সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে কানাডা : মার্ক কার্নি
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ৩১ জুলাই ২০২৫: গতকাল বুধবার ৩০ জুলাই পার্লামেন্ট হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পরবর্তী অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কানাডার। খবর সিটিভি নিউজের।
উল্লেখ্য যে, মার্ক কার্নির এই বক্তব্যের একদিন আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ঘোষণা দেন যে ইসরায়েল যদি সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে না আসে এবং আরও কিছু শর্ত না মানে, তাহলে যুক্তরাজ্য সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।

এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে ফ্রান্সও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে একই পরিকল্পনার কথা জানায়। বিবিসি নিউজের এক খবরে এই তথ্য পরিবেশন করা হয়।
তবে মার্ক কার্নি এটাও বলেছেন, কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি। এর মাঝে একটি হলো, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে তাদের শাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। আর ওই পুরো এলাকাকে অস্ত্রমুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, কানাডার পররাষ্ট্রনীতিতে এই বড় পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি কারণও রয়েছে। যেমন‒ দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণ। গাজায় মানবিক বিপর্যয় এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে।
কানাডা অনেকদিন ধরেই আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’কে সমর্থন করে আসছিলো। তবে মার্ক কার্নি বলেন, “এখন এই পন্থা আর কার্যকর নয়।”
তিনি বলেন, “একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা এখন চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
বিবিসি জানায়, ফিলিস্তিনের মূলত দুই অংশ, গাজা ও পশ্চিম তীর। ফাতাহ পার্টির নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আর হামাস শাসন করে গাজা।
২০০৬ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচনের আয়োজন হয়নি এ অঞ্চলে।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কানাডার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের (পূ্র্বের টুইটার) এক পোস্টে বলেছে, কানাডার এই পরিকল্পনা “গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির জন্য চলমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”
এছাড়া, কানাডার কনজারভেটিভ পার্টিও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ঘোষণার বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে “সাতই অক্টোবরের হামলার পর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বিশ্বে ভুল বার্তা পৌঁছাবে।”
সমালোচনা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি হুমকী দিয়ে বলেন, কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণার পর তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা ‘খুব কঠিন’ হয়ে পড়বে।
গাজার হামাস-চালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলী হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অপুষ্টিজনিত কারণে ৮৯ শিশুসহ অন্তত ১৫৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
