কানাডিয়ানরা প্রতিদিনের প্রতারণার শিকার হতে হতে ‘বিরক্ত’ হয়ে পড়েছেন
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ : গত মার্চ মাস ছিল প্রতারণা প্রতিরোধ মাস। এই সময়ে কানাডিয়ানদের প্রতারণার শিকার হওয়া এড়াতে অতিরিক্ত সতর্ক ও সজাগ থাকার জন্য উৎসাহিত করা হয়।

গত মাসে প্রকাশিত সিটিভি নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রতারণামূলক টেক্সট এবং ইমেইল আগে সহজেই শনাক্ত করা যেত। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র (এআই) আবির্ভাবের ফলে কিছু প্রতারণামূলক টেক্সট এবং ইমেল এখন আসল বলেই মনে হতে পারে।
কিছু কানাডাবাসী বলছেন যে, প্রতিদিন প্রতারণার শিকার হতে হতে তারা “বিরক্ত” হয়ে পড়ছেন এবং “প্রতারণাজনিত ক্লান্তিতে” ভুগছেন। কিন্তু তারপরেও তারা চিন্তিত যে, ভুলবশত হয়তো তারা কোনো অনিরাপদ কিছুতে ক্লিক করে ফেলতে পারেন।
রয়েল ব্যাংক অফ কানাডা পরিচালিত নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ কানাডাবাসী বলেন যে, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন কোনো প্রতারণার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়। অন্যদিকে ৮৩ শতাংশ বলেছেন যে, যেকোনো অপ্রত্যাশিত বা অপরিচিত টেক্সট, ইমেইল বা ফোন কলকে প্রতারণা হিসেবে ধরে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
Equifax Canada-ও একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে- ৬৭ শতাংশ কানাডিয়ান আইডিয়েন্টি থেফ্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির বিষয়ে উদ্বিগ্ন, ৬৪ শতাংশ চিন্তিত ছদ্মবেশ ধারণকারী প্রতারকদের ব্যাপারে ও ফিশিং বিষয়ে। ফিশিং হলো পাসওয়ার্ড ও ক্রেডিট কার্ড নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যে স্বনামধন্য কোম্পানির নাম ব্যবহার করে ইমেইল বা অন্যান্য বার্তা পাঠানোর প্রতারণামূলক কার্যকলাপ। ৫৯ শতাংশ কানাডিয়ান ডিজিটাল পেমেন্ট কেলেঙ্কারি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং ৪৬ শতাংশ বিনিয়োগ ও রোমান্স জালিয়াতি নিয়ে চিন্তিত।
ইক্যুইফ্যাক্স কানাডার ফ্রড অ্যান্ড আইডেন্টিটি বিভাগের প্রধান কার্ল ডেভিস বলেছেন, “আমার এখনকার বার্তা হলো, প্রতারকরা এতটাই দক্ষ ও কৌশলী যে, যে কেউ এই ফাঁদের শিকার হতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “ইদানীং বেতন স্লিপ, বীমার ফর্ম এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো ডকুমেন্ট এর নকল কপি তৈরি করতেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো দেখতে হুবহু আসল মনে হয়। গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবির্ভাবের ফলে অতীতের তুলনায় আরও বেশি মানুষ এর শিকার হচ্ছেন।
ইকুইফ্যাক্সের সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে যে, ৬৮ শতাংশ কানাডাবাসী মনে করেন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে ব্যাংকগুলোর আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আর ৫৯ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে জালিয়াতির বিরুদ্ধে শিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করা উচিত এবং পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোও উচিত।
Credit Counselling Society’র মতে, অসতর্ক হলে এবং প্রতারকদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে দিলে একটি গুরুতর বিপদ ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কেউ প্রতারণার শিকার হলে তার টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
