প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী কানাডায় আশ্রয়ের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন

অবিলম্বে দেশ ছেড়ে চলে যেতেও বলা হচ্ছে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ : কানাডার অভিবাসন বিভাগ হাজার হাজার শরণার্থী আবেদনকারীকে চিঠি পাঠিয়ে জানাচ্ছে যে তারা আশ্রয়ের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে অবিলম্বে দেশ ছেড়ে চলে যেতেও বলা হচ্ছে। খবর সিবিসি নিউজের।

গত মাসে অটোয়া একটি আইন পাস করার পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে, যে আইনে আবেদনকারীদের আবেদন করার পদ্ধতি ও সময় আরও কঠোর করা হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগ হাজার হাজার শরণার্থী আবেদনকারীকে চিঠি পাঠিয়ে জানাচ্ছে যে তারা আশ্রয়ের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন। ছবি : ছবি : ক্রিস্টিন মুশি / রয়টার্স

ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) সিবিসি নিউজকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এগুলো ডিপোর্টেশন বা নির্বাসনের চিঠি নয়।” বিবৃতিতে আরও নিশ্চিত করা হয় যে, প্রায় ৩০,০০০ আবেদনকারীর কাছে এই চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে।

সিবিসি নিউজের হাতে আসা এরকম একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, আপনার আবেদনটি কানাডার ইমিগ্রেশন এ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের শরণার্থী সুরক্ষা বিভাগে পাঠানোর জন্য অযোগ্য হতে পারে।” চিঠিটি একজন আবেদনকারীকে আইআরসিসি-র একজন কেস প্রসেসিং অফিসার পাঠিয়েছিলেন।

চিঠিতে কেস অফিসার আরও লিখেছেন যে, আবেদনকারী আগামী ২১ দিনের মধ্যে তার প্রবেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য বা প্রমাণ জমা দিতে পারবেন।

আইআরসিসি তার বিবৃতিতে বলেছে, ইমিগ্রেশন এ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে প্রেরণের জন্য তাদের যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওই বিবরণগুলো প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

আইআরসিসি আরও উল্লেখ করেছে যে, “যাদের আবেদনপত্র ইমিগ্রেশন এ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে পাঠানো হয় না” তারাও প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (পিআরআরএ) নামে পরিচিত একটি ফর্ম পূরণ করতে পারবেন, যা একজন কেস অফিসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পড়ে দেখতে পারেন।

শুনানির পরিবর্তে লিখিত প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় আইনজীবীরা শঙ্কিত

সিবিসি নিউজের সাথে কথা বলা অভিবাসন আইনজীবীরা বলেছেন, ফর্মগুলো আবেদনকারীদেরকে সশরীরে শুনানির মতো একই রকম স্বাধীনতা দেয় না।

কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ রিফিউজি লইয়ার্স-এর সহ-সভাপতি অ্যাডাম সাডিনস্কি বলেছেন, “কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর সামনে নিজের বক্তব্য, ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেয়ে কাগজে-কলমে তা তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়।”

টরন্টো-ভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী লিডা বেরেঞ্জিয়ান বলেন, নতুন নিয়মে ইমিগ্রেশন এ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের কোনো সদস্য সামনে থাকবেন না যিনি আপনার কথা শুনবেন, যিনি আপনাকে অনুভব করতে পারেন, আপনাকে দেখতে পারেন, আপনার ভয়টা বুঝতে পারেন।”

কিছু চিঠিতে অবিলম্বে চলে যেতে বলা হয়েছে

সিবিসি নিউজের দেখা দ্বিতীয় ধরনের একটি চিঠিতে আবেদনকারীদের বলা হচ্ছে, “আপনার শরণার্থী সুরক্ষার আবেদনটি কানাডার ইমিগ্রেশন এ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের শরণার্থী সুরক্ষা বিভাগে পাঠানোর যোগ্য নয়।”

ওই চিঠিতে C-12 আইন দ্বারা সংশোধিত অভিবাসন আইনের একটি ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এমন আবেদনকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সীমান্তের এমন কোনো স্থান থেকে কানাডায় প্রবেশ করেছেন যেগুলোকে নিয়মিত প্রবেশপথ হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং আশ্রয়ের আবেদন করতে ১৪ দিনের বেশি সময় নিয়েছেন।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “আপনাকে যত দ্রুত সম্ভব কানাডা ত্যাগ করতে হবে এবং কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সিকে আপনার প্রস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আপনি যদি কানাডা ত্যাগ না করেন, তবে আপনার বিরুদ্ধে নির্বাসনের আদেশ জারি করা হতে পারে।”

চিঠিতে অবশ্য বলা হয়েছে যে আবেদনকারী “পিআরআরএ (pre-removal risk assessment)-এর জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।”

কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ রিফিউজি লইয়ার্স-এর সহ-সভাপতি অ্যাডাম সাডিনস্কি বলেছেন, কানাডা থেকে ডিপোর্ট বা নির্বাসিত হওয়ার আগে যে কারোর  pre-removal risk assessment –এর একটি সুযোগ পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *