অন্টারিওতে মহিলা ডাক্তাররা পুরুষ ডাক্তারদের তুলনায় রোগীদেরকে বেশি সময় দেন
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ১8 জানুয়ারি, ২০২৬ : অন্টারিওতে মহিলা পারিবারিক চিকিৎসকরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় রোগীদের সাথে একই বেতনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি সময় ব্যয় করেন। নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিবিসি নিউজের।
অন্টারিও মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন গত মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় তারা প্রদেশ জুড়ে সক্রিয় অনুশীলনে থাকা ১,০৫৫ জন পারিবারিক চিকিৎসকের উপর জরিপ চালিয়েছে। এবং ঐ জরিপে দেখা গেছে যে, মহিলা পারিবারিক ডাক্তাররা প্রায় সমস্ত সাধারণ রোগীদেরকে প্রতি অ্যাপয়েন্টমেন্টে পুরুষ ডাক্তারদের তুলনায় প্রায় চার মিনিট বেশি সময় দেন।

গবেষণার অন্যতম লেখক বরিস ক্রালজ বুধবার সিবিসি টরন্টোকে বলেন, “একজন মহিলা চিকিৎসককে একই আয় পেতে একজন পুরুষ চিকিৎসকের তুলনায় দুই ঘণ্টা বেশি কাজ করতে হয়। আর এর ফলে স্পষ্টতই অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং ক্লান্তি দেখা দেয়।”
গবেষণায় চিকিৎসা খাতের মোট ২০টি পরিষেবা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। বিশ্লেষণে দেখা গেছে একমাত্র পাপানিকোলাউ (Papanicolaou) পরীক্ষার বেলায়, (যা একটি স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষার অংশ) মহিলা এবং পুরুষ পারিবারিক ডাক্তারগণ একই পরিমাণ সময় ব্যয় করেছেন।
গবেষক ক্রালজ বলেন, মহিলা চিকিৎসকদের মধ্যে সহানুভূতিশীল যোগাযোগের ধরণ বেশি থাকে যা রোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরিতে সাহায্য করে।
সেন্ট মাইকেল হাসপাতালের পারিবারিক চিকিৎসক এবং গবেষণা বিজ্ঞানী ডাঃ তারা কিরণ বলেন, চিকিৎসকের জেন্ডারের উপর নির্ভর করে রোগীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা থাকে।
ডাঃ তারা কিরণ আরও বলেন, “মহিলা রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায়শই দেখা যায়, তারা আসলে এমন কাউকে খুঁজেন যিনি তাদের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতিশীল হবেন এবং তাদেরকে আরও বেশি সময় দিবেন। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসাবে মানসিক সমর্থন প্রদানের কথা উল্লেখ করা যায়।”
তিনি বলেন, “আমরা অন্যান্য গবেষণায়ও দেখেছি যে, মহিলা ডাক্তার কর্তৃক চিকিৎসা ও সামাজিকভাবে জটিল রোগীদের যত্ন নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
‘ঔষধ শুধু বড়ি আকারে আসে না’
টরন্টোর পারিবারিক চিকিৎসক এবং ক্লিনিক্যাল গবেষক ডঃ আইরিস গরফিনকেল বলেন যে মানসিক সমর্থন প্রায়শই আসে চিকিৎসকের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা থেকে, ইতিবাচক কথা থেকে, হাত ধরা থেকে এবং আই কন্টাক্ট এর মাধ্যমে।
আইরিস বলেন, “রোগীর প্রতি চিকিৎসকের এই ব্যবহার একটা বিরাট পার্থক্য তৈরি করে। তাই আমাদের এমন ব্যবস্থা দরকার যা সেই প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দেয়।”
গরফিঙ্কেলের কাছে, প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি অপ্রচলিত পদ্ধতিগুলির মতোই গুরুত্বপূর্ণ যেখানে মহিলা চিকিৎসকরা তাদের রোগীদের কথা শুনেছেন মনোযোগ দিয়ে এবং তাদের যত্ন নিচ্ছেন আন্তরিকতার সাথে।
তিনি বললেন, “ওষুধটি কেবল বড়ি বা অস্ত্রোপচারের আকারে আসে না। এটি সেই সংযোগ ও যত্নের সাথেও আসে। আর রোগীদের সাথে সময় কাটানোর জন্য আমার কোনও অনুশোচনা নেই। আমার যে অনুশোচনা তা হল আমি তাদের সাথে সময় কাটাতে পারি না।”
কিরণ বলেন, মহিলা ডাক্তারদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সত্ত্বেও, মজুরির ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য এখনও একটি সমস্যা।
