ভাল থাকার জন্য পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক : পেটের বাড়তি মেদ মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পেটে বাড়তি মেদ জমা হলে যে সব রোগ সৃষ্টি হতে পারে তার মধ্যে আছে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের মতো গুরুতর অসুখ।

অনেকেই বিশেষ করে অলস প্রকৃতির মানুষ এবং ভোজন বিলাসী মানুষেরা এর কারণ হিসেবে বয়সকে দোষারোপ করেন। মনে রাখতে হবে, পেটের মেদ বৃদ্ধিতে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উচ্চ আঁশ ও কম শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়া ক্ষুধা কমায়। বেশি পরিমাণে ফল ও সবজি খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে। এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস পেটে বাড়তি মেদ জমতে দেয় না।
পেটের মেদ বৃদ্ধির সাধারণ কিছু কারণ
কার্বোহাইড্রেট: কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তির জোগান দেয়। ভাত আর রুটি এর অন্যতম উৎস। বাঙ্গালী দিনের শুরুটাই করে ভাত বা রুটি দিয়ে। কিন্তু যখন শরীর অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা হয়, তখন তা দ্রুত শর্করাতে রূপান্তরিত করে। অনেক সময় এটি পেটের চারপাশে জমতে থাকে। বৃদ্ধি পায় পেটের আকার। তাই মেদ কমাতে রুটি, পাস্তা, ভাত ও আলু খাওয়া যতটা সম্ভব কমিয়ে আনুন। এসবের পরিবর্তে আঁশ সমৃদ্ধ তাজা ফল,ডাল ও শাক সবজি, বাদাম, মটর ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
হাঁটা : নিয়মিত হাঁটলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেজন্য হাঁটার বিকল্প নেই। তবে ধীরে হাঁটলে পেটের মেদ কমে না। হাঁটতে হবে দ্রুত, শরীরে ঘাম ছুটাতে হবে। হাঁটার অন্যান্য সুবিধাও আছে। তবে শুধু হাঁটলেই পেটের চারপাশে চর্বি কমে না। দেখা গেছে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্কে হেঁটেছেন, কিন্তু পেটের মেদ কমাতে পারেননি। সে কারণে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে। খাবার খেতে হবে পরিমিত।
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: বিশেষজ্ঞরা পেটের চর্বি কমানোর জন্য ফল, শাকসবজি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ শস্যের উপর মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ দোকানের প্রক্রিয়াজাত খাবার ফাইবার নষ্ট করে দেয় এবং শরীরে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা পেটে মেদ জামাতে সাহায্য করে।
বংশগতি : পেটে মেদ বা চর্বি জমবে কি না তা অনেকটাই নির্ভর করে বংশগতির ওপর। সাধারণত বাবা মায়ের পেটে মেদ থাকলে পরে সন্তানেরও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ এবং জীবনযাত্রার অন্যান্য কারণগুলোও পেটে মেদ জমার পরিমাণকে প্রভাবিত করে। তাই বংশগতি থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তথ্যসূত্র: টাইমসঅবইন্ডিয়া
