ফুলেল শ্রদ্ধায় টরন্টোতে পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

প্রবাসী কণ্ঠ, ২১ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২৬ : আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিটে টরন্টোর বাঙালি পাড়ায় অবস্থিত ডেন্টোনিয়া পার্কে নির্মিত স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধায় শুরু হয় দিবসটির কার্যক্রম। প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের প্রতি। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল এর পক্ষ থেকেও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম, কানাডা’র পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় ।
ছবি : আব্দুল হালিম মিয়ার ফেসবুক থেকে নেওয়া

ভাষাশহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান কানাডার মূলধারার রাজনীতিকগণও। এদের মধ্য ছিলেন অন্টারিও এনডিপি’র শীর্ষ নেতা ও প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা মেরিট স্টাইলস, মেগা সিটি টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও, বাঙালি অধ্যুষিত বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এলাকার ফেডারেল ফেডারেল এমপি নেথানিয়েল আরস্কিন স্মিথ, এমপিপি মেরী মার্গারেট ও সাবেক এমপিপি ডলি বেগম। ডলি বেগম বাঙ্গালী অধ্যুষিত স্কারবরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং এর এমপিপি ছিলেন এবং অন্টারিও এনডিপি’র ডেপুটি লিডারও ছিলেন। বর্তমানে তিনি একই রাইডিং থেকে ফেডারেল এমপি প্রার্থ।

একুশের প্রথম প্রহরে উপস্থিত থেকে মূলধারার রাজনীতিকদের মধ্যে আরও যাঁরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তাঁরা হলেন, সিটি অফ টরন্টো ‘র কাউন্সিলার ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড, পার্থি কান্দাভেল প্রমুখ। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্কারবরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং থেকে কনজার্ভেটিভ পার্টির এপি প্রার্থী ডাঃ এএসএম নূরুল্লাহ তরুণও।

বরাবরের মতো এ বছরও একুশের প্রাতে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না। দিন কতক আগে রেকর্ড ভঙ্গকারী তুষারপাতের কারণে শহীদ মিনার চত্বরে ছিল তুষারের বিশাল স্তুপ। তাপমাত্রা ছিল মাইনাস দশ এর মতো। কিন্তু তাতেও দমে থাকেনি ভাষা শহীদের প্রতি প্রবাসী বাঙালির শ্রদ্ধা নিবেদনের আকুলতা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বিপুল সংখ্যক টরন্টো প্রবাসী বাংলাদেশি। তাঁদের ফুলেল শ্রদ্ধায় ছেয়ে গেছে শহীদ মিনারের বেদি।

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে কানাডার জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিল পাস হয়। তারও আগে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন কানাডা প্রবাসী মরহুম রফিকুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক পান।  একই সঙ্গে এই পদক পান আরেক অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী আবদুস সালামও।

২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর কানাডার ভ্যাঙ্কুভার হাসপাতালে রফিকুল ইসলাম শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১২ হাজার মাইল দূরে থেকেও দেশপ্রেমিক এই দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম বাংলা ভাষা, শহীদ দিবস, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন কোনো কিছুকেই ভুলতে পারেননি। তাঁরা সবসময় ভাবতেন আমাদের মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারিকে কিভাবে বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়ে দেয়া যায়। এই ভাবনা থেকেই ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন এই দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের ঐ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আর ২০০০ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের বুকে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ একটি বিশেষ দিবস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *