেশের অস্থায়ী জনসংখ্যার বৃদ্ধি রোধ করার প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য যে, কানাডার মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩৯ শতাংশ অন্টারিওতে বাস করলেও, দেশটির মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ৫৪ শতাংশই এখানে রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় , সারা কানাডা জুড়েই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে; গত দুই বছরে আটলান্টিক কানাডায় ২৬ শতাংশ, কুইবেকে ১৪ শতাংশ, প্রেইরি প্রদেশগুলোতে ১৭ শতাংশ এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে সারা কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে নতুন ফেডারেল নীতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। কানাডার অডিটর জেনারেলের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, অভিবাসন বিভাগ ২০২৪ সালে প্রত্যাশিত সংখ্যার অর্ধেকেরও কম স্টাডি পারমিট অনুমোদন করেছে।
গত মার্চ মাসে সিটিভি নিউজকে অ্যালগনকুইন কলেজের এক শিক্ষার্থী রবিন গিফোর্ড বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো টাকার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শোষণ করার একটি উপায় খুঁজে বের করেছে এবং তারা এর সুযোগ নিয়েছে। আর যদি আপনার প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শোষণ না করে লাভজনকভাবে চলতে না পারে, তবে সেটা আমাদের দোষ নয়। সেটা আপনাদেরই দোষ।”
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাওয়ায় অন্টারিওর বেশ কয়েকটি কলেজ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
জর্জ ব্রাউন পলিটেকনিক এপ্রিল মাসে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে এক ঘোষণায় তারা ৫১টি পদ ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়েছিল, যেখানে মূলত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নীতিমালায় পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
হাম্বার পলিটেকনিক গত ফেব্রুয়ারি মাসে সকল কর্মীদের জন্য “স্বেচ্ছামূলক প্রস্থান প্যাকেজ” প্রদান করেছিল।
