গাজায় গণহত্যা চালানোর পর এবার গড়ে তোলা হচ্ছে বিলাসবহুল পর্যটন শহর

ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। ছবি : মাহমুদ ইসা/রয়টার্স

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬ : ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের পাহাড়ে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ৫ কোটি টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ। যা সরাতে সময় লাগবে প্রায় ২১ বছর। আর ব্যয় হবে ৫০ কোটি ডলার। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। তবে এটি পুরানো খবর। নতুন খবর হলো, সেই মৃত্যু উপত্যক্যায় হামলাকারী ও তাদের দোসরদের উদ্যোগে এবার নাকি গড়ে তোলা হবে বিনোদনের মন মাতানো পর্যটন শহর ও একটি আধুনিক শহর। এই ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে ঘিরে এক মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমাদের একটি মাস্টারপ্ল্যান আছে।’ এবিসি নিউজের বরাত দিয়ে বাংলাভিশন এই খবর জানায়।

কুশনার আরও জানান, এই মাস্টারপ্লানে রয়েছে উপকূলীয় পর্যটন অঞ্চল, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, দুটি নতুন শহর, ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো।

নামও ঠিক করে ফেলা হয়েছে নতুন দুটি শহরের। এর একটি হবে ‘নিউ রাফা’ এবং অন্যটি হবে ‘নিউ গাজা’। নিউ রাফায় এক লাখের বেশি আবাসিক ইউনিট তৈরি করা হবে। ২০০টির বেশি স্কুল নির্মান করা হবে। থাকবে অন্তত ৭৫টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। অন্যদিকে ‘নিউ গাজা’ হবে একটি শিল্পনগরী। গাজার সমুদ্র উপকূলে বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক এই পর্যটন শহরে থাকবে আকাশচুম্বী সব হোটেল। তবে বিশ্লেষকরা এই পরিকল্পনাকে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। মানবাধিকার সংগঠন ইউরো-মেডিটেরানিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রামি আবদু এই পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনিদের স্বকীয়তা মুছে ফেলার নকশা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *