খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কানাডিয়ান কম খাবার খাচ্ছেন

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, নভেম্বর ০৩, ২০২৬ : প্রতি তিনজন কানাডীয় নাগরিকের মধ্যে একজন খাদ্য কেনার জন্য নিজেদের সঞ্চয় ব্যবহার করছেন অথবা ঋণ নিচ্ছেন। ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এগ্রি-ফুড অ্যানালিটিক্স ল্যাব’-এর ‘কানাডিয়ান ফুড সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে খাদ্য কেনার সামর্থ্যই প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; পাশাপাশি যাতায়াত খরচও পরিবারগুলোর আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রেস্তোরাঁয় খাওয়া বা বাইরে থেকে খাবার কিনে আনার (টেক-আউট) ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন—এক্ষেত্রে ‘মিলেনিয়াল’ (Millennials) প্রজন্মের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছেন। খবর দি কানাডিয়ান প্রেস এর।

প্রতি তিনজন কানাডীয় নাগরিকের মধ্যে একজন খাদ্য কেনার জন্য নিজেদের সঞ্চয় ব্যবহার করছেন অথবা ঋণ নিচ্ছেন। ছবি : প্রবাসী কণ্ঠ

বার্ষিক জাতীয় দারিদ্র্য জরিপের ফলাফল কানাডায় খাদ্যসামগ্রী কেনার সক্ষমতা কমে যাওয়ার এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে—এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক কানাডার অর্থনীতিকে ক্রমাগত অস্থির করে তুলছে।

দ্য স্যালভেশন আর্মির ২০২৬ সালের দারিদ্র্য ও আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ আজ প্রকাশিত হয়েছে। ১,৫০০ জনেরও বেশি কানাডীয় নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ মানুষ খাবার কিনতে সামর্থ্য না থাকায় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন—যা এক বছর আগে ছিল ২৭ শতাংশ।

ফুড ব্যাংকের মতো সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে—গত বছর যেখানে এই হার ছিল ১১ শতাংশ, সেখানে এ বছর জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১৫ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁরা এ ধরনের সহায়তা নিয়েছেন।

স্যালভেশন আর্মির পক্ষে ‘এডেলম্যান ডেটা অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, তরুণ-তরুণীরা আরও খারাপ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।

‘ডেইলি ব্রেড ফুড ব্যাংক’-এর একটি পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টরন্টোতে খাদ্যের অভাবে ভোগা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে; একই সঙ্গে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফুড ব্যাংকে মানুষের যাতায়াতের সংখ্যা ৪১ লাখের (৪.১ মিলিয়ন) বেশি পর্যায়ে স্থিতিশীল রয়েছে।

জরিপটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, গত বছরের তুলনায় কানাডাবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই বাণিজ্য যুদ্ধ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের তিনজন জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ফলে তাদের পরিবার ইতিমধ্যেই আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।

অন্যদিকে আবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক জানিয়েছেন যে, তারা নিজেদের এলাকায় এমন আরেকটি বাড়ি খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত নন—যা একই সঙ্গে সাশ্রয়ী হবে এবং তাদের পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারবে; অন্যদিকে, ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে, কর-পরবর্তী আয়ের অন্তত অর্ধেক অংশই তারা আবাসনের পেছনে ব্যয় করেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারী কানাডিয়ানদের ৫০ শতাংশ জানিয়েছেন যে মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য তাঁরা তাঁদের সঞ্চয় থেকে অর্থ খরচ করেছেন। আর ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁরা ঋণ নিয়েছেন বা ক্রেডিট ব্যবহার করেছেন।

স্যালভেশন আর্মির কৌশলগত সম্পৃক্ততা বিষয়ক পরিচালক গ্লেন ভ্যান গুলিক ফলাফলগুলোকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে অভিহিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *