উচ্চ মাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত কানাডার বাজারে বিক্রি হওয়া বেশ কয়েকটি ব্রান্ডের চালজাত পণ্যে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুলাই ১২, ২০২৬ : কানাডায় খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি নতুন তদন্তে দেখা গেছে যে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু চালজাত পণ্যে উদ্বেগজনক মাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। খবর সিটিভি নিউজের।
সুশি হোক বা ভাজাভুজি, বিশ্বের অনেক দেশেই ভাত একটি জনপ্রিয় খাবার এবং দুপুরের ও রাতের খাবারের একটি নিয়মিত প্রধান উপাদান। তবে, একটি নতুন খাদ্য নিরাপত্তা তদন্তে সতর্ক করা হচ্ছে যে কিছু চালের পণ্যে উদ্বেগজনক মাত্রার আর্সেনিক থাকতে পারে।
সিটিভি জানায়, ‘কনজিউমার রিপোর্টস’-এর একটি নতুন অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বহু চালজাত পণ্যে উচ্চ মাত্রার অজৈব আর্সেনিক রয়েছে, যা এক প্রকার বিপজ্জনক ভারী ধাতু এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত।

কনজিউমার রিপোর্টসের বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিবেদক কেভিন লোরিয়া বলেন, “বিশেষ করে অজৈব আর্সেনিক কিছু গুরুতর স্বাস্থ্যগত প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা জানি যে এটি ত্বকের ক্যান্সার, মূত্রাশয়ের ক্যান্সার, টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ সংক্রান্ত প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত।”
আর্সেনিক মাটি ও পানিতে পাওয়া যায় এবং যেহেতু ধান জলমগ্ন জমিতে চাষ করা হয়, তাই এটি এই ভারী ধাতু শোষণ করতে পারে।
‘কনজিউমার রিপোর্টস’ কানাডার বিভিন্ন দোকানের তাক থেকে ৫২টি চালের পণ্য কিনে পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষায়িত ল্যাবে পাঠিয়েছিল।
‘কনজিউমার রিপোর্টস’ এর প্রতিবেদক কেভিন লোরিয়া বলেন, “আমরা পরীক্ষা করা চালের প্রতিটি নমুনাতেই পরিমাপযোগ্য মাত্রার আর্সেনিক এবং বিশেষ করে অজৈব আর্সেনিক শনাক্ত করেছি।”
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, চালের প্রকারভেদে আর্সেনিকের মাত্রা ভিন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, একই ধরনের সাদা চালের চেয়ে বাদামী চালে অজৈব আর্সেনিকের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তুলনামূলকভাবে বাসমতি এবং সুশি চালে আর্সেনিকের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে।
পরীক্ষিত পণ্যগুলোর ৪০ শতাংশেরও বেশিতে এত পরিমাণ আর্সেনিক ছিল যে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিন মাত্র এক বেলা তা খেলে ক্যান্সার এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ‘লুন্ডবার্গ’ এবং ‘হোল ফুডস’ এর মতো বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড কনজিউমার রিপোর্টসকে জানিয়েছে যে তারা ভারী ধাতু পরীক্ষা করে, কিন্তু অন্যান্য অনেক কোম্পানি কোনো সাড়া দেয়নি।
হেলথ কানাডার ওয়েবসাইট অনুসারে, “কানাডায় বিক্রি হওয়া খাদ্যদ্রব্যে আর্সেনিকের মাত্রা কম এবং তা বহু বছর ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।”
হেলথ কানাডা বলেছে যে, আর্সেনিকের সংস্পর্শ কমানোর জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত আপনার এবং খাদ্যতালিকায় গোটা শস্যের বৈচিত্র্য আনা উচিত। আর ভাত রান্না করার সময়, অতিরিক্ত জলে সেদ্ধ করুন। রান্না শেষ হলে ভাতের মাড় বা ফ্যান গেলে নিন। ‘কনজিউমার রিপোর্টস’ও এতে একমত হয়েছে, কারণ এই পদ্ধতি আর্সেনিকের মাত্রা কমাতে পারে।
মূল কথা হলো, অতিরিক্ত ভাত খাবেন না। মাঝে মাঝে ভিন্ন ধরনের সাইড ডিশ খান, যেমন কিনোয়া এবং ওটস, যেগুলোতে পরীক্ষায় আর্সেনিকের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। আর ভাত বেছে নেওয়ার সময় বাসমতি এবং সুশির মতো কম আর্সেনিকযুক্ত জাতগুলো বিবেচনা করুন।
আপনি চালের দুধও কিনতে পারেন, কিন্তু হেলথ কানাডার মতে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য দুধের বিকল্প হিসেবে চালের পানীয় ব্যবহার করা উচিত নয়।
