করোনার দিনগুলো

কানাডায় করোনার তৃতীয় ওয়েভের আশঙ্কা করা হচ্ছে!


জসিম মল্লিক


(ত্রয়োদশ পর্ব)
গত দুই সপ্তাহ জুড়ে অক্সফোর্ড-আ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগ নির্ভয়ে এই টিকা নিতে বলেছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার কারণে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ)। সংস্থাটি বলেছে, টিকার সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় এর কার্যকারিতা অনেক বেশি। স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরে বেশ কয়েকটি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ব্যবহার স্থগিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা জানাল ইএমএ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইএমএর বিশেষজ্ঞরা ১৬ মার্চ টিকা নিয়ে বৈঠকে বসেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বড় তিন দেশ জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স বলেছে, ইএমএর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার পর তারা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে। ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি বলেছে, এই দেশগুলোতে টিকার ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া উচিত। ইএমএর প্রধান এমার কুক বলেছেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম। টিকা নেওয়ার পর করোনায় সংক্রমিত হলেও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির চেয়ে এসব উপকারিতার গুরুত্ব অনেক বেশি।
যুক্তরাজ্যে এক কোটি সত্তুর লাখের বেশি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশটির বিশেষজ্ঞরা যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো প্রমাণ পাননি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দ্য টাইমস পত্রিকায় লিখেছেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিরাপদ ও ভালোভাবে কার্যকর। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন ও ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ফার্মাকোপিডমাইয়োলজির অধ্যাপক স্টিফেন ইভানস বলেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কারণে কয়েকজনের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। তবে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য এমনটা ঘটেনি। তিনি বলেছেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় খুব কম ক্ষেত্রে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও সে তুলনায় এর কার্যকারিতা অনেক বেশি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দেশের নাগরিকদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির বিজ্ঞানভিত্তিক একটি কমিটি ৬৫ বা তার বেশি বছরের নাগরিকদেরও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ জানিয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রিয়ুথ চ্যান ওচা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন।
করোনায় ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৭ লাখ মানুষ মারা গেছেন। সংক্রমিত হয়েছেন ১২ কোটির বেশি মানুষ। করোনা মহামারির অবসানে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া উচিত বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)ও। এই টিকার ব্যবহার স্থগিত না করার জন্য সংস্থাটি বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সঙ্গে ব্যক্তির শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার যোগসূত্র থাকার কোনো প্রমাণ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেছেন, তাঁরা চান না যে লোকজন আতঙ্কিত হোক। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদান চালিয়ে যেতে তারা সুপারিশ করছে। টিকা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, টিকা নেওয়া ব্যক্তির শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

অবাক মানুষ!
আমি তেমন স্মার্ট না। তাৎক্ষনিক বুদ্ধি আমার অনেক কম। কুইক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি আমি। কথার পিটে কথা আসে না। এই জন্য প্রায়ই আমি ভোম্বলদাশ হয়ে থাকি। ওয়ান টু ওয়ান আলোচনায় বসি না। এটা আমার উপলব্ধি। আমাকে আমার চেয়ে বেশি ভাল কেউ জানে না। আমি তেমন মেধাবীও না। মেধা বিকাশের সুযোগ আমি পাইনি। পুষ্টিকর খাবার না খেলে নাকি মেধা হয় না। সত্য কিনা জানি না। তাই আমার মেধা প্রি-ম্যাচিউরড টাইপ। আমি এখনও ইন্টারভিউ ফেস করতে ভয় পাই। আমার সব সময় মনে হয়, ইন্টারভিউতে আমি ফেল করব। আমি নতুন কোনো মানুষের সামনে যেতেও কুন্ঠিতবোধ করি।
আমি কানাডার ইমিগ্রেশনের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছি আমেরিকায় গিয়ে। নয়া দিল্লী থেকে ফাইল ট্রান্সফার করে আমেরিকা পাঠালাম। এটাকে সবাই দুঃসাহস বলেছিল। দুঃসাহসই বটে। নর্থ আমেরিকান ইংরেজি একসেন্ট কেমন জানা নাই, বুঝব কিনা তাও জানি না। সেটা ছিল ২০০৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। লসএঞ্জেলেস ডাউন টাউন। কানাডা কনস্যুলেট অফিস। বন্ধু পিয়াল ড্রপ করে দিয়ে চলে গেলো। আমি দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষা করছি। অন টাইমে আমার ডাক আসল। তখন আমি নার্ভাসনেসের কারনে বোধশূন্য হয়ে গেছি। একজন অতি রূপসী মেয়ে আমাকে প্রশ্ন করছিল। এমনিতে রূপসী তার উপর সাদা মানুষ। আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি যা উত্তর দিচ্ছি তা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা। গ্ল­াসের ওইপ্রান্ত থেকে প্রশ্ন করছিল। যেনো ভিনগ্রহের একজন মানুষ আমাকে প্রশ্ন করছে। আমি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেয়েও প্রশ্নকর্তাকে দেখছিলাম মুগ্ধ হয়ে।
ইন্টারভিউ শেষ হলো। এবার আমার কাছে জানতে চাইল, তোমার কোনো প্রশ্ন আছে!
আমি ভীত কন্ঠে বললাম, হ্যাঁ আছে।
সে বলল, কি প্রশ্ন বল।
আমি বললাম, আমি কি ইন্টারভিউতে পাশ করেছি!
আমি যদি ফেল মারি তাহলে সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে। আমেরিকা আসাই বৃথা হয়ে যাবে। আমি যে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকার প্ল­ান করেছি সেটাও নিরানন্দ হয়ে যাবে।
মেয়েটি স্নিগ্ধ হেসে বলল, হ্যাঁ তুমি পাশ।
আমি যখন অন্য কোনো দেশে যাই ইমিগ্রেশনের লোকেরা কিছু কমন প্রশ্ন করে। মাঝে মাঝে আমি বিশালদেহী অফিসারের মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। এই রকম গুরুত্বপূর্ণ সময়েও আমি অন্যমনষ্ক হয়ে যাই। যথাযথ উত্তর হয় কিনা তাও জানি না। আমি তাদের প্রশ্ন শুনতেই পাই না। কিন্তু আজ পর্যন্ত কখনো কোনো ইমগ্রেশনে আমাকে আটকায়নি।
আমি ঢাকায় মোট তিনটা চাকরির ইন্টারিভিউ দিয়েছি। প্রথম দুইটা ছিল যথাক্রমে বেক্সিমকো গ্রুপ ও প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। কমিউনিকেশনে। আর তৃতীয় ইন্টারভিউ ছিল মুন্নু গ্রুুপে। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ইন্টারভিউ নিয়েছিল ডা. ইকবাল। এমডি সম্ভবতঃ। বেক্সিমকোতে নিয়েছিল এনায়েত নামে একজন। সে ছিল পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান। মুন্নুতে যখন আমি সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠছিলাম ইন্টারভিউর জন্য তখন আমার অবচেতন মন বলছিল যে অফিসের সিঁড়ি এতো ঝকঝকে এবং ফুলের টব দিয়ে সাজানো সেখানে আমার চাকরি হবে না। চল্লিশ মিনিট ইন্টারভিউ হয়েছিল আমার। মুন্নুর গ্রুপের চেয়ারম্যান মহোদয় আমার ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন। অতি ভদ্রলোক। আমাকে চাও অফার করলেন। এলেবেলে সব উত্তর দিয়েছিলাম মনে আছে। প্রথম দ্ইুটায় আমি ডাক পাইনি। ইন্টারভিউ ছিল লোক দেখানো। কিন্তু যেটাতে আশা করিনি সেই মুন্নুতে আমার চাকরি হলো।
আমার যা কিছু প্রাপ্তি বা যাই ঘটে জীবনে সবই আকস্মিক। দৈবগুনে। কোনো কিছুর জন্যই কোনো পূর্ব প্রস্তুতি থাকে না। আমি আসলে প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দেই সবকিছু। পূর্বাপর পরিণতি না জেনেও আমি অনেক কিছু করি। আমি অনেকবার টিভিতে ইন্টারভিউ দিয়েছি বা মঞ্চে বক্তৃতা করেছি এবং প্রতিবার আমি লজ্জিতভাবে কাউকে না কাউকে জিজ্ঞেস করেছি আমি যা বলেছি তা কি কিছু হয়েছে! কারণ প্রস্তুতি নিয়ে আমি কিছু করতে পারিনা। সব গুলিয়ে ফেলি।
আমি একটু গুহামানব। ঘরের বার হয়ে আমি কখনো কিছু আয়োজন করতে পারি না। কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারি না। কোথা থেকে কিভাবে শুরু করতে হয় আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। ফোনালাপেও আমি তাই, পারদর্শী না। আমার বেশি কথা থাকে না। চমৎকার কথামালা দিয়ে কাউকে মুগ্ধ করার সবিশেষ গুনাবলী আমার নাই..।

মাস্ক বিভ্রাট, চেনা মুখ অচেনা!
নিতিশ তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দারাবাদের ছেলে। পঁচিশ বছরের যুবক। ২০১৯ এ আমি একবার হায়দারাবাদ গিয়েছি। আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আমাদের সাকিব আইপিএলে হায়দারাবাদে খেলে। ঐতিহাসিকভাবেই হায়দারাবাদ অনেক বিখ্যাত স্থান। ফিল্ম সিটি, টেকনোলজি সিটি সহ গোলকোন্ডা ফোর্ট, চারমিনার, মেক্কা মসজিদ ছাড়াও অনেক কিছুর জন্য বিখ্যাত হায়দারাবাদ। সবচেয়ে বড় হচ্ছে অর্ক বিয়ে করেছে হায়দারাবাদের অভিজাত মুসলিম ফ্যামিলির মেয়ে খাতিজাকে। নিতিশ হিন্দী বোঝে কিনা জানিনা তবে হায়দারাবাদের মানুষ উর্দু ভাল বোঝে। কিন্তু নিতিশকে আমি তেলেঙ্গানা ভাষায় কথা বলতে শুনেছি। সর্ব ভারতীয় কমিউনিকেশেনের ভাষা হচ্ছে ইংরেজি।
আমার অনেক ইন্ডিয়ান বন্ধু এবং সহকর্মী আছে। ভারতীয়দের দুটো জিনিস আমাকে মুগ্ধ করে, চোখে পানি এসে যায়, সেটা হচ্ছে তাদের দেশপ্রেম এবং গুনীজনের প্রতি সম্মান। এমনিতেই ইন্ডিয়ানরা জাতিগতভাবেই ট্যালেন্ট। দ্রুত যে কোনো কিছু আয়ত্ত করে ফেলে। ঠান্ডা মাথার এবং নির্ভরশীল। বহু বছর আগে আমার বস মি. এইচ আর খান বলেছিলেন, জসিম কোনো দিন যদি বিদেশে যাও চেষ্টা করবা ইন্ডিয়ানদের প্রতিবেশি হতে। কাকতলীয়ভাবে সত্যি সত্যি আমি বিদেশে এসে আমার প্রতিবেশি ইন্ডিয়ান পেয়েছি। একজন বয়স্ক দম্পতি থাকেন আমার নেক্সট ডোরে। আহমেদাবাদ রাজ্যের মানুষ। মূলতঃ গুজরাটের। জেসমিনের সেকেন্ড মা যেনো। যখন যা রান্না করেন পাঠিয়ে দেন।
নিতিশের সাথে কাজ করছি সাত আট মাস হবে। কিন্তু কখনো ওর ফেস দেখিনি। কারণ সবাই মাস্ক পড়ে থাকি। কেউ কাউকে দেখতে পাইনা। নতুন যারা কাজে জয়েন করেছে তাদের যদি মাস্ক ছাড়া দেখি চিনব না, আমাকেও চিনবে না কেউ। আমাদের বস এতোটাই চুপচুপ মানুষ যে কখনো এলে পুরনোরা ছাড়া নতুনরা তাকে হঠাৎ চিনতে পারে না। তিনিও মাস্ক পরে থাকেন বলে নতুনরা বুঝতেই পারে না বস তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। তিনিও কখনো জানান দেন না। মানুষটাই এমন। কোনো বসিং নাই, হম্বি তম্বি নাই। মানবিক মানুষ। হেসে কথা বলেন সবসময়।
এমনিতে আমি হঠাৎ কাউকে দেখে চিনতে পারি না। আমার মেমোরিতে পৌঁছাতে দেরি হয়। চেনা মানুষ সামনে দিয়ে হেঁটে যায় আমি অবাক হয়ে ভাবি কোথায় যেনো দেখেছি! এতো চেনা লাগছে! কিন্তু কখনো সামনে পড়ে গেলে আমি ভোম্বলদাশের মতো তাকিয়ে থাকি। চিনতে পারি না, নাম ভুলে যাই। অনেকেই অভিযোগ করেছে দেখেও না দেখার ভান করতেছো যে! তাই আমি পারতপক্ষে মানুষের সামনে যাই না। দূর থেকে কাউকে দেখলে এড়িয়ে যাই। আবার চিনলেও বাক্যের অভাব দেখা দেয়। কি কথা বলব! আমারতো বেশি কথা নাই। আমাকে কথা না বলতে বললে আমি খুশী। সবাই বলবে আমি শুনব। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।
মাস্ক এখন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মাস্ক পরে থাকতে থাকতে নিশ্বাস বন্ধ আসে আমার। তখন একটু বাইরে গিয়ে ফ্রেস বাতাস নিয়ে আসি। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক এখন দুই মিটারে সীমাবদ্ধ। হাত মেলোনো নাই, হাগ করা নাই, চুমু খাওয়া নাই। একটু পর পর হাত স্যানিটাইজ করতে হয়, প্রতিদিন টেম্পারেচার মাপতে হয়, যারা চশমা পরেন তাদের জন্য আরো ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে চশমা ফগি হয়ে যাওয়া। বাইরে ঠান্ডা, ঘরে হিটিং তাই এটা হয়।
আমাদের ঘরের দরজার সামনেই অন্ততঃ দশ প্রকারের কোভিড সুরক্ষার জিনিস এনে রেখেছে অরিত্রি। হ্য্যান্ড গ্ল­ভস পড়তে হয়। প্রতিদিন বাইরে থেকে এসেই কাপড় চোপড় দ্রুত ওয়াশিং মেশিনে ফেলতে হয়, ফেস ওয়াশ থেকে শুরু করে নানা রকম স্প্রে করতে হয়। পার্সেল বা চিঠিপত্র আসলে তিন দিন টাচ করা যাবে না। নগদ টাকা পয়সার কোনো লেনদেন নাই। অরিত্রির সর্বশেষ নির্দেশ হচ্ছে বাবা, বাইরে গেলে এখন থেকে দুটো মাস্ক পরবা, একটা ওয়াশেবল একটা ডিসপোসেবল।
হায় আল্লাহ আর কত কাল এমন চলবে!

কয়েকজন হারানো মানুষ, রোমাঞ্চকর শৈশবের দিনগুলি এবং..
ফেলে আসা দিনগুলিকে খুব মিস করি আমি। আমার শৈশব, কৈশোর আর তারুণ্যের দিনগুলোর কথা মনে করি। সেই জীবন যেমন অনেক সংগ্রাম মুখর ছিল তেমনি পুষ্পের ঘ্রানে ভরা ছিল, আনন্দের ছিল। স্বপ্ন কাজল মাখা ছিল সেই দিনগুলি। অভাব, অনটন, অপ্রাপ্তি আর টানাপোড়েন ছিল আবার অনেক মাধুর্য্য মাখা ছিল। সেই সব মায়ার কাজল পরানো দিনগুলোর কথা কখনো ভোলা যায় না। কৈশোর উত্তীর্ণ সময়টা আলো আঁধারিতে ভরা থাকে। শরীরে স্বেদ গন্ধ পাওয়া যায়। সে রকম বয়সে আমার বেশ কিছু মানুষের সাথে সখ্যতা হয়েছিল। নারী পুরুষ দুই ধরণের মানুষ। বন্ধুরাই আমার জীবনে সব। তারাই প্রেরনা, তারাই আমার জীবনকে বদলে দিয়েছিল। আজীবন বন্ধুরা আমাকে ভালবাসা দিয়েছে, প্রশ্রয় দিয়েছে, আনুকল্য দিয়েছে। আমার কষ্টের দিনে পরম মমতায় পাশে থেকেছে।
পরবর্তীকালে কেমন করে জানিনা অনেকের সাথেই বিচ্ছিন্নতা এসেছে। হতে পারে আমার ব্যস্ততা বা বিদেশ চলে আসার কারনে এমনটা হয়েছে। সব দোষ আমার। আবার তাদেরও দায় আছে। তবে আমার দিক থেকে চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল হয়নি। তাদেরকে খুঁজে বেড়াই আমি। এইসব মানুষেরা আমার জীবনে ভালবাসার ডালি নিয়ে এসেছিল। আমাকে আলোর পথ দেখিয়েছিল, ভালবাসা শিখিয়েছিল, বন্ধুত্ব আর প্রেমের স্বরূপ চিনেছিলাম। কখনো সেটা চিঠি পত্রের মাধ্যমে, কখনো ব্যাক্তিগতভাবে। আজকে যেটা ভার্চুয়াল সেটা একসময় ঘটত পত্রের মাধ্যমে। চিঠি পত্রের আবেদন আমার জীবন ব্যাপক ছিল।
সে সব বন্ধুর মধ্যে একজন ছিলেন মসিউর রহমান খোকন। সোনালি ব্যাংকে চাকরি করতেন এবং লেখালেখি করতেন নিয়মিত। আমার বিচিত্রায় সাংবাদিকতার শুরুর সময় তার অনেক সহযোগিতা আমি পেয়েছি। শামীম আজাদ জীবন ‘এখন যেমন’ বিভাগের জন্য রিডার্স ডাইজেষ্ট থেকে আর্টিকেল অনুবাদ করতে দিতেন আমাকে। আমি কোথাও আটকে গেলে খোকন ভাইর হেল্প নিতাম। তিনি সুন্দর মনের একজন মানুষ ছিলেন। ১৯৮০ সাল থেকে আমাদের বন্ধুত্ব। পত্রমিতালি দিয়ে শুরু। চমৎকার কথামালা দিয়ে চিঠি লিখতেন আমাকে। সেখান থেকে মাঝে মাঝে কোট করে অন্য বন্ধুদের লিখতাম আমি। জানি না কেনো হঠাৎ করেই তিনি সবার কাছ থেকে আড়ালে চলে গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নেই তিনি। কেউ যদি তার খোঁজ পান প্লিজ আমাকে জানাবেন। আমি তার কাছে একবার সরি বলতে চাই।
আমি তখন বরিশাল থাকি। পত্রিকায় চিঠিপত্র লিখি। পত্রমিতালী করি। তখন আরও কয়েকজনের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। তার মধ্যে রজনী নামে একজন ছিলেন। বিচিত্রায় ব্যাক্তিগত বিজ্ঞাপন লিখে সারা ফেলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ঢাকায় পড়তে আসার পর তার সাথে একবার দেখা হয়েছিল। রজনী ছিল তার ছদ্মনাম। এই নামে তাকে কেউ চিনত না। আমাকে একবার বাসায় ইনভাইট করেছিলেন। আজিমপুর থাকতেন। অপরূপা দেখতে ছিলেন। একদিন হঠাৎ আমেরিকার হাওয়াই থেকে তার একটা চিঠি আসল আমার কাছে, হাজবেন্ডর সাথে কয়েকটা ছবি সহ। তাও প্রায় তিরিশ বছর আগের কথা। কোনো ঠিকানা ছিল না চিঠিতে।
মহসিনও ছিল আমার পত্রবন্ধু। খুব সহজ সরল একজন মানুষ ছিল। মালিবাগে একটা ওষুধের দোকানে কাজ করত। দোকানটা ছিল মহসিনের আত্মীয়র এবং খুব চালু দোকান ছিল। আমাকে খুব মায়া করত। অমায়িক একটা হাসি ছিল মুখে সবসময়। কখনো রাগতে দেখিনি। একসাথে আবাহনীর খেলা দেখতে যেতাম আমরা ঢাকা স্টেডিয়ামে। তখন মাঝে মাঝে ঢাকা আসি সুপার লীগের খেলা দেখতে। খোকন ভাই তখন এসএম হলে থাকতেন। তার কাছেও থাকতাম। যখন নিজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, মহসিন হলে থাকি। সেসময়টা ছিল খুব টানাপোড়েনের। প্রায়ই খাওয়ার পয়সা থাকে না আমার। মহসিন আমাকে রেষ্টুরেন্টে মজার মজার খাবার খাওয়াত। সে নিজেও খেতে ভালবাসত। চটপটি ছিল তার খুব প্রিয়। অনেক পরে একদিন জানলাম মহসিন কাজ ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে!
জালালের সাথে পরিচয় আমার স্কুল বন্ধু রূপকের মাধ্যমে। নিউ মার্কেটে নলেজ ভিউ নামে একটা বনেদি বইয়ের দোকান ছিল। জালালের বড় ভাই ছিলেন দোকানের মালিক। খুব চালু দোকান। আমি সেখানে প্রায়ই যেতাম। হলে থাকি। কাছেই নিউমার্কেট। বই দেখতে যেতাম। এক পর্যায়ে জালালের সাথে এমনই বন্ধুত্ব হয়ে গেলো আমাকে এমনি এমনি বই দিত পড়তে। আমার পছন্দের বই নিয়ে আসতাম। বিয়ের পর যখন অর্ক হলো তখনও যেতাম। অর্ককে অনেক আদর করত। অর্ক দোকানে গিয়ে সব বই উল্টা পাল্টা করত, বিক্রী বন্ধ হয়ে যেতো কিন্তু জালাল কিছু বলত না।
অর্কর বই পড়ার অভ্যাস তৈরী হয়েছিল জালালের কারণে। অর্ককে গাদা গাদা শিশুতোষ বই দিয়ে দিত জালাল। একদিন নলেজ ভিউ ছেড়ে দিয়ে নিজেই বাংলাবাজারে জ্ঞান বিকাশ নামে একটা প্রকাশনী করেছিল। আমার দুটো বইও প্রকাশ করেছিল। সেটাও একদিন বন্ধ হয়ে গেলো। সেই থেকে জালালকে আর খুঁজে পাই না। এভাবেই আমি অনেক মহার্ঘ বন্ধু হারিয়েছি। তালিকা বেশ লম্বা হবে। এজন্য দায়ী আমি। আমি সহজে কিছু পাই না। আবার পেয়েও হারাই।
ফেলে আসা স্মৃতিগুলো আমাকে সবসময় আবেগ তাড়িত করে। স্মৃতি ছাড়া মানুষের আর কিছ নেই। রাতের গভীরে ঘুম ভেঙ্গে যায়, দু’চোখ জলে ভিজে উঠে। চোখের সামনে সিনেমার সেলুলয়েডের ফিতার মতো একটার পর একটা দৃশ্য ভেসে উঠে। কখনো মা সামনে এসে দাঁড়ায়। ঘুমের মধ্যে কিছুতেই মায়ের কন্ঠস্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। যেনো মা জসিম জসিম বলে ডাকছে। বরিশালের প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি রাস্তা ঘাট, প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, অলি, গলি, তার আনাচ কানাচ ,প্রতিটি মানুষ আমাকে শুধু পিছু টানে। পরিচিত, স্বল্প পরিচিত সব মানুষ সামনে এসে ভীড় করে। তখন অস্থির হয়ে উঠি। ঘুম আসে না। যারা চলে গেছেন তারাও সামনে এসে দাঁড়ায়। সাজু আসে, মৌরি আসে, আমার ভাইয়েরা, দুলা ভাই আরো অনেকে। আবার অনেক সুন্দর সুন্দর স্মৃতি মনকে আন্দোলিত করে। হারানো বন্ধুরা স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠে।
বরিশালেও আমার অনেক বন্ধু ছিল, পাড়ার বন্ধু ছিল,। স্কুল কলেজের অনেক বন্ধু, যাদের হারিয়ে ফেলেছি। নাসির ছিল ক্লাসের ফার্ষ্টবয়। আমাকে প্রথম উপন্যাস পড়তে দিয়েছিল নাসির। বইটির নাম ছিল আলাউদ্দিন আল আজাদের তৈইশ নম্বর তৈলচিত্র। আমরা খুব বই বিনিময় করতাম। স্কুলের সেই দুরন্ত দিনগুলোর বন্ধুদের কথা সহজে ভোলা যায় না। হুমায়ূন ছিল সেই বন্ধুদের একজন। আমার সাথে এমনই সখ্যতা ছিল যে একদিন ক্লাসে না আসলে আমাকে জবাবদিহি করতে হতো। আমার হাতে বেতের বারি পড়ত। টিচাররা মনে করত আমি জানি সে কোথায় আছে। হয়ত অই সময় হুমায়ূন খ্যাপে মারামারি করতে গেছে। আলেকান্দার ছেলে। মারামারিতে তখন বিখ্যাত বরিশালে।
বরিশালে আমাদের বাড়িটার কথা না বললেই নয়। খুব বৈচিত্রময় ছিল। বিশাল বড় ফ্যামিলি আমাদের। এতোটাই বড় যে চারটা ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। অনেক গাছগাছালি, ফলফলাদি গাছ, ঘন সবুজ বন জঙ্গল, বাঁশঝাড়। রাতে শেয়াল ডাকে, জোনাকি পোকারা টিপ টিপ আলো ফেলে, নিঝুম দুপরে যখন বাড়ির মহিলারা ভাতঘুম দেয় তখন ঝিঁ ঝিঁ পোকারা একটানা ডেকে যায়, ঘুঘুর মন কেমন করা ডাক শোনা যায়। পুকুর আছে দশ বারেটা, তাতে ভরভরন্ত পানি আর মাছেরা সাঁতার কাটে। অনেক মানুষ বাড়িতে। গোনাগুনতি নাই। আমিও তারমধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকি। জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই একলা, কালো জাম কুড়াই, ঢেকির শাঁক খুঁজি। কাটা ঘুড়ির পিছনে দৌঁড়াই। নানা অনুষ্ঠান হতো আমাদের বাড়িকে কেন্দ্র করে। আমরা কয়েকজন নেতৃত্ব দিতাম। আমার বড়রা বাৎসরিক নাটক করতেন মঞ্চ করে। সেটা ছিল একটা উৎসবের মতো।
শহরজুড়ে লোকজন ছুটে আসত নাটক দেখতে। আমরা রাতের পর রাত রিহার্সেল দেখতাম।
মল্লিক বাড়ির পুল ছিল বিখ্যাত। শহরের যে কোনো প্রান্ত থেকে রিক্সাওয়ালাকে বললেই নিয়ে আসত। নাটক ছাড়াও আমরা ফুটবল, হাডুডু, হকি টুর্নামেন্টের আয়োজন করতাম। শীতের বিকেলে আমাদের মাঠে নেট টাঙ্গিয়ে ভলিবল খেলা হতো এবং রাতে লাইট জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন। বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করতাম। ইকবাল পাঠাগার এন্ড ক্লাব ছিল আমাদের। রেজিস্টার্ড ক্লাব। ক্লাবের উদ্যোগেই এসব করতাম আমরা। এলাকার সববয়সী শিশু কিশোরদের এনগেজ রাখতাম খেলাধুলায়। কেরাম প্রতিযোগিতা হতো, বই পড়ার প্রতিযোগিতা করতাম। বাৎসরিক নৌকা বাইচ, সাঁতার, ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা পর্যন্ত হতো আমাদের পরিবারের উদ্যোগে। যাত্রাপালা হতো। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসত যাত্রাপালা দেখত। অনেক বড় বড় জাম গাছ ছিল আমাদের বাড়িতে। অত্র অঞ্চলের লোকজন জাম পেরে নিয়ে যেতো। ছিল লিচু, কুল, আমলকি, জলপাই, কামরাঙ্গা, ডউয়া, গাব, জাম্বুরা, আমলকি, সফেদা, নইল সহ নানা ফলের গাছ। আম কাঠাল তো ছিলই। এখন সে সব আর নেই তেমন। মানুষ গুলোই শুধু আছে কিন্তু সেই সুন্দর দিনগুলো আর নেই। এখন সবাই বৈষয়িক। টাকা পয়সা, ব্যবসা বাণিজ্য, কেরয়িার নিয়ে ব্যস্ত সবাই। মানিসক বিকাশের কোনো সুযোগ আর নেই। নেতৃত্বের অভাবে সব বন্ধ হয়ে গেছে। খালে বিলে ঝাপ দেওয়া নেই, পুলের গোড়ায় ছোট্ট টং রেষ্টুরেন্টে সকালে পরোটা আর ভাজি খাওয়া নেই, দুপুরে ডুবা তেলে ভাজা গুলগুল্লা খাওয়া নেই। সেই জাম গাছ নেই। পুকুরে সাঁতার কাটা নাই,
শেঁওলা জমে গেছে পুকুরে। খালগুলো মরে গেছে। সেই জোয়ারের ঘোলা পানির স্রোত নেই , খেলার মাঠে কেউ খেলতে নামে না, পাঠাগার বন্ধ হয়ে গেছে কবেই। এখন কেউ চিঠিও লেখে না। পত্রমিতালি নেই। ডাক পিয়নের সাইকেলের ঘন্টি বাজিয়ে চিঠি নিয়ে আসা নেই। নাটক নেই, ভলিবল খেলা নেই, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নেই, যাত্রাপালা নেই, নৈাকা বাইচ নেই। কারো হাতে বই নেই কিন্তু সবার হাতে আছে মোবাইল।
এসবের মধ্যেই আমি বেড়ে উঠেছিলাম। আমার শৈশব আর কৈশোর কেটেছিল। বরিশালের অপরূপ নৈসগ্র্, সবুজ প্রকৃতির মধ্যে আমার বেড়ে ওঠা। কৈশোরে আমি অনেক দুরন্ত প্রকৃতির ছিলাম। আমার দূরন্তপনার জন্য আমার মাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। বাড়ির অন্যদের আমার সাথে মিশতে দিত না যদি নষ্ট হয়ে যায়! আমি রাস্তার ছেলেদের সাথে চারা খেলতাম, মার্বেল খেলতাম, স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখতাম, গাছে চরতাম, সাইকেলের রিং চালাতাম, ঘুড়ি ওড়াতাম, সাইকেল চালিয়ে শহর দাপরে বেড়াতাম। মেডিক্যাল কলেজ কলোনিতে ডাক্তারদের সুন্দরী কন্যাদের দেখতে যেতাম।
আমি ছিলাম প্রথাবিরোধী এক কিশোর। আমাদের পরিবারটি ছিল একটু সামন্তবাদী। আমি ওসবের তোয়াক্কা করতাম না। তাই একটু বড় হয়ে যখন আমার তেরো চৌদ্দ বছর বয়স আমি আকস্মিক নির্জন হয়ে গিয়েছিলাম। দলছুট হয়ে গেছিলাম। প্রকৃতির সাথে সখ্যতা গড়ে তুললাম। গাছেদের সাথে, পোকামাকরের সাথে, কীট পতঙ্গের সাথে আমার বন্ধুত্ব হলো। আমার ভিতরে এক অন্য আমির আবির্ভাব ঘটেছিল। আমার মা, আমার খেলার সাথীরা অবাক হয়েছিল। তখন আমি বইয়ের জগতে নিজেকে খুঁজতে শুরু করি। সেই খোঁজা আজও শেষ হয়নি।
মার্চ ১৭, টরন্টো, কানাডা
জসিম মল্লিক, সাংবাদিক ও লেখক।