কানাডায় বার্থ ট্যুরিজম আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ :  সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কানাডায় বার্থ ট্যুরিজমের হার আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর সময় এটি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। খবর সিটিভি নিউজের।

এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে কানাডিয়ান হাসপাতালগুলিতে নন-ইমিগ্রেন্ট বা নন-কানাডিয়ান নারীদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে বিদেশী কর্মী এবং শিক্ষার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

কানাডায় বার্থ ট্যুরিজমের হার আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দেশের মোট জন্মের সংখ্যার তুলনায় নন-ইমিগ্রেন্ট বা নন-কানাডিয়ান নারীদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা কম, যা ২০১০ সাল থেকে দুই শতাংশের নিচে।

জন্মগত নাগরিকত্বের পেছনের রাজনীতি

রক্ষণশীল অভিবাসন সমালোচক মিশেল রেম্পেল গার্নার ইতিপূর্বে বিল সি-৩ সংশোধনের চেষ্টা করেছিলেন যাতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার কেবলমাত্র সেইসব শিশুদের জন্য সীমাবদ্ধ করা যায় যার পিতা-মাতার মধ্যে কমপক্ষে একজন কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা। এই সংশোধনীটি লিবারেল পার্টি এবং ব্লক কুইবেকোয়া’র এমপিরা ভোট দিয়ে বাতিল করে দেন।

কানাডায় জন্মগত নাগরিকত্ব এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং বিল সি-৩ এর অধীনে নাগরিকত্বের পথ সম্প্রসারিত হয়েছে। তথাকথিত ” lost Canadians”-দের বেলায় এখন নাগরিকত্ব পাওয়ার সহজ পথ হয়েছে। তারা যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক যদি তাদের বাবা-মা কানাডায় তিন বছর কাটিয়ে থাকেন তবে তাদের সন্তানরা কানাডার নাগরিকত্ব পাবেন।

নতুন আইনের অধীনে, বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কানাডিয়ানদের সন্তানরা, এবং সেই সন্তানদের সন্তানেরাও কানাডার নাগরিকত্ব দাবি করতে পারবেন। এর অর্থ হল, কানাডিয়ানদের নাতি-নাতনিরা এখন থেকে নাগরিকত্বের অধিকারী হবেন যদি তাদের পূর্ব প্রজন্ম কানাডায় তিন বছর কাটিয়ে থাকেন।

প্রতিবেদনের লেখক অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ বৃহস্পতিবার CTVNews.ca-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, অনাবাসিক জন্মের হার মহামারীর আগের স্তরে ফিরে আসছে। যদিও তথ্য অনুযায়ী ২০২১-২৪ সালের মধ্যে অনাবাসিক জন্মের হার দ্বিগুণেরও বেশি, যা ২,২৪৫ থেকে ৫,৪৩০-এ পৌঁছেছে, গ্রিফিথস এতে উদ্বিগ্ন নন।

তবে তার পরিবর্তে, গ্রিফিথস তার “প্রধান উদ্বেগের” কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন “সরকারের উপর, সেইসাথে অভিবাসীদের উপর জনসাধারণের আস্থার অভাব।”

গত বছর, বার্তা সংস্থা রয়টার্স কানাডায় দৃশ্যমান সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধের বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মাইগ্রেন্ট কর্মীরা “ভয়াবহ নির্যাতন এবং বৈষম্যের” সম্মুখীন হচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯-২০২০ সালের মধ্যে অনাবাসী মোট জন্মের হার ১.৬ শতাংশ থেকে ২০২০-২২ সালের মধ্যে ০.৭ শতাংশে নেমে এসেছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে তা আবার ১.৫ শতাংশে ফিরে এসেছে।

মহামারীর বছরগুলিতে অনাবাসিক জন্মের হার ৫০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছিল। মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালে প্রায় ৫,৭০০ নবজাতক রেকর্ড করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ এবং ২০২১ সালে যথাক্রমে মাত্র ২,৪০০ এবং ২,২০০ জন নবজাতক জন্মগ্রহণ করেছিল অনাবাসিক পরিবারে। অনাবাসিক জন্মের ক্ষেত্রে অন্টারিও এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কুইবেক। আর ব্রিটিশ কলম্বিয়া এবং আলবার্টা রয়েছে যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে।