টরন্টোতে কন্ঠশিল্পী মোর্তজা শোয়েব এর গজল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

“ঝিঙে বেচো পাঁচ সিকেতে, হাজার টাকায় সোনা
ঝিঙে বেচো পাঁচ সিকেতে, হাজার টাকায় সোনা
বন্ধু তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন বেচো না” – প্রতুল মুখোপাধ্যায় এর গান।

কন্ঠশিল্পী শোয়েব মোর্তজা যেনবা এই গানের বানী ধারণ করে ধীরে ধীরে তার স্বপ্নের দিকে নিরলসভাবে এগিয়ে চলেছেন, ক্লান্তহীন দিনের পর দিন। তার এই স্বপ্নটা হলো টরন্টোর সবচেয়ে বড় মঞ্চে গজল সন্ধ্যা আয়োজন করবার। ইচ্ছে তার রয় থমসন হলে হবে তার গজল সন্ধ্যা। পেশায় দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হয়েও শয়নে স্বপনে সঙ্গীত নিয়ে থাকেন তিনি। শোয়েব ইতিমধ্যে আগা খান মিউজিয়াম, চাইনিজ কালচারাল সেন্টার অডিটোরিয়ামে সাফল্যজনক অনুষ্ঠান করেছেন। এছাড়াও অনেক ঘরোয়া মাহফিল করে শ্রোতার হৃদয় জয় করেছেন। তিনি কলকাতার একটি সাংস্কৃতিক দলের লিড ভোকালিস্ট হিসেবে ছিলেন। তার কনসার্টের রেকর্ডকৃত অংশ এটিএন, সনি টিভিতে প্রায় ৪ বছর সম্প্রচার করেছে। আদাব টিভিতে গান প্রচারিত হয় অনেকবার। এছাড়াও শোয়েব নিজে সামাজিক মাধ্যমে নিজের গান নিয়মিত সংযুক্ত করে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব উপস্থিতির কারণে টরন্টো শহরে ও তার বাইরেও উত্তরোত্তর তার জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে। 

সাত আট বছর বয়স থেকে গজল এর প্রতি ভালোবাসা, এই ভালোবাসা থেকে পরিবেশন করার মধ্যদিয়ে প্রায় কয়েক যুগ ধরে গজল শেখা এবং গজলের অনুষ্ঠান করে আসছেন। তিনি প্রতিনিয়ত গজলের উপর গবেষণা এবং শিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী শোয়েব মোর্তজা এর একক গজল সন্ধ্যা হয়ে গেল ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ টরন্টোস্থ আগা খান মিউজিয়াম অডিটোরিয়ামে।

মিলনায়তনপূর্ণ দর্শকশ্রোতারা একরাশ মন্ত্রমুগ্ধতায় প্রায় তিন ঘন্টার অধিক সময় ধরে গজল সন্ধ্যাটি উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে দ্বৈত সঙ্গীতে ছিলেন কণ্ঠশিল্পী রওনক হাসান। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন তবলায় ডেরিক জাইকরণ এবং সজল রায়, গিটারে মীর আলী, বাঁশিতে ভাসু বিস্ট, বেজ গিটারে জ্যাকব থমাস, অক্টোপেডে সুরেশ শ্রীভাস্কর।

আকতার আজাদ এর ‘আল্লাহ জানতা হ্যায়’ সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে একের পর এক জনপ্রিয় গজল পরিবেশন করেন শোয়েব। প্রতিটি গজলের ফাঁকে ফাঁকে কন্ঠশিল্পী গজল নিয়ে তার স্বপ্নের কথা, যন্ত্রশিল্পীদের সাথে মহড়ার নেপথ্যের গল্প, সহধর্মিণী লিসা মোর্তজা এর অবদানের কথা তুলে ধরেন।

অসাধারণ নির্মেদ উপস্থাপনা করেন পীযুস শ্রীবাস্তব। তিনি বাবা-কে নিয়ে একটি অসাধারণ কবিতাও আবৃত্তি করেন।

আদিতে অনুষ্ঠান শুরু করেন শোয়েব এবং লিসার দম্পতির কন্যাদ্বয় ইকরা মোর্তজা এবং আয়েশা মোর্তজা। মিষ্টি হেসে দুই বোন দর্শকশ্রোতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপস্থাপকের হাতে অনুষ্ঠানের জিয়ন কাঠি তুলে দেন।

সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় কেটে যায় তিনের অধিক সময়। এমনকি শেষ সঙ্গীতটি ঘোষনা দিয়ে শেষ করার পর হলভর্তি দর্শকশ্রোতা যখন দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছিলো তখন গিটারিস্ট মীর আলীর অনুরোধে কন্ঠশিল্পী শোয়েবকে আরও একটি সঙ্গীত পরিবেশন করতে হয়।

স্রষ্টার প্রশংসা জানিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয় আবার শেষটা হয় সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা দিয়ে, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে।

মুগ্ধ শ্রোতারা যেতে যেতে আশীর্বাদ করেন শিল্পীকে। জানান দেন, আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখবে তারা, যেন আসছে বছর আরেকটি গজল সন্ধ্যা আয়োজন করেন লিসা কিংবা ওরা। ওরা মানে তারা, আজ সফল করলো যারা।

আহমেদ হোসেন

টরন্টো