কানাডায় মানব পাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই নারী ও মেয়েশিশু

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ :  গত এক দশকে কানাডায় মানব পাচারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই মানব পাচারের ঘটনাসমূহের অর্ধেকেরও বেশি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। কোন সুরাহা করতে পারেনি তারা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক তথ্যে এ কথা বলা হয়েছিল। খবর গ্লোবাল নিউজের। 

ইতিমধ্যে এক বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু মানব পাচার পরিস্থিতির কোন উন্নতি ঘটেনি। চলতি ডিসেম্বর মাসের ৮ তারিখে প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিকস কানাডার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয়ভাবে মানব পাচারের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে ১০ বছরের সময়কালের মধ্যে পুলিশ ৫,০৭০টি মানব পাচারের ঘটনা রিপোর্ট করেছে – যা প্রতি ১০০,০০০ জনে বার্ষিক গড়ে ১.২টি ঘটনা। আর ২০২৪ সালে জাতীয় গড় ছিল ১.৫ যেখানে ৬০৮টি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।

২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই (৯৩ শতাংশ) ছিল নারী ও মেয়েশিশু। ছবি : কানাডা.সিএ

আর দেখা গেছে, কানাডার পুলিশ কর্তৃক রিপোর্ট করা মানব পাচারের সর্বোচ্চ হার নোভা স্কোশিয়ায় অব্যাহত রয়েছে। এই প্রদেশটিতে ১০ বছরের সময়সীমার মধ্যে  মানব পাচারের গড় হার ছিল প্রতি ১০০,০০০ জনে ৪.১ জন। অর্থাৎ মোট ৪৫২টি মানব পাচারের ঘটনা। শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই এই হার ছিল ৪.৫। সংখ্যার হিসাবে মোট ৪৮টি ঘটনা।

চলতি বছর, তিনটি মেরিটাইম প্রদেশ (New Brunswick, Nova Scotia, and Prince Edward Island ) এবং অন্টারিওতে মানব পাচারের হার জাতীয় গড়ের চেয়েও বেশি বেড়েছে। এই বৃদ্ধি প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড এবং নিউ ব্রান্সউইক যথাক্রমে ২.৮ এবং ২.০ তে পৌঁছেছে, অন্যদিকে অন্টারিওতে প্রতি ১০০,০০০ জনে ২.৩ টি ঘটনা ঘটেছে।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডার মতে মানব পাচার একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন যা কেবল একটি ঘরোয়া সমস্যা নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবেও ঘটে। বলপ্রয়োগ, প্রতারণা বা অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করে মানব পাচারের ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডা আরও যোগ করে যে, এই মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা সাধারণত যৌন শোষণের শিকার হন বা বাধ্যততামূলকভাবে শ্রম বিক্রি করে থাকেন। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, বেশিরভাগ ভুক্তভোগী হলেন মহিলা এবং মেয়েশিশু, অন্যদিকে অভিযুক্তদের বেশিরভাগই পুরুষ এবং ছেলে।

Canadian Centre to End Human Trafficking -এর নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া ড্রাইডিক বলেন, “স্ট্যাটিসটিক্স কানাডা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য এবং কানাডিয়ান হিউম্যান ট্র্যাফিকিং হটলাইনের তথ্যগুলো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। আমরা অনুমান করি যে মানব পাচার থেকে বেঁচে যাওয়া ১০ শতাংশেরও কম মানুষ তাদের ভোগান্তির কথা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছুক।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই (৯৩ শতাংশ) ছিল নারী ও মেয়েশিশু। আর এদের দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ২৫ বছরের কম বলে জানা গেছে। এই মানব পাচারের মামলায় অভিযুক্তদের ৮২ শতাংশ ছিল পুরুষ ও ছেলে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায় যে, পাচারের শিকার নারী ও কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে ৩৬ শতাংশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল অভিযুক্ত পাচারকারীর সাথে। অন্যদিকে পাচার হওয়া ৪৬ শতাংশ পুরুষ ও ছেলের বেলায় অভিযুক্তের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।

স্ট্যাটক্যান এর মতে সরকারী এই পরিসংখ্যান কানাডায় মানব পাচারের “আংশিক চিত্র” তুলে ধরছে মাত্র। কারণ এই ধরনের অপরাধ গোপনে করা হয় এবং কম রিপোর্ট করা হয়।