ভূপাতিত ফোর্ডের বিলাসী অভিলাষ

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ : একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচনা ড্যাগ ফোর্ডের পিছন ছাড়ছেই না । আর এরই ধারাবাহিকতায় এবার জড়ালেন আরেক বিতর্কে। সাম্প্রতিক যুদ্ধপরিস্থিতি ও ট্রাম্প-ট্যারিফসহ অন্যান্য কারণে যখন অন্টারিওর সাধারণ জনগণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, তাদের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জ্বালানির খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ঠিক তখনেই ড্যাগ ফোর্ডের মাথা ঢুকেছিল বিলাসী এক চিন্তা। জনেগণের ট্যাক্সের টাকায় তিনি নিজের ব্যবহারের জন্য কিনেছিলেন বিলাসবহুল এক প্রাইভেট জেট। দাম প্রায় তিরিশ মিলিয়ন ডলার। এই জেটে চড়ে তিনি অন্টারিওসহ কানাডা ও আমেরিকা ঘুরে বেড়াবেন সরকারি কাজে এমনই ছিল তার বিলাসী চিন্তা। বিমান কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুসারে, ফোর্ডের নতুন জেটটিতে ১২ জন যাত্রী পর্যন্ত বসার ব্যবস্থা রয়েছে এবং একটি “প্রশস্ত অভ্যন্তর” রয়েছে।

চ্যালেঞ্জার ৬৫০-এর ভেতরের দৃশ্য। ইনসেটে ফোর্ড । (জেট এর ছবি : বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার।)

সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, বিমানটি শুধুমাত্র “সরকারি কাজকর্ম” পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হবে। খবর সিটিভি নিউজের।

কিন্তু এই খবর প্রকাশের পর  ব্যাপক সমালোচনা শুরু। সিপি২৪ ব্রেকফাস্ট-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে অন্টারিও এনডিপি নেতা ম্যারিট স্টাইলস বলেছিলেন,  “অন্টারিওর বাসিন্দারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন… আর এই প্রদেশের প্রিমিয়ার মনে করছেন একটি ব্যক্তিগত জেট কেনার জন্য এটাই সেরা সময়। আমি মনে করি এটা খুবই বাজে একটা সময়।”

স্টাইলস আরও বলেছিলেন যে, “এর চেয়ে সস্তা বিকল্প এখনও রয়েছে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় ড্যাগ ফোর্ডের উচিত বিদ্যমান সরকারি মালিকানাধীন বিমানগুলো ব্যবহার করা, যেগুলো তিনি ব্যবহার করে আসছেন।”

এদিকে অন্টারিও লিবারেল পার্টির অন্তর্বর্তীকালীন নেতা জন ফ্রেজার নিউজটক ১০১০-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিমান ক্রয়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আরও কিছুটা বেশি স্পষ্টভাষী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “মানুষের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জ্বালানির খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, আর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড নিজের সরকারি কাজের জন্য একটি জেট বিমান কিনছেন।”

ফ্রেজার আরও প্রশ্ন তুলেছেন যে, “একটি বিশেষায়িত বিমানের আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা ড্যাগ ফোর্ডের জন্য?” তার মতে, “প্রিমিয়ারের জেটের দরকার নেই। সত্যি বলতে কি, ১৮৬৭ সালে কনফেডারেশনের পর থেকে অন্টারিওর প্রত্যেক প্রিমিয়ারেরই আলাদা জেটের দরকার পড়েনি। তিনি পরামর্শ দেন যে, সরকারি কাজে ভ্রমণ করার জন্য চার্টার করা বিমান আরও বাস্তবসম্মত হবে। আসলে এটা আরও বেশি কার্যকর। এটা আরও বেশি সাশ্রয়ী।

ফ্রেজার আরও বলেছিলেন,“ জীবনযাত্রার ব্যয় ‍বৃদ্ধির কারণে অন্টারিওতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকটের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু প্রিমিয়ার তা দেখতে পাচ্ছেন না। জনগণের এই দুর্ভোগ তিনি একটি ব্যক্তিগত জেটে বসে ৪০,০০০ ফুট উপর থেকে পরিষ্কারভাবে দেখতে পাবেন না।”

ড্যাগ ফোর্ড কারও সমালোচনার ধার ধারেন না। কিন্তু এবার তিনি পিছু হটলেন বিভিন্ন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে। বাদ দিলেন তার বিলাসী চিন্তাকে। বিক্রি করে দিলেন সম্প্রতি ক্রয় করা বিলাসবহুল প্রাইভেট জেটটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *