অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিকযুক্ত বিপুল পরিমাণ বেরি কানাডায় পাঠানো হয়েছে আমেরিকা থেকে!
প্রায় ৫০ শতাংশ চালানে কানাডার নিরাপত্তা-সীমা অতিক্রমকারী মাত্রার রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কানাডার ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশ আমেরিকা। আর এই দেশটি থেকেই কানাডায় পাঠানো হয়েছে সীমা অতিক্রমকারী মাত্রার রাসায়নিক দ্রব্যযুক্ত ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ফল বেরি। গত ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বেরি’র প্রায় অর্ধেক চালানেই পাওয়া গেছে গেছে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য। Driscoll’s নামের একটি আমেরিকান কোম্পানী এই বিপুল পরিমাণ বেরি কানাডায় রফতানী করে।
বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা হলো, আমেরিকার প্রডাক্ট মানে অতি উৎকৃষ্ট পণ্য, গুনে ও মানে তার তুলনা নেই। আর এই হলো তার নমুনা! গত ২৬ সেপ্টেম্বর সিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন হুইসেলব্লোয়ারের (অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসকারী) দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোম্পানিটির লক্ষ লক্ষ পাউন্ড ওজনের বেরিতে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিকের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তা কানাডায় পাঠানো হয়েছিল এবং কোম্পানিটি এই তথ্যটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
অনেক কানাডিয়ানের খাবারের পাতে এবং কানাডার সর্বত্র মুদি দোকানগুলোতে ‘ড্রিসকল’স’ এর বেরি দেখা যায়; তাদের স্লোগানে দাবি করা হয় যে, এগুলো ‘শুধুই সর্বোৎকৃষ্ট মানের বেরি’।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা এক ‘হুইসেলব্লোয়ার’ – এর মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, কানাডায় সেরা মানের বেরি পাঠানো হয়নি; বরং নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিকযুক্ত লক্ষ লক্ষ পাউন্ড ফল সীমান্ত পার হয়ে সেখানে গিয়েছিল এবং কোম্পানিটি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ও ‘ড্রিসকলস’-এর প্রাক্তন কর্মী ডেভিড হারাদা মামলায় দাবি করেছেন যে, খোদ ড্রিসকলসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কানাডায় পাঠানো মোট পণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ চালানেই এমন ফল ছিল যা কানাডার নিরাপত্তা মানদণ্ড অতিক্রম করেছিল।
হারাদা সিবিসি-কে জানান যে, ২০২২ সালে তিনি প্রথম কীটনাশকের নিরাপত্তা ও এর অতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয়ে সমস্যাগুলো লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তা জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, কিন্তু তাঁকে বলা হয় যে এটি তাঁকেই সামলাতে হবে।
উল্লেখ্য যে, কানাডিয়ান ফুড ইন্সপেকশন এজেন্সি (CFIA) সিবিসি নিউজকে নিশ্চিত করেছে যে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সারা দেশের মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি হওয়া ‘ড্রিসকলস-এর বেরিগুলোর ওপর তারা বেশ কয়েকবার পরিদর্শন চালিয়েছে এবং সেগুলোতে কানাডায় অনুমোদিত আইনি সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় রাসায়নিকের উপস্থিতি পেয়েছে।
তবে সিএফআইএ (CFIA) জানিয়েছে যে, এই পরিদর্শনের ফলে পণ্য প্রত্যাহারের (রিকল) প্রয়োজন হয়নি অথবা প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পর তদন্ত কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্যযুক্ত বেরিতে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে?
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যবিজ্ঞান ও কৃষি রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্টেফান বায়েন বলেন, “প্রায়শই বেরি জাতীয় ফলে আইনি সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। তবে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবেই এমনটা দেখতে চাই না এবং আমরা এটি কমাতে চাই।”
তিনি আরো বলেন, “একবার মাত্রা বেশি হলেই তা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। তবে এটি যাতে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
তবে ডেভিড হারাদার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে Driscoll’s এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, কোম্পানিটি কখনোই জেনেশুনে এমন কোনো পণ্য সরবরাহ করেনি যা তাদের বিবেচনায় অনিরাপদ ছিল।
