পায়ের পেশি সচল না রাখলে আয়ু কমে যায়!
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ : এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে কোন বয়সের মানুষই যদি টানা দুই সপ্তাহ নিষ্ক্রিয় থাকেন, হাটাচলা না করেন তবে তারা তাদের পায়ের পেশির প্রায় এক-চতুর্থাংশ শক্তি হারিয়ে ফেলেন। আর এর ফলাফল? শরীরকে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বুড়িয়ে দিতে পারে! ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার বরাত দিয়ে নিউজ২৪বিডি.টিভি জানায় পিলে চমকানো এই তথ্য।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হয়। মূলত বার্ধক্যকে জয় করার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে মানুষের দুই পায়েই। আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বলছে, দীর্ঘায়ুর সবচেয়ে বড় নির্দেশক হলো শক্তিশালী পায়ের পেশি। গবেষণায় আরও বলা হয়, একবার পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে পড়লে পরবর্তীতে চিকিৎসা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে সেই শক্তি ফিরে পাওয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন হয়ে দাঁড়ায় মানুষের জন্য।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, মানুষের বার্ধক্য শুরু হয় মূলত পা থেকে এবং তা ধীরে ধীরে ওপরের দিকে অগ্রসর হয়। একই সাথে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হতে থাকায় বয়স্কদের হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, থাই বা উরুর হাড় ভাঙার কারণে ১৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষ এক বছরের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকরা জানান, এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য নিয়মিত হাঁটা এবং ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। এটিকে কোনো সাময়িক অভ্যাস হিসাবে নয় বরং সুস্বাস্থ্যের জন্য সারা জীবনের একটি অভ্যাস হিসাবে গ্রহণ করা উচিৎ। মানুষের শরীর চলার জন্য। স্থবির হয়ে বসে থাকার জন্য নয়। পা সচল থাকলে শরীরে প্রাণের স্পন্দনও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
