প্রতি ১০ জন কানাডিয়ানের মধ্যে ৭ জনই বলছেন যে, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের কেনাকাটার ধরন বদলে গেছে

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অগাস্ট ০২, ২০২৬ :   কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত মাইলসোপিডিয়া (Milesopedia) কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া কানাডিয়ানদের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি জানিয়েছেন যে, ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং এই পরিস্থিতিতে তাদের অনেকেই কেনাকাটার ধরন পরিবর্তন করেছেন। খবর নাউটরন্টো.কম এর।

কানাডিয়ানদের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি জানিয়েছেন যে, ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন । ছবি : প্রবাসী কণ্ঠ

এদিকে স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদি দোকানের পণ্যের দামে প্রায় ১৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।

এদিকে অন্য এক তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালের তুলনায় দোকান থেকে কেনা খাদ্যের ক্ষেত্রে ‘কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স’ বা ‘ভোক্তা মূল্য সূচক’ (যা ‘স্ট্যাটিসটিক্স কানাডা’-র মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপের প্রধান মাপকাঠি) সর্বোচ্চ ১১ শতাংশে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ এই হার কমে ৪ শতাংশে নেমে আসে।

কিন্তু এই হ্রাস সত্ত্বেও, কানাডিয়ানরা মাইলসোপিডিয়া (Milesopedia)-কে জানিয়েছেন যে, খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; ৬০ শতাংশ মানুষই মনে করেন যে পণ্যের দাম বেশ চড়া।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তা কিছুটা কমে এলেও খাদ্যপণ্যের দাম এখনও কয়েক বছর আগের তুলনায় বেশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, মূল্যবৃদ্ধির হার কমে আসার অর্থ এই নয় যে পণ্যের দাম কমছে; এর অর্থ কেবল এই যে দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে, যার ফলে অনেক পরিবারকে এখনও তাদের খরচের অভ্যাসে পরিবর্তন বা সমন্বয় বজায় রাখতে হচ্ছে।

এক নজরে মাইলসোপিডিয়ার জরিপ তথ্য :

  • মাইলসোপিডিয়ার একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে যে, ৯৬ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে মুদি পণ্যের দাম বাড়তে দেখেছেন এবং প্রায় ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁরা খাদ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন।
  • স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মুদি পণ্যের দাম ১৪.৯ শতাংশ বেড়েছে; অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালের ১১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের মে মাসে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
  • জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন জানিয়েছেন যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে তারা কেনাকাটার অভ্যাস পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন; এর মধ্যে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন জানিয়েছেন যে তাদের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

যদিও ৮৫ শতাংশ মানুষ মুদি বাজারের খরচ কমাতে লয়্যালটি বা সেভিংস প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন, তবুও প্রায় অর্ধেক মানুষই জানিয়েছেন যে পণ্যের বাড়তি দামের তুলনায় এসব কর্মসূচি খুব একটা বা আদৌ কোনো সুফল দেয় না; এছাড়া ‘মাইলসোপিডিয়া’ (Milesopedia) উল্লেখ করেছে যে, এই জরিপের ফলাফল সব কানাডীয়র প্রতিনিধিত্ব করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *