কাহিনী বিচিত্রা

৭৭ বছরের বিধবা এক বৃদ্ধার দুঃখ-যাতনা

Hospital-এর A-200 Information Desk. সকাল সাড়ে ৮টা। এলিভেটর থেকে বেরিয়ে দুর্বল হাতে তার wheelchair-এর চাকা ঘোরাতে ঘোরাতে এক সাদা বৃদ্ধা আমার ডেস্কের সামনে এসে থামলেন। হাঁপাচ্ছেন। বললেন : এখানে একটু বিশ্রাম নিই?
বললাম : নো প্রোব্লে­ম।
একটু পর তার হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে নিজেনিজেই বললেন : এখনো সময় আছে, পরে গেলেও চলবে। তারপর আমাকে বললেন : তোমার সংগে একটু গল্প করি?
বললাম : কি ধরনের গল্প?
আমার প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়েই শুরু করলেন : আমার দুঃখের কাহিনী তোমাকে শুনিয়েই বা কি লাভ? তুমি তো বাইরের লোক। আমার নিজের সন্তানই তো আমাকে অবহেলা করে যাচ্ছে। আমার বয়স এখন ৭৭ বছর, হাজব্যান্ড মারা গেছে বহু বছর আগেই। নিজের বাড়িতেই বাস করি, তাই রক্ষা। দুই মেয়ে আমার। বড়টা বিয়ে করে আলাদা থাকে, কোনদিন আমার কোন খোঁজখবর নেয় না। ছোটটা বিয়েশাদী করেনি, আমার সংগেই থাকে তবে নিতান্ত বাধ্য না হলে সে আমার কোন সাহায্য করে না। এই দেখ না, আমি দুর্বল, প্রায় অচল, হুইলচেয়ারটা পেছন থেকে কেউ ঠেললে আমার চলাফেরা সহজ হয়, আমার কষ্টটা কমে। মেয়েটা সবই জানে, তথাপি সে আমাকে তোমাদের Hospital -এর Main Entrance-এ ওর গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজের কাজে চলে গেল। এই দোতলায় তোমার কাছে পৌঁছতে বহু পরিশ্রম করতে হয়েছে।
তারপর অসহায় দৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন : আমার হুইলচেয়ারটা ঠেলে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া, নার্সের কাছে যাওয়া, কাজের শেষে আমাকে তোমাদের Main Entrance পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া, এই কাজগুলো করে দেবে? প্লীজ!
যদিও আমার সময়ের বড় অভাব তথাপি “না” বলতে পারলাম না। মনটা সহানুভূতিতে, ব্যথায় ভরে উঠলো।
বললাম : হ্যাঁ, করে দেবো। তুমি দুশ্চিন্তা করো না। চোখের পানি মুছতে মুছতে বৃদ্ধা বললেন : God bless you.
ঘটনাটি ২০১৫ সালের। আমার নিজের কথা ভেবে তখন আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই যে আমি নিজের পায়ের উপর নির্ভর করেই চলাফেরা করতে পারি, কারো বা কোনকিছুর সাহায্য নিতে হয় না। তখন আমার বয়স ছিল ৮২ বছর। আলহামদুলিল্লা-হ।

TIMMY!

Humber River Hospital,
1235 Wilson Ave, Toronto.
২০১৫ সালের ঘটনা। এই হসপিটালে ভলানটিয়ার হিসাবে কাজ করে আসছিলাম ১১ বছর ধরে। তবে উপরের ঠিকানায় নয়, অন্য ঠিকানায় (200 Church Street, Weston, Toronto) হসপিটালের আরো দু’টি Site (2110 Finch Avenue West and 2175 Keele Street). এখন সেটার পরিবর্তন ঘটেছে। Keele site close করে দেখা হয়েছে, Finch West site এর activities বহুল পরিমাণে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সব কাজ এখন এই Wilson site-এ করা হচ্ছে।
সুবিশাল এই নূতন হসপিটাল- ১৫ তলা (1.8 million square feet) North America-র এক এবং একমাত্র fully digital hospital হচ্ছে এটা। এখানে প্রায় সব কাজই digitally computer এ করা হয়। ২০১৫ সনের ১৮ই অকটোবর থেকে এই ংরঃব টা চালু হয়েছে। আমি কাজ করি Fracture and Plastic Surgery Clinic-এ। বড়ই ব্যস্ত Clinic । আমি সেখানে মোর্নিং শিফটে ভলানটিয়ারিং করি ১২টা পর্যন্ত। এই শিফটে পেশেন্টের সংখ্যা ১০০ থেকে ১৭০ পর্যন্ত উঠানামা করে।
হসপিটালের স্টাফ, ভলানটিয়ার্স, এবং পেশেন্ট ও ভিজিটরদের সুবিধার জন্য বিরাট-বিশাল Food Court আছে Basement Level-এ (আমরা বলি Zero Level) সেখানে Tim Hortons সহ আরো অনেক food and drink serve করার Caterer রয়েছে। যা সচরাচর শহরের অন্যান্য coffee shop and restaurant-এ পাওয়া যায় তার প্রায় সবই Food Court-এ গেলে পাওয়া যাবে।
Tim Hortons-এর Coffee’র জনপ্রিয়তার কারণে ওদের দু’টি শপ- একটা Zero Level-এ, অপরটা Main Level-এ। পেশেন্ট এবং ভিজিটর্স প্রতিদিনই জানতে চায় Tim Hortons-এর কফিশপটা কোথায়।

সে সময়ের এক ঘটনা।
এক মহিলা আমার ডেস্কে এসে প্রশ্ন করলেন : Where can I find the Timmy, sir? বুঝতে না পেরে জানতে চাইলাম : Who is or What is Timmy, ma’m?
হাসতে হাসতে তিনি বললেন : No, no, Timmy is not a person, sir. Timmy is short for the Tim Hortons Coffee Shop!
নূতন জ্ঞান লাভ করলাম। তারপর সেখানে যাওয়ার পথটা বাৎলে দিলাম।
মহিলা বললেন : Thank you, sir!
কত নূতনত্বই না চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে, তার ক’টাইবা আমি জানি!

Appreciation for Volunteering


(এক)
২০১৫ সালের ঘটনা। সেদিন হসপিটালে ভলানটিয়ারিং করছিলাম। আমার ডেসকের পেছনে বহু পেশেন্ট সার্জনদের ডাকের অপেক্ষায় বসেছিল। ১২টায় আমার শিফ্ট শেষ হলে চেয়ার ছেড়ে আমার সামনে বসা registration secretary-দের একজনের সামনে দাঁড়িয়ে Happy Holidays, see you in the New Year ইত্যাদি বলে বিদায় নিচ্ছি এমনি সময়ে পেছন থেকে একজন পেশেন্ট উঠে এসে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে উদ্দেশ করে বললেন : I am very pleased and impressed to see your performance as a Volunteer. We need more Volunteers like you. And I am very happy. Moreover this is the season to be happy, and I want to share my happiness with you. I’ll appreciate if you please accept this small token of appreciation from me (এই বলে তার purse থেকে ২০ dollar- এর একটা নোট বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরলেন।) সেটা নিতে ইতস্ততঃ করছি দেখে সেই registration secretary বললো : No harm, accept it, this is an expression of sincere appreciation of your work as a Volunteer. তার সংগে সুর মিলিয়ে সেই পেশেন্টও যোগ করলেন : Yes, true, it’s a happiness to share my happiness with you.
কি আর করি, অগত্যা ২০টা ডলার তার হাত থেকে গ্রহণ করলাম এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটা hug দিয়ে বললাম : Thank you, sir, and Merry Christmas!
তারপর ক্লিনিক থেকে বের হয়ে আমাদের Volunteer Services Office-এ গেলাম computer-এ sign-off করতে।
সামনেই পেলাম আমাদের Supervisor Specialist Christine Fisher-কে। আমরা আজ প্রায় ১২ বছর ধরে একে অন্যকে চিনি, সে-ও আমাকে খুব পছন্দ করে, আমার কাজের প্রশংসা করে। ঘটনাটা Christine-কে বর্ণনা করলাম। শুনে সে-ও খুব খুশী, বললো : Sayed, you deserve this appreciation. I am so happy. Congratulations!
বললাম : Thank you. But please tell me what should I do with this money?
ক্রিষ্টিন বললো যে এই ডলারগুলো তো তোমার, তোমার যেমন ইচ্ছা তেমন করে খরচ করতে পারো। অথবা তুমি চাইলে ডলারগুলো আমাদের Volunteers Association Fund-এ donate করে দিতে পারো।
শুনে বললাম : হ্যাঁ, বরং সেটাই উত্তম। Thanks for your suggestion. অফিস থেকে বের হয়ে নীচে নেমে Volunteers Association-এর Donation Box-এ সেই ২০টা ডলার ফেলে দিয়ে হাল্কা মনে বাড়ি ফিরে এলাম।

(দুই)
Volunteer appreciation আমি ঘনঘনই পেয়ে থাকি Fracture Clinic-এ কাজ করার সময়ে। আরেক দিনের অভিজ্ঞতা।
বেলা ১১টার দিকে কাজ সেরে ক্লিনিক ত্যাগ করার সময় এক মহিলা পেশেন্ট আমার হাতে কাগজে মোড়া ছোট্ট একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে Bye বলে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। তার নামটা জানারও সুযোগ দিল না। প্যাকেটটা খুলে দেখলাম ছোট্ট একটা কাগজে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা রয়েছে-
Thank you! Keep making the world brighter. তার নীচে আঁকা রয়েছে

যার অর্থ হতে পারে : The Sun, The Heart, The World.
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। Note-টা দিয়ে প্যাঁচানো রয়েছে ৬টি McDonald’s Free Coffee Coupons!
সব দেখে আমি অভিভূত।
ধন্যবাদ হে রহস্যময়ী, হৃদয়বতী নারী! তোমাকে ধন্যবাদ এই মূল্যবান পুরস্কারের জন্য। তোমার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল হোক।
ক্লিনিকে কর্মরত ছ’জন সেক্রেটারিকেই দেখালাম Note-টা ও Coffee Coupon-গুলো। সবাই একবাক্যে বলে উঠলো : WOW! Look at that! You are a sincere Volunteer. You deserve it. We are so happy for you, Sayed.
কাজের শেষে Volunteer Services Office-এ গিয়ে ওখানে Manager এবং অন্যান্য Specialist-দের ঘটনাটা বললাম ও সব কিছু দেখালাম। ওরাও খুব খুশী আমার appreciation দেখে। বলল : We are proud of you, Sayed. You deserve it. Thank you for sharing your happiness with us. মনটা আজ আমার আনন্দে ভরপুর। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। আলহামদুলিল্লা-হ!


(তিন)
আমার left knee replacement surgery করানোর পর থেকে আমি ঘরের বাইরে গেলে হাতে একটা লাঠি (এদেশীয় ভাষায় পধহব) নিয়ে বের হই। হসপিটালে কাজে গেলেও নিয়ে যাই। আমার ডেস্কের পাশে দেয়ালে এক কোণে দাঁড় করিয়ে রাখি। এমনি চলছিল। কিন্তু একদিন সেই লাঠিটা চুরি হয়ে গেল আমার পাশ থেকেই। অবাক কান্ড! ২০১৫ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের ঘটনা। তার বছর তিনেক আগে আমার left knee replacement surgery টা হয়েছিল।
ক্লিনিকের স্টাফদের বললাম ঘটনাটা। ওরা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল, দুঃখিতও হল। ওদের সুপারভাইজার মহিলা খবর পেয়ে দৌঁড়ে এলেন, বিষ্ময় প্রকাশ করলেন মানুষের heartlessness and criminal mentality দেখে। সহানুভূতি জানালেন।
শিফট শেষ হলো। এবার ঘরে ফেরার পালা, এবং ভাবনা যে অন্ততঃ ৩০টি ডলার খরচ হয়ে যাবে নূতন একটা লাঠি কিনতে। ওটা ছাড়া তো আমার চলে না।
এমনি সময়ে Clinic Supervisor মহিলা এসে আবার দুঃখ প্রকাশ করলেন লাঠি চুরি যাওয়ার জন্য এবং বললেন : আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে হসপিটালের পক্ষ থেকে তোমাকে একটা নূতন লাঠি কিনে দেয়া হবে। You deserve it. Please don’t buy another cane. বললাম : Thank you. পরের সপ্তাহেই ওরা আমার হাতে সুন্দর নূতন একটা লাঠি তুলে দিল। বলল : We are happy to do this. We appreciate what you are doing for us. Thank you.

আবদুল হালিম সালুম

আমাদের বিল্ডিংয়ে রাতে সিকিউরিটি গার্ড থাকে, একেক রাতে একেক জন। গতরাতে বাইরে থেকে ফিরে লবীতে দেখা হলো নূতন এক সিকিউরিটি গার্ডের সংগে। তার ইউনিফরমে name tag-এ দেখলাম লেখা রয়েছে Abdul Halim Saloom. প্রশ্ন করে জানলাম যে সে একজন জানজিবারী অর্থাৎ আফ্রিকার Zanzibar Island-এর অধিবাসী, বর্তমানে ক্যানাডিয়ান সিটিজেন। [Zanzibar আসলে Tanzania-র অধীনে একটা island-এর নাম, ওটার পাশে আরো একটা island আছে যার নাম Pemba] ওদের অফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ হচ্ছে সোয়াহিলি (Swahili)। ১৯৬৩তে স্বাধীনতা লাভের পূর্বে দেশটা বৃটিশদের অধীনে ছিল বলে ইংলিশ খুবই প্রচলিত ভাষা সেদেশে। সবাই জানে, বলে।
সালুম জানালো যে সে একজন মুসলিম (আরবী কুরআন পড়তে জানে), তবে সে তেমন শিক্ষিত নয় বলে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। তার এই সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিটা পাওয়ার পেছনের ইতিহাসটা এরকম-
ক্যানাডায় এসে আমি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়লাম- আত্মীয়-বন্ধু বা পরিচিত কেউ নেই, হাতে জমানো ডলারও নেই। হতাশ। তবু চেষ্টা করতে লাগলাম। এখানে-ওখানে কাজের খোঁজে হাজির হচ্ছি, দরখাস্ত পাঠাচ্ছি কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আমার ডিসকোয়ালিফিকেশনস সম্পর্কেও আমি সজাগ- আমি একজন ব্ল্যাক গাই, সবচেয়ে বড় বাধা। আমার ক্যানাডিয়ান এডুকেশন অথবা ওয়ার্ক এক্সপিরিয়েন্স নেই। নেই কোন রেফারেন্স। তদুপরি আমি একজন মুসলিম। বোঝলাম সবই। কিন্তু বাঁচতে হলে নিয়মিত কিছু ইনকাম তো চাই।
এই হতাশ-নিরাশ দিনগুলোর মাঝে ঘটনাক্রমে পরিচয় হলো এক ব্ল্যাক জ্যামাইকান মেয়ের সংগে। সে আমাকে তার বয়ফ্রেন্ড হিসাবে গ্রহণ করলো, আমরা দু’জন Common Law couple হিসাবে নিজেদের declare করলাম সরকারের কাছে। সে আমার একটা কাজের জন্য তার পরিচিত-অপরিচিত মহলে নানাজনের সংগে আলোচনা-চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলো। ইতিমধ্যে আমিও ক্যানাডিয়ান ইংলিশ, কালচার ইত্যাদিতে অভ্যস্থ হতে সাধ্যমত চেষ্টা করতে লাগলাম। এমনি করে করে একদিন আমার ভাগ্য খুলে গেল। আমার গার্লফ্রেন্ডের চেষ্টায় আমি এই সিকিউরিটি জবটা পেয়ে গেলাম। আমি ওর কাছে গভীরভাবে ঋণী- I am grateful to her, grateful to Allah. আলহামদুলিল্লাহ। (সালুমের ভাষায় ’আল্হাম্লা)।
ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে আমি সালুমকে খুব সহজ ইংরেজীতে লেখা কিছু বুক্লেট-প্যামফ্লেট দিলাম। বললাম : পড় এগুলো, অনেক কিছুই জানতে পারবে তোমার ধর্ম সম্পর্কে। যদি প্রয়োজন বোধ কর তাহলে আমাকে ফোন করতে পার, এই নাও আমার বিজ্নেস কার্ড।
ওগুলো হাতে নিয়ে তার মাথা নুইয়ে আমার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সালুম প্রায় কাঁদোকাঁদো স্বরে বললো : শোকরান, শোকরান। আল্লাহ ব্লে­স ইউ। ইউ আর মাই রিয়েল মুসলিম ব্রাদার! আসসালামু আলাইকুম।

নাতি-নাতনির মুখ দেখতে চাই

পরিচিত কিছু পরিবারের মনোবেদনার কিছু চিত্র। মা-বাবা নাতি-নাতনির মুখ দেখতে চান কিন্তু তাদের সাধ পূর্ণ হচ্ছে না।

১) পরিবার ‘ক’
ছেলের বয়স ৩৫ বছর, মেয়ের বয়স ৩১। ওরা দু’জনেই ইউনিভার্সিটি থেকে লেখাপড়া শেষ করেছে, ভাল চাকরি-বাকরি করে, আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল। কিন্তু মাবাবার বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও ওরা বিয়ে করতে রাজী নয়। নাতি-নাতনির মুখ দেখতে পারছেন না, তাই মাবাবার মনে বড় কষ্ট।

২) পরিবার ‘খ’
ছেলের বয়স ৩৬ বছর, উচ্চ শিক্ষিত CGA/CA/CPA designation নিয়ে উচুঁ পদে চাকরি করছে, নিজে বাড়ি কিনে সেখানেই থাকে। অন্য কোন ভাইবোন নেই। মা-বাবার বাড়িতে নিয়মিত যাওয়া-আসা আছে, সম্পর্ক মধুর। কিন্তু বিয়ে করে মা-বাবার ইচ্ছাটা পূর্ণ করতে মোটেই রাজী হচ্ছে না। মা-বাবা খুব কষ্টে আছেন।

৩) পরিবার ‘গ’
মেয়ের বয়স ২৮। ইউনিভার্সিটির লেখাপড়া শেষ, রিসার্চ করছে, ভালো চাকরিও করছে কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে গা করছে না মোটেই। মাবাবার অশান্তিতে দিন কাটছে।

৪) পরিবার ‘ঘ’
বড় মেয়ের বয়স ২৮ বছর, মেজো মেয়ের বয়স ২৫। ইউনিভার্সিটির লেখাপড়া শেষ, দু’জনেই চাকরি করছে। বাবা-মার সংগেই থাকছে। বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা করে কোন সদুত্তর পাচ্ছেন না মাবাবা। তাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন। মনে অশান্তি।

৫) পরিবার ‘ঙ’
একমাত্র ছেলে। ইউনিভার্সিটির পড়াশুনা শেষ। বেশ মোটা বেতনে চাকরি করে। বিয়ে করাতে অনিচ্ছা নেই। কিন্তু নিজে মেয়ে খুঁজতে রাজী নয়, মাবাবা খুঁজে দিলে, পছন্দ হলে বিয়ে করতে আপত্তি নেই। ছেলের কোন গার্লফ্রেন্ড বা পরিচিত মেয়ে নেই। মাবাবা মেয়ে খুঁজে হয়রান, কিন্তু পছন্দসই মেয়ে খুঁজে পাচ্ছেন না। এদিকে ছেলের বয়স ক্রমে বেড়েই চলেছে, মাথায় টাক পড়তে শুরু করেছে। আর এক অশান্তি। ছেলে নির্বিকার।

মৌ ও মাছির গল্প

আজ থেকে ৩৫ বছর আগের কথা, ১৯৮৫-৮৬ সন। তখন আমরা ঢাকায় থাকি।
দূর সম্পর্কের এক নাতনি আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো, আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে নানাভাই ও নানী বলে সম্বোধন করতো। অতি মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে।
তখন সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এম.বি.বি.এস. পড়তো, ডাক্তার হবে। ওর নাম ছিল মৌ। মাঝে মাঝে ওকে হাস্যচ্ছলে জিজ্ঞাসা করতাম : মৌ, তোর ‘মাছি’ কোথায় রে?
হেসে জবাব দিতো ঃ ‘মাছি’ এখনো মৌয়ের সন্ধান পায়নি। একাই আছি। সময় হলে জানাবো।
একদিন শোনলাম মৌ বিয়ে করেছে। তার পরপরই একদিন বিকালে এক সুদর্শন যুবককে সংগে নিয়ে আমাদের বাসায় এসে উপস্থিত। যুবকটিকে আমার সামনে দাঁড় করিয়ে মৌ বললো : নানাভাই, তুমি আমার ‘মাছি’র খবর জানতে চেয়েছিলে। এই সেই ‘মাছি’, আমি ওকে বিয়ে করেছি। দেখতো আমার মাছিকে তোমাদের পছন্দ হয় কি না।
যুবকটিও নানাভাই ও নানী বলেই সম্বোধন করলো, ওকে আমি বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করলাম। বললাম :মৌ ও মাছি সুখী হোক!
গত ৩০ বছর ধরে আমরা বাংলাদেশের বাইরে। মৌ ও মাছির খবর নিতে গিয়ে জানলাম যে ওরা বর্তমানে আমেরিকাতে বসবাস করে, ওরা সুখেই আছে। আল্ল­াহ ওদের মংগল করুন।
সাইদুল হোসেন, মিসিসাগা