করোনায় বিধ্বস্ত ২০২১ সালের পৃথিবী, মৃত্যুর মিছিল এবং ভ্যাক্সিন রাজনীতি

মোয়াজ্জেম খান মনসুর
লন্ডভন্ড আজকের এই পৃথিবী। করোনা মহামারীর তান্ডবে চারিদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে প্রতিদিন। স্যোসাল মিডিয়ায় প্রতিদিন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, চেনা-অচেনা মানুষের মৃত্যুর খবর ভেসে বেড়াচ্ছে। ফেসবুকে চোখ রাখা যায় না, ফেসবুক আর খুলতেই মন চায় না । তীব্র ব্যথার অনলে গভীর আতংকে আজকাল মন জেগে থাকে। মহামারীর এই ভয়ংকর মৃত্যুছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছেনা এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মানবসন্তানেরা। গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গণচীনের ওহান শহরের এক কাঁচা বাজার থেকে এই মরণব্যধির ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরে ধীরে ধীরে সমস্ত পৃথিবীতে। এশিয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য, তারপর ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় এবং সবশেষে ছড়িয়ে পরে আফ্রিকায়। প্রথম আক্রমণের ঢেউয়ে বিধ্বস্ত হয়ে পরে গোটা বিশ^^। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় গত সেপ্টেম্বর- অক্টোবর থেকে। এর ঢেউএ আবারও ইউরোপ আমেরিকা বিধ্বস্ত হয়ে পরে। কঠোর লকডাউন কার্ফু দিয়েও করোনা বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। হাসপাতালে রোগীদের জায়গা ধরে না। ফ্রন্টলাইন কর্মীরা ক্লান্ত বিপর্যস্ত। মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ছে ৪০-৫০ হাজার করে ইউরোপে। সংক্রমণ সংখ্যা ৩৫০,০০০ ছিল গত কাল ২৫শে এপ্রিল/২১ ভারতে। দিল্লীতে অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালের করিডোরে, রাস্তায়, গাড়ীতে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছে। হৃদয় বিদারক এইসকল ছবি ভেসে আসছে টিভির পর্দায় স্যোসাল মিডিয়ায়। দিল্লিতে কবরাস্থানে জায়গা নেই। জায়গা ধরছে না শ্মশানেও। বাতাসে লাশ পোড়া গন্ধ। কিন্তু অক্সিজেন নেই মানুষের জন্য। মানুষ মরছে অক্সিজেনের অভাবে। দিল্লিতে তীব্রশ্বাস কষ্ট নিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী স্বামীর মুখে স্ত্রী মুখ দিয়ে শ্বাস দিয়ে প্রিয়তম স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রিয় স্বামীকে মৃত্যু থেকে ফেরাতে পারেনি। মোদি সরকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অক্সিজেন ব্যবহার বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপে মৃত্যুর সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে গেল গতকাল ১৬ই এপ্রিল ২০২১। কেবল ফ্রান্সেই ছাড়িয়েছে এক লক্ষ। আমেরিকাতে পাঁচ লক্ষ সত্তর হাজার। কানাডাতে ২৪ হাজার।
গত বছর থেকে টিকা প্রদান শুরু হয়েছে ইউরোপ আমেরিকায়। তবুও এই সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না কোন ভাবেই। দেশে দেশে একের পর এক লকডাউন, ইমারজেন্সী ও কার্ফু জারী করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কমপ্লিট লকডাউন শুরু হয়েছে ১৩ এপ্রিল/২১ থেকে। অফিস আদালত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা শহরের হাসপাতালে রোগীদের জায়গা আর ধরে না। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে বহু রোগীর মৃত্যু হচ্ছে গাড়ীতে। হাসপাতালে অক্সিজেনের ভয়ংকর সংকট শুরু হয়েছে। ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৩। ঢাকা শহরের কোন কোন গোরস্থানে যন্ত্রের সাহায্যে কবর খোঁড়ার কাজ চলছে। কবর খোদকরা হাতে কাজ করে মৃত্যুর মিছিলের সাথে আর পেরে উঠছে না। অন্যদিকে আগাম টাকা দেওয়া থাকলেও ভারত চুক্তি ভঙ্গ করে ভেক্সিন পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।
কানাডার অন্টারিও প্রভিন্সে রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক। আজ ২৬ এপ্রিল /২১ কানাডায় নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল ৭,২০৪। মোট মৃত্যু ৩৬। সর্বমোট কেইস সংখ্যা ১,১৯৪,৪৩৫ এবং মৃত্যু সংখ্যা ২৪,০২৪।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্টারিওতে ভয়নক ভাবে সংক্রমণ সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আজ সোমবার ২৬ এপ্রিল সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৩৫১০।
একই দিনে সংক্রমণের সংখ্যা কুইবেকে ছিল ৮৮৯, আলবার্টায় ১৪৯৫, বৃটিশ কলম্বিয়ায় ৭৬৩, সাস্কাচুয়ানে ২৪৫ এবং মেনিটোবায় ২১০।
করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলমান রাখার জন্য অন্টারিওতে হাসপাতালের অতি গুরুত্বপুর্ণ যে সকল সার্জারী নয় সেগুলো আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সানিব্রুক হাসপাতালে ফিল্ড হাসপাতাল তৈরী করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীকে অন্টারিওতে সাহায্যের জন্য পাঠানো হয়েছে। কানাডার বিভিন্ন প্রভিন্সের ডাক্তার নার্স অন্টারিওতে সাহায্যের জন্য আসছে। গ্রেটার টরন্টো এরিয়াতে ইন্টেন্সিভ কেয়ারে রোগীদের আর জায়গা ধরে না। ফলে গত কিছুদিন ধরে মূমূর্ষ রোগীদের একটি অংশকে প্রভিন্সের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শনিবার ১৭ এপ্রিল অন্টারিও স্বাস্থ বিভাগ আশংঙ্কা করছে এভাবে চলতে থাকলে অন্টারিওতে প্রতিদিন সংক্রমণের সংখ্যা ১০,০০০ থেকে ১৫০০০ গিয়ে দাঁড়াতে পারে। সে কারণে এখন ইমার্জেন্সি সহ লকডাউনে আছে এই প্রভিন্স। অতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষেধ। শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির প্রতিষ্ঠান, দোকান পাট, এবং ফার্মেসি খোলা রয়েছে। রেস্তোরাগুলোতে শুধুমাত্র টেকআউট খোলা রয়েছে। স্কুল কলেজ সব বন্ধ।
গত বছর ফাইজার এবং মডার্না কম্পানীর করোনার টিকা বাজারে আসে। পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানবী ইউনাইটেড কিংডমে টিকা নেয়।
ফাইজার এবং মডার্নার টিকা প্রথম বাজারজাত হয়। ফাইজার এর টিকার কার্যকারিতা ৯৫%, মডার্নার ৯৪% এবং এস্ট্রোজেনেকার কার্যকারিতা ৭০%। টিকা পাওয়ার ব্যাপারে কানাডা ফাইজার এবং মডার্নার সাথে চুক্তি করে। কিন্তু জানুয়ারী মাসে কিছু টিকা আসার পর আমেরিকা এবং ইউরোপ থেকে নিষেধাজ্ঞার কারনে টিকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। তবে কানাডার দু:সময়ে ভারত পাচঁ মিলিয়ন এস্ট্রাজেনিকা টিকা পাঠায়। টিকা স্বল্পতা কাটিয়ে এপ্রিলের প্রথম থেকে ফাইজার মডার্না এবং এস্ট্রাজেনিকা ভেক্সিন দেওয়া শুরু হয় হাসপাতালে ক্লিনিকে এবং ফার্মেসিতে। বয়সের তালিকা ৮০+ থেকে নামিয়ে আস্তে আস্তে সেটা এই সপ্তাহে কোন কোন ক্লিনিকে হট স্পট এলাকায় ১৮ + বয়সীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। অন্টারিওতে ৬০০ ফার্মেসিতে এস্ট্রাজেনিকার টিকা প্রদানের কার্যক্রম চলছে এবং ২০টি ফার্মেসিতে কাজ চলছে দিন রাত চব্বিশঘন্টা। এই সপ্তাহে ২৫ এপ্রিল মডার্নার ১.২ মিলিয়ন ডোজ আসার কথা থাকলেও তাদের সাপ্লাই অর্ধেক আসবে বলে মডার্না কম্পানী জানিয়েছে। আগামি সপ্তাহে ৬৫০,০০০ ডোজ আসছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী মে, জুন এবং জুলাইয়ের মধ্যে ৮ মিলিয়ন ফাইজার ডোজ কানাডায় আসবে। আমেরিকা থেকে ১,৫ মিলিয়ন এস্ট্রাজেনিকা এসে পৌঁছাবে এই মাসে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন গত সপ্তাহে এই মহামারী মোকাবিলায় কানাডার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আশ্বাস কতটুকু বিশ^^াস্যোগ্য এবং স্বস্তির সেটা সময় বলে দেবে। কারণ এবছর প্রথম দিকে জানুয়ারী -ফেব্রুয়ারী আমারিকার ফাইজার কম্পানী সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্বেও নতুন বাইডেন সরকার সে চুক্তি অগ্রাহ্য করে ভেক্সিন পঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার নতুন করে ফাইজার, জন্সন এন্ড জন্সন এর সাথে চুক্তি করেছে সরকার। স্কারবরোতে গত সপ্তাহে ৫০+ বয়স যাদের তাদেরকে সেন্টেনিয়াল কলেজ ক্যাম্পাসে এবং রুসভ্যলী হাসপাতালে ভেক্সিন দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এই সপ্তাহে স্কারবরো এলাকায় রুসভ্যালি হাসপাতাল এবং সেন্টনিয়াল কলেজ ক্যাম্পাসে ১০,০০০ এপয়েন্টমেন্ট ক্যান্সেল করা হয়েছে ভ্যাকসিন স্বল্পতার কারণে।
এস্ট্রাজেনিকা ভেক্সিন নেয়ার পর কিছু সংখ্যক লোকের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এবং কয়েক জনের মৃত্যু ঘটায় ইউরোপে ডেনমার্ক সহ ১৮টি দেশে সাময়িক ভাবে এই ভেক্সিন প্রদান স্থগিত করেছে। পুরো ইউরোপে ৫০ মিলিয়নের বেশি বৃটিশ এস্ট্রাজেনিকা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতে এস্ট্রাজেনিকা টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া যায় নি। কানাডাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ মিলিয়নের বেশী ডোজ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ জনের রক্ত জমাট বাঁধার খবর জানা গেছে। আজ ২৭ এপ্রিল কানাডার কুইবেকে ৫৪ বছরের এক মহিলা এস্ট্রাজেনিকা টিকা নেয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধার কারণে মৃত্যু বরন করে বলে সিপি ২৪ জানিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রথম রোগী সনাক্ত হয় কুইবেকে। দ্বিতীয় রোগী আলবার্টায়, তৃতীয় রোগী বৃটিশ কলম্বিয়ায় এবং দুইজন অন্টারিওতে। তবে কানাডা স্বাস্থ্য বিভাগ দাবী করছে এই টিকা খুব নিরাপদ এবং টিকা প্রদান অব্যহত থাকবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কানাডাতে এস্ট্রেজেনিকা ভেক্সিন ৬০-৬৪ বয়সীদের দেওয়া শুরু করে। পরে আস্তে আস্তে এই সপ্তাহে ৩০+ দেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে টরন্টোর ১০টি নির্দিষ্ট হট স্পট এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিকে, কমিউনিটি ক্লাবে ভেক্সিন দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিন থেকে ব্রাম্পটন, মিসিসাগা, টরন্টো, পিকারিং এবং অশোয়াতে পপ আপ ক্লিনিকে ভেক্সিন দেওয়ার ব্যপক কার্যক্রম চলছে। গত সপ্তাহে স্কারবরোর ফেয়ারভ্যালী কমিউনিটি সেন্টারে ভেক্সিন দেওয়া হয়েছে তবে পর্যাপ্ত পরিমানে নয়। শীতের ভোর রাত থেকে মানুষ এসে লাইন ধরেছে। অনেকেই টিকা না পেয়ে চলে ফেরত এসেছেন। আগামীকাল ২৮ এপ্রিল স্কারবরোতে নির্দিষ্ট পোস্টাল কোডের অধীনে বসবাসকারীদের পপ আপ ক্লিনিকে ভেক্সিন দেওয়া হবে। সেন্টেনিয়াল কলেজ ক্যাম্পাসেও আবার ভেক্সিন দেয়া শুরু করেছে ২৭/২৮ এপ্রিল।
আমেরিকায় জনসন এন্ড জনসন টিকা দেওয়া কিছুদিন আগে বন্ধ রেখেছিল। প্রায় সাত মিলিয়ন টিকা দেওয়ার পর সাতজনের রক্ত জমাটের সংবাদে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে অবশ্য আবার এই টিকা দেয়া শুরু হয়। তবে আমেরিকা এস্ট্রাজেনিকা টিকা ব্যবহার করছে না। ফাইজার এই সপ্তহে জানিয়েছে টিকার পুরোপুরি কার্যক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দুই ডোজ টিকা নেবার পর একটি বুস্ট সট নিতে হবে । শুধুমাত্র জনসন এন্ড জনসন কম্পানির একটি টিকাই যথেষ্ট হবে বলে কম্পানী জানিয়েছে। ফাইজার, মডার্না, এস্ট্রাজেনিকা এবং জনসন এন্ড জনসন ছাড়াও রাশিয়া ও চীনের ভেক্সিন বাজারে এসেছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকায় তাদের কোন টিকা বাজারজাত হয় নি। সম্প্রতি জার্মান রাশিয়ার কিছূ টিকা আনতে পারে বলে জানিয়েছে।
ফেব্রুয়ারী-এপ্রিল মাসে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে পৃথিবী ভয়ংকর ভাবে বিধ্বস্ত। বর্তমানে নতুন ভেরিয়েন্টগুলো কভিড ১৯ চেয়ে আরো কয়েক গুণ শক্তিশালী এবং কয়েকগুণ বেশী দ্রুত সংক্রমন করার শক্তি রাখে। সাউথ আফ্রিকান ভেরিয়েন্ট, ব্রাজিলিয়ান ভেরিয়েন্ট, ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট। এদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট বি .১.৬১৭। যেটা নাকি আট দশ ঘন্টার মধ্যে কোন রোগীকে মৃত্যুর মুখে নিয়ে যেতে পারে। গত ২৬ এপ্রিল অন্টারিও ব্রাম্পটনের ১৩ বছরের এক বালিকা এমিলি ভিগাস কোভিড রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। কভিডে আক্রান্তদের মধ্যে সে ছিল সর্বকনিষ্ঠ। তার জন্য পার্লামেটে শোক প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে। অন্টারিও’র ব্রাম্পটন শহরের রোগির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের অধিবাসীদের মধ্যে বিরাট একটি কর্মীদল ট্রাক পরিবহন ইন্ড্রাস্টিতে যুক্ত, ফলে তাদের আমেরিকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রভিন্সে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। ফলে তাদের অবস্থান অত্যন্ত ঝুকিপুর্ণ ।
কানাডাতে আজ পর্যন্ত ৯,১৯৯,৭৬৯ (২৪,২১% ) ফার্স্ট ডোজ দেওয়া হয়েছে। দুই ডোজ পেয়েছে ৮,২৯৯,৮২৩ (২,৩৭%)। এপ্রিল ২৬ পর্যন্ত অন্টারিওতে ৩,৪৮৪,৪৯৩ (২৮,৮%) দেওয়া হয়েছে প্রথম ডোজ। বিভিন্ন ফার্মেসিতে, ক্লিনিকে পপ আপ ক্লিনিকে অত্যন্ত জোর কার্যক্রম চলছে ভেক্সিন প্রদানের। প্রাইম মিনিস্টার জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, আসছে সেপ্টেমবরের মধ্যে সকল কানাডিয়ানরা ভেক্সিন পেয়ে যাবে। আমাদের সরকারের বিভিন্ন চুক্তি অনুযায়ী যদি সব কম্পানীর ভেস্কিন এসে পৌঁছায় তাহলে সবাই সময়মত দুই ডোজ পেয়ে যাবে। কোভিড ১৯ মহামারীর মৃত্যু ছোবলে পৃথিবী যখন সম্পুর্ণ অসহায় লন্ডভন্ড বিধ্বস্ত তখন আবার দিন দিন নতুন নতুন করোনা ভেরিয়েন্ট পৃথিবীতে নতুন আতংক সৃষ্টি করছে। বিবিসির এক খবরে প্রকাশ, ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট পর্যাপ্ত ভেক্সিন নেবার পরও বাইপাস করে শরীরে ঢুকে যাবার শক্তি রাখে। এখন পর্যন্ত এই ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট সবচেয়ে শক্তিশালী ভাইরাস। অন্টারিওতে আজ পর্যন্ত ৩৬টি ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট ধরা পরেছে।
এই ২০২১ সালের পৃথিবীতে আজ আমরা অসহায় মানব সন্তান। প্রতিনিয়ত দেখছি স্বজনের করুণ মৃত্যু। টিভিতে, পত্রিকায়, সোস্যাল মিডিয়ায় দেখছি লক্ষ লক্ষ মৃত্যুর সংবাদ। স্বজনের প্রাণ বিদীর্ণ করা আহাজারীতে ধরণীর বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই স্বজনহারার ক্রন্দন পৃথিবীর দেশে দেশে। মারা যাচ্ছে মুসলমান,হিন্দু, খৃস্টান, ইহুদী আস্তিক নাস্তিক। চির বিদায় নিচ্ছে মানব সন্তান অদম্য ভালবাসার পৃথিবী থেকে। আজ মহামারী আক্রান্ত বিপর্যস্ত অসহায় পৃথিবীতে মৃত্যুর কাছাকাছি দাড়িয়ে শুধুমাত্র একটাই প্রার্থনা- হে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাহমানির রাহিম আপনি আপনার সৃষ্ট মানব সন্তানদের উপর কৃপা বর্ষন করুন। আমাদের জীবন ভিক্ষা দিন। এই পৃথিবী করোনা মুক্ত করুন। আমাদের পৃথিবী আবার খিল খিল হাসির ফোয়ারায় আনন্দ উৎসবে ভেসে যাক। মানব সন্তান আবারও হাত ধরা ধরি করে ভালবাসায়, হৃদয়ের উষ্ণ পরশে আলিংগনে খুলে দিক মনের দুয়ার। বেঁচে থাক তোমার মানব সন্তান অযুত কোটি বছর। পৃথিবীর অতলান্তিক পাড় থেকে আপনাদের সবার জন্য রইল অশ্রুসজল প্রার্থনা। আপনারা পৃথিবীর যে যেখানেই থাকুন সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন এই সুন্দর পৃথিবীতে।
মোয়াজ্জেম খান মনসুর
২৭ শে এপ্রিল,২১
টরন্টো, কানাডা