সৎ মানুষের খোঁজে

সাইদুল হোসেন

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

FOUND SOME MONEY YESTERDAY. IF YOU LOST SOME MONEY, AND CAN TELL ME HOW MUCH, I WILL RETURN IT. IF NOT CLAIMED, I WILL PURCHASE SOME LOTTERY TICKETS WITH IT.

COME TO APT. # 108.

THANK YOU.

HOWARD

উপরের Noticeটা তিন দিন ধরে আমাদের কমিউনিটি বিল্ডিংয়ের একতলায় Notice Board -এ দু’টি board pin দিয়ে আটকানো ছিল। নোটিস দাতা Howard কে আমি চিনি। চমৎকার তার আচার-ব্যবহার।

গতকাল বিকালে আমাদের mail box check করতে নীচে গেলাম। দেখি আমার পরিচিত ভিয়েতনামীজ একজন রেসিডেন্ট এই নোটিসটাকে বোর্ড থেকে তুলে নিচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম, “এটাকে তুমি তুলে নিচ্ছ কেন?”

সে বলল, “আমার ডলারগুলো আমি ফেরত পেয়েছি, তাই নোটিসটার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।”

বললাম, “খুশী হলাম জেনে যে তুমি তোমার হারানো ডলারগুলো ফিরে পেয়েছ। হাওয়ার্ড খুব চমৎকার লোক, আমি তাকে চিনি।”

লোকটি তখন জানালো যে হাওয়ার্ডের ব্যবহারে সে মুগ্ধ। ডলারগুলোর সঠিক বর্ণনা দিতেই সে তার পার্সটা ডলারশুদ্ধ তার হাতে তুলে দিলো হাসিমুখে। সে খুব খুশী। গড ব্লেস হাওয়ার্ড।

ওর কথা শেষ হলে ওকে বললাম, “তোমার হাতের কাগজটা আমাকে দাও।”

সে জানতে চাইলো এটাকে দিয়ে আমি কি করবো। বললাম, “মানুষের সততার  বিষয়ে এটাকে কেন্দ্র করে একটা গল্প লিখবো ম্যাগাজিনে পাবলিশ করার জন্য।”

অবাক বিষ্ময়ে সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, You? You a story writer? Wow! Happy to meet you. I read stories- Vietnamese- all my life but I never met a writer in my life before! Congratulations!”

তারপর কাগজটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরল। বলল, “এই নাও কাগজটা।”

ওকে ধন্যবাদ জানিয়ে কাগজটা হাতে নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম।

সততার অপর একটি দৃষ্টান্ত

টিটিসি’র লস্ট আর্টিকেলস অফিস । ছবি : wheree.com

(আমার পুরানো ডায়েরী থেকে।)

২০০৪ সন। টরন্টোর নর্থ ইয়র্কে বাস করি স্বামীস্ত্রী আমরা দু’জন। বাসে-সাবওয়েতে চলাফেরা করি আমরা। মে মাসের ৩ তারিখে আমার স্ত্রী তার নানা ডকুমেন্টেস এবং নগদ ডলারে পূর্ণ Purseটা সাবওয়েতে সীটে ভুলক্রমে রেখে বাসায় চলে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে TTC LOST ARTICLES Office এ ফোন করলাম। আমার বর্ণনা শেষ হলে অপর প্রান্ত থেকে মহিলাটি জানালো যে পরদিন Bay Subway station -এ ওদের অফিসে গিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে।

পরদিন (৪ মে) আমরা স্বামীস্ত্রী দু’জন মিলে গেলাম সেই অফিসে। সেখানে কর্মরত মহিলাকে Purseটার description দিতেই সে একটা রুমের একটা বড় টেবিলের উপর রাখা সারিসারি Purse -এর দিকে ইশারা করে আমাদেরটা আছে কিনা check করতে বললো। দুরুদুরু বুকে দেখতে দেখতে আমাদেরটা পাওয়া গেল। সেটার ভেতরে check করে দেখা গেল যে সবকিছুই ঠিক আছে, কিছুই চুরি যায়নি। অবিশ্বাস্য রকম সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত। Many thanks, TTC.

(ছয়)

ইগ্লা অক্ত লয়, আজা, ইগ্লা অং, অং

রংপুর জেলার গ্রামাঞ্চলে চাকরি জীবনের প্রাথমিক পাঁচটি বছর কাটাতে হয়েছিল আমাকে (১৯৫৬-১৯৬১ সন)। লক্ষ্য করেছি সেখানে “বাহে” কথাটার সর্বত্র প্রচলন : কুটি যাচ্ছেন বাহে? (কোথায় যাচ্ছেন?); কি খালেন বাহে? (কি খেয়েছেন?); কি করিচ্ছেন বাহে? (কি করছেন?) ইত্যাদি।

অপর যে বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতো তা হলো : ওরা ‘র’-কে বলতো ‘অ’; “ন”-কে বলতো “ল”। কিছু দৃষ্টান্ত দিচ্ছি।

রক্ত – অক্ত; রবিবার – অবিবার; নয় – লয়; আমি/আমার বলতে ওরা বলতো হামি/হামার; ইত্যাদি। ফলে রোজা – রমজান হতো ওজা – অমজান; রশিদ/রউফ/রস/রাগ হতো অশিদ/ওফ/অস/আগ। রেল গাড়ি হতো “এলগাড়ি”। রাজাকে “আজা” এবং রাণীকে “আনি” উচ্চারণ করা হতো। শব্দের এমন উচ্চারণ বৈচিত্র্য নিয়ে একটা রসিকতাও শুনেছিলাম সেই কালে। ডায়ালগ (dialogue) টা ছিল এরকম :

Stage -এ নাটক আভিনীত হচ্ছে। রাজকীয় পোশাক পরে রাজা সিংহাসনে বসে আছেন, এমন সময় Stage -এ সুসজ্জিতা রাণী প্রবেশ করলেন। রাজা লক্ষ্য করলেন যে রাণীর মুখে ও কপালে এখানেওখানে লাল রংয়ের ছোপ। শংকিত কণ্ঠে রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “আনী, আনী, তোমার মুখে-কপালে এত অক্ত কেন?”

রাজাকে অভয় দিয়ে রাণী জবাব দিলেন, “ভয় পাবেন না আজা। ইগ্লা অক্ত লয়, ইগ্লা অং, অং।”

(অর্থাৎ ওগুলো রক্ত নয়, লাল রং মাত্র। ভয়ের কিছু নেই।)

(সাত)

মানুষের মনের উপর রংয়ের প্রভাব

মনের উপর রংয়ের প্রভাবের একটা বাস্তব প্রমাণ পেলাম আজ।

আমাদের ডাইনিং টেবিলটাই আমার রাইটিং টেবিল, ওটাতে বসেই আমি প্রতিদিন আমার সব লেখালেখি করে থাকি।

৩-৪ দিন আগে সেই ডাইনিং টেবিলের উপর বিছানো সাদা রংয়ের টেবিল ক্লথটা বদলে নূতন একটা টেবিল ক্লথ বিছানো হলো। রংটা তার pink, দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু তারপর থেকে আমি পড়ে গেলাম জটিল এক সমস্যায়। কি সেই সমস্যা?

সমস্যাটা হলো যে সেই pink টেবিল ক্লথটার দিকে তাকালেই চোখে একটা অস্বস্তি (irritation), একটা জ্বালা (burning) অনুভব করি, চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে। মনটা বিষন্ন হয়ে পড়ে। সেই অনুভূতিটা আরো তীব্রতা লাভ করে যখন দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই টেবিলে বসে লেখালেখি করি। চোখে ঝাপসা দেখি, বারবার টিস্যু পেপার দিয়ে চোখ মুছতে হয়।

বিরাট সমস্যা। এর সমাধান কি?

আমার পরিবর্তিত অনুভূতিগুলো বাস্তব না কল্পনা সেটা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আজ সকালে সেই pink table cloth টা সরিয়ে আগের white table clothটা আবার বিছানো হলো। আমি আবার লিখতে বসলাম। এবং কি আশ্চর্য! সেই সাদা রংয়ের প্রভাবে অল্পক্ষণ পর থেকেই আমার সব জ্বালা ও অস্বস্তি ধীরেধীরে দূর হতে লাগলো, আমি আমার স্বাভাবিক অনুভুতিগুলো ফিরে পেতে লাগলাম এবং এক সময় ভুলে গেলাম আমার সেই কষ্টগুলোকে!

Everything back to normal. Strange!

(আট)

শাবাশ, ভাগ্নে আমার!

আমার এক ভাগ্নে আছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। টরন্টোতে বড় একটা কন্স্ট্রাকশান কোম্পানীতে সুনামের সংগে কাজ করছে। গত ২০২৪-এর নভেম্বর মাসের কোন এক তারিখে সকালবেলা ফোন পেলাম সেই ভাগ্নের কাছ থেকে। ভাগ্নে আমাকে জানালো, “মামা, সুখবর আছে, বলছি শুনুন।”

১.           আমার চাকরির ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে গতমাসে। সেই উপলক্ষে গতকাল আমার কোম্পানী ম্যানেজমেন্ট একটা রিসেপশনের আয়োজন করেছিল।

২.          উপস্থিত সবার সামনে আমাকে একটা APPRECIATION NOTE দিয়েছে। আমার efficiency, sincerity and devotion to work and loyalty to the company’র উচ্চ প্রশংসা করেছে।

৩.          ক্যাশ বোনাস দিয়েছে চার হাজার ডলার।

৪.          আমাদের কোম্পেনীর ৩৫০ জন কন্স্ট্রাকশান, টেকনিক্যাল, এডমিনিস্ট্রেটিভ, ফিনান্স এন্ড একাউনটিং এমপ্লোয়ির মাঝে সিনিয়রিটি লিস্টে আমার স্থান এখন ২৫তম।

৫.          ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়তা দান করেছে যে আমার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জল।

শুনে খুব খুশী লাগলো। আল্লাহর কাছে ওর এবং ওর পরিবারের উপর রহমতের জন্য দু’আ করলাম।

এবার অন্য প্রসংগ।

ভাগ্নের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া শহরে। ওর স্ত্রী সিলেটি মেয়ে। বড়ই মিষ্টি স্বভাব ও আচার-ব্যবহার। ওরা সুযোগ পেলেই আমাদের বাসায় বেড়াতে আসে। ওরা মামা-মামীকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসে। ওদের দুই ছেলে। ওরাও আমাদেরকে ভালোবাসে।

ভাগ্নেবৌকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি তো সিলেটি ফুরি (সিলেটি মেয়ে)। তুমি এখনো তোমাদের সিলেটি মাৎ মাতনি? (তুমি এখনো সিলেটি ভাষায় কথা বল কি?)

হেসে দিয়ে সে বললো, “না মামা, আর মাতি না (অর্থাৎ আর বলি না।) আপনার ভাগ্নের সংগে বিয়ে হওয়ার পর থেকে তো আমি “বেংগলী” হয়ে গেছি! এখন আমি আপনাদের মত “বেংগলী” মাতি (বাংলা ভাষায় কথা বলি।) (চলবে)

সাইদুল হোসেন
মিসিসাগা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *