দুশ্চিন্তাহীন জীবন আয়ু বাড়ায়

দুশ্চিন্তা থেকে তৈরী হতে পারে মানসিক রোগও। ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ : আজকের এই যান্ত্রিক যুগে ও নগর জীবনের প্রাত্যহিক জটিলতায় মানুষের মনে দুশ্চিন্তা থাকবে না তা কি হয়? হয় না। মানসিক দুশ্চিন্তা অনেক কারণেই হতে পারে। কিন্তু সেই দুশ্চিন্তাকে যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে তার পরিনতিতে হতে পারে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। তৈরী হতে পারে মানসিক রোগও। বিষন্নতা থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুই হতে পারে। ভাঙ্গতে পারে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, এমনকি দাম্পত্য সম্পর্কও। তাই সময় থাকতে দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দূরে ঠেলে রাখতে হবে এই বিপদকে।
বস্তুত, দুশ্চিন্তাহীন মানসিক সুস্থতা আমাদের স্বাভাবিক আয়ু বাড়ায়। মানসিক অস্থিরতা বা উদ্বেগ আমাদের জীবনের আনন্দ ও স্বস্তি কেড়ে নিতে পারে। তাই এই পরিস্থিতে পড়লে যা যা করনীয় তা হলো,
মনসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্ত শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ধীরে ধীরে অন্যান্য হরমোনকেও প্রভাবিত করে। তাই একে প্রতিহত করার জন্য নিয়মিত যোগব্যায়াম, প্রতিদিন অল্প হলেও হাঁটা খুবই জরুরী। মনে রাখতে হবে যোগ ব্যায়াম মানসিক অস্থিরতা দূর করার জন্য একটা খুবই কার্যকরী কৌশল। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতেও সহায়তা করে। এসব কার্যকলাপ স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মনের অস্থিরতা দূর করতে প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুক্ষণ শারীরিক ব্যায়াম করা খুবই ‍উপকারী। এই অভ্যাস শরীরকে যেমন ভালো রাখবে তেমনি মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করবে। দ্রুত হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম সময়ের সাথে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম : ঘুম হচ্ছে এমন এক ধরনের ক্রিয়া যা প্রতিটি প্রাণীর জন্য অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ঘুম শুধু যে মানসিক অস্থিরতা দূর করে তা নয়, এটি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুকি কমানো, হজমশক্তি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সহ আরও অনেক বিষয়ে সাহায্য করে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক গড়ে ৭ ঘন্টা বা তার বেশি সময় ঘুমানো উচিত।
সুষম খাবার: নগর জীবনের ব্যস্ততায় আজকাল অনেকেই রেস্টুরেন্টর উপর নির্ভর করেন। আর সেখানে গিয়ে বার্গার, পিজ্জা, আইসক্রিম, ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার খান। আমরা অনেকেই জানি এরকম ফাস্টফুড আমাদের স্বাস্থের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। কিন্তু তা জেনেও অনেকেই সেগুলো খান। এই অভ্যাস অথবা বলা ভালো বদভ্যাস বাদ দিতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে গোটাশস্য, মৌসুমী ফল, শাক-সবজি, বাদাম এবং বীজ যোগ করলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়, যা সামগ্রিক হরমোনের স্বাস্থ্যকে সহায়তা করে। এবং একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যকেও ভাল রাখে। তাই খাবারের তালিকায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে তাজা ও স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন। এবং দুশ্চিন্তাহীন জীবন বেছে নিন। -তথ্য সূত্র : অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *