সন্ত্রাসবাদী হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে উদীচী কানাডার প্রতিবাদ

উদীচী’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ছবি: উদীচী’র সৌজন্যে (via Prothom Alo)

উদীচী, ছায়ানট, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার সহ সারাদেশে সন্ত্রাসবাদী হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদীচী কানাডা তীব্র প্রতিবাদ, ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
উদীচী ও  ছায়ানট ভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কেবল একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, এটি বাংলাদেশের মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখনই সমাজে অন্ধকার ঘনীভূত হয়, তখনই প্রথম নিশানা হয় সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল কণ্ঠস্বর।
ছায়ানট বা উদীচী কোনো বিচ্ছিন্ন সংগঠন নয়। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ—সবখানেই এদের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলার ওপর হামলা মানে কেবল একটি ভবনে আগুন নয়; এটি একটি আদর্শকে ভয় দেখানোর অপচেষ্টা।
দুঃখজনক হলো, এই ঘটনা নতুন নয়, এই ঘটনা বারবার দেখা যাচ্ছে—হামলাকারীরা বদলায়, কিন্তু লক্ষ্যবস্তু একই থাকে, সংস্কৃতি, যুক্তি ও মানবিকতা।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই হামলা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। যখন মতপ্রকাশ সংকুচিত হয়, যখন সহনশীলতার জায়গা সঙ্কুচিত হতে থাকে, তখনই সহিংসতা সাংস্কৃতিক পরিসরে ঢুকে পড়ে। প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র ও সমাজ কি আবারও নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে?
এই ঘটনায় শুধু দোষীদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান যেখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, শিল্প ও ভিন্নমতের জায়গা নিরাপদ থাকবে। নচেৎ আমরা এমন এক সমাজের দিকে এগোব, যেখানে গান, নাটক, কবিতার চেয়ে আগুন আর হুমকিই বেশি উচ্চকণ্ঠ হবে।
উদীচী ও ছায়ানটের ওপর হামলা আমাদের সবাইকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় l আমরা কি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সংস্কৃতি চর্চা অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়? যদি না চাই, তবে আসুন এই মুহূর্তেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ধ্বংসের মৌলবাদী এই ষড়যন্ত্রকে রুখে দাড়াই।
এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই জিততে হবে। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি