মুসলিমদের ‘গণহত্যার’ হুমকি : নয়টি ইসলামিক স্কুলকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কানাডার মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে এই সপ্তাহে তাদের নয়টি স্কুলে সহিংসতা চালানোর হুমকি দিয়ে একটি ইমেল পাঠানো হয়েছে। এরপরই সারা দেশের বিভিন্ন পুলিশ বাহিনী এসব হুমকির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। খবর দি কানাডিয়ান প্রেস এর।

মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন এর মুখপাত্র নাবিল সুলতান জানিয়েছেন যে, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্টারিও, ব্রিটিশ কলম্বিয়া ও কুইবেকের স্কুলগুলোতে একই বেনামি ইমেল পাঠানো হয়েছে।

‘সিটিজেন ভিজিল্যান্ট’ (Citizen Vigilante) বা ‘নাগরিক পাহারাদার’-এর স্বাক্ষরিত এবং ‘দ্য কানাডিয়ান প্রেস’-এর কাছে পাঠানো ওই ইমেইলে মুসলিমদের ‘গণহত্যার’ হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং কানাডাকে ‘ইসলামমুক্ত’ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

মুসলিম এসোসিয়েশন অব কানাডার নয়টি স্কুলে সহিংসতা চালানোর হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানো হয়েছে। ছবি :মুসলিম এসোসিয়েশন অব কানাডা

সুলতানের নিজের এক সন্তান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ কানাডা’র (MAC) একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। তিনি জানান যে চিঠিটি পড়ে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে MAC কর্তৃপক্ষ অর্থের বিনিময়ে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করেছে।

সুলতান আরো বলেন, “সংগঠনটি হুমকি ও ইসলামবিদ্বেষী ই-মেইল পাওয়ার বিষয়ে অভ্যস্ত হলেও, এই অলাভজনক সংস্থার স্কুলগুলোকে এমন সরাসরিভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা এটাই প্রথম।”

অন্টারিও-র পিল অঞ্চলের পুলিশ শুক্রবার জানিয়েছে যে, তারা ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা-প্রসূত হুমকি’ সম্বলিত একটি চিঠি সম্পর্কে অবগত। এর পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদ ও স্কুলগুলোর আশেপাশে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সপ্তাহান্তেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পুলিশের ঘৃণামূলক অপরাধ বিষয়ক ইউনিট বিষয়টি তদন্ত করছে বলেও জানানো হয়।

অন্টারিও-র লন্ডন এবং ওয়াটারলু অঞ্চলের পুলিশও জানিয়েছে যে, তারা ইসলামি স্কুলগুলোতে পাঠানো হুমকি-পূর্ণ ইমেইলগুলোর বিষয়ে তদন্ত করছে এবং অন্যান্য এলাকায় দেওয়া অনুরূপ হুমকির বিষয়েও তারা অবগত।

এদিকে, অটোয়া পুলিশ জানিয়েছে যে যেসব স্থানে চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছিল, সেখানে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে; তবে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট বা আসন্ন হুমকির’ কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাংগারি এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, এসব হুমকিতে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

মন্ত্রী আরো বলেন, “প্রতিটি শিশুরই নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে এবং প্রতিটি পরিবারেরই তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। এই ধরনের হুমকি অগ্রহণযোগ্য এবং কানাডায় এগুলোর কোনো স্থান নেই।”

সুলতান বলেছেন, কানাডায় ইসলামভীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ম্যাক (MAC)-এর স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে এসব হুমকির ঘটনা ঘটছে।

তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক নৃশংসতার ঘটনাগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন—যার মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালে অন্টারিও-র লন্ডনে আফজাল পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা (যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল) এবং ২০১৭ সালে কুইবেক সিটির একটি মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনা, যাতে ছয়জন মুসল্লি নিহত হয়েছিলেন।

স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পুলিশে নথিভুক্ত ঘৃণামূলক অপরাধের সংখ্যা ১৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

সুলতান বলেন, ক্লাসে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভীত ও অরক্ষিত’ বোধ করছে; আর এসব হুমকি এমন কিছু কঠিন প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে যে—কাকে কানাডীয় হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কাকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

তিনি যুক্তি দেন যে, কানাডাকে এমন এক ‘ইসলামভীতি ও বিদেশি-বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ’ মোকাবিলা করতে হবে, যা মুসলিম ও অন্যান্য দৃশ্যমান সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুমকির জন্ম দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *