আমি বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার: বাঁধন

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ০৭ জুলাই ২০২৫:  নায়িকা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, নাটক, মডেলিং ও সিনেমায় একের পর এক চমক দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। প্রশংসা কুড়িয়েছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবেও। গত বছর জুলাই আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজপথেও সরব ছিলেন এই নায়িকা। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  এক আত্মোপলব্ধির কথা লিখেছেন নায়িকা বাঁধন। সেখানে তিনি জানান, জীবনে অনেক ওঠা-পড়া দেখেছেন তিনি। মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। শ্বশুরবাড়িতে অনেক শারীরিক অত্যাচারও সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। ফলে মানসিক সমস্যায় ভুগতে হয়েছে দীর্ঘ দিন।

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি : সংগৃহীত

বাঁধনের বিয়ে হয়েছিল তার চেয়ে ২০ বছরের বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে। নাম তার মাশরুর সিদ্দিকী সনেট। প্রায় চার বছর সংসার করার পর ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয় তাদের।  

আনন্দবাজার জানায়, ইতিপূর্বে এক সাক্ষাৎকারে বাঁধন বলেছিলেন, “আমার প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির লোকজন পড়াশোনা করতে দিত না। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ পুরো ছিন্ন করে দিতে বাধ্য করে। আমি মেনে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এই ভাবেই হয়তো থাকতে হয়। অনেকেই উপদেশ দিয়েছিলেন, এই সব সমস্যার সমাধান হল বাচ্চা। কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারিনি, আমি বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার।”

বাঁধন-সনেট দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর মেয়েকে একাই বড় করেছেন এই অভিনেত্রী।

এদিকে আরটিভি জানায়, দীর্ঘসময় ধরে সিঙ্গেল থাকলেও নতুন কোনো সম্পর্কে জড়াননি অভিনেত্রী। তবে একাধিকবার বাঁধন বলেছেন, মেয়ে সায়রা চায়, মায়ের জীবনে উপযুক্ত একজন জীবনসঙ্গী আসুক।

বাঁধনের কথায়, আমার মেয়ে তো এখন বড় হয়েছে। মায়ের সবকিছুই একা করতে হয়, কষ্ট করতে হয়, যুদ্ধ করতে হয়- ও বুঝছে। সবকিছু দেখে মেয়ের মনে হয়েছে, মায়ের একজন সঙ্গী দরকার।

কিন্তু সেই সঙ্গী কেমন হবেন? নিশ্চয়ই সনেটের মত নয়। বাঁধন বলেন, আমার জীবনসঙ্গীকে অবশ্যই নারীবাদী হতে হবে। তিনি হবেন আমার সঙ্গী ,রক্ষক না। আমাকে রক্ষা করতে হবে না, সে শুধু আমার জীবনসঙ্গী হবে।

এর আগে বিয়ে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বাঁধন বিলেছিলেন, বয়স ৪০ পার হয়ে গেছে। এখন অন্য রকম একটা জীবন লাভ করছি। নতুন এই জীবনে মনে হয়েছে, আমার একজন সঙ্গী থাকতেই পারে। মানুষ তো সঙ্গী ছাড়া থাকতে পারে না।

অতীত নিয়ে আক্ষেপ করে বাঁধন বলেন, আমি সব সময় হয় একজন দানব পেয়েছি, না হলে যে আমাকে অত্যাচার করছে, এ রকম মানুষ পেয়েছি। আমাকে অ্যাবিউজ করছে, এ রকম মানুষই পেয়েছি।