কানাডায় এলডার এবিউজ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে

প্রবাসী কণ্ঠ , নভেম্বর ১০ ২০২৫ : কানাডায় এলডার এবিউজ বা বয়স্কদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই তথ্য প্রকাশ করে স্ট্যাটিসটিকস কানাডা। খবর সিবিসি নিউজের।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডার প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সাল থেকে দেশব্যাপী বয়স্কদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার হার ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বছর বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রায়শই তাদের সন্তানের হাতে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। হিসাবে দেখা গেছে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন স্বামী/স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যের দ্বারা শিকার হয়েছিলেন।

পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪ সালে দেশব্যাপী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭,৬২২ জন বয়স্ক ব্যক্তি।

কানাডায় বয়স্কদের উপর নির্যাতনের বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বার্নাবির সাইমন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যার অধ্যাপক আলেকজান্দ্রা লিসোভা সিবিসিকে বলেন, ‘বয়স্কদের উপর নির্যাতনের বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। অবশ্য তিনি এটিও জানান যে অন্যান্য বয়সীদের তুলনায় বয়স্কদের প্রতি নির্যাতনের সামগ্রিক প্রবণতা কম।’

সাইমন ফ্রেজার বলেন, ‘তবে বয়স্ক ব্যক্তিরা পরিবারের ছোট সদস্যদের তুলনায় কম নির্যাতিত হলেও এ কথা মনে রাখতে হবে যে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের সামগ্রিক জনসংখ্যা কানাডায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সে কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরা যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সেটি গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘বয়স্কদের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে তাদের জ্ঞানীয় শক্তির ক্ষয় বা হ্রাস এবং শারীরিক দুর্বলতা। এ ছাড়াও যে সকল বৃদ্ধ ব্যক্তি অন্যান্য অনেক স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সমস্যার সম্মুখীন হন তাদের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।‘

সাইমন ফ্রেজারের মতে, ‘পুলিশ নির্যাতনের যে রিপোর্ট প্রকাশ করে বা করেছে তার মধ্য সকল ঘটনা উঠে আসে না। কারণ, নির্যাতনের শিকার সবাই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে আসেন না পুলিশের কাছে। ফলে ঘটে যাওয়া সমস্ত নির্যাতনের ঘটনা পুলিশের রিপোর্টে প্রকাশ পায় না। আমরা নির্যাতনের যে ঘটনাগুলো দেখছি তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।’

ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় নির্যাতনের অভিযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৫ শতাংশ

ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় Seniors First B.C. এর হটলাইনে নির্যাতনের অভিযোগ করার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। Seniors First এর নির্বাহী পরিচালক এবং এই সংগঠনের আইনজীবী ম্যারি-নোয়েল ক্যাম্পবেলের তথ্য মতে ২০১৯ সাল থেকে বয়স্কদের প্রতি শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (১৪৫টি থেকে ২৬৮টিতে)।

আর্থিক নির্যাতনের জন্য অভিযোগের মাত্রা ৪৩ শতাংশ বেড়ে ১,৪১০টিতে দাঁড়িয়েছে এবং মানসিক নির্যাতনের জন্য অভিযোগের মাত্রা ২৪ শতাংশ বেড়ে ১,৪২০টিতে পৌঁছেছে।

ক্যাম্পবেল সিবিসিকে বলেন, ‘স্ট্যাটিসটিকস কানাডার নতুন রিপোর্টটি উদ্বেগজনক কিন্তু অবাক করার মতো নয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে মাসের পর মাস বয়স্কদের প্রতি শারীরিক আক্রমণ এবং সহিংসতা কোভিড-পূর্ববর্তী সময়ের থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সহিংসতার মধ্যে আছে বয়স্কদের প্রতি রূঢ় আচরণ বা তাদেরকে শায়েস্তা করার জন্য শক্ত হাতে চেপে ধরা।’

তিনি আরো বলেন, “আমি এমন কিছু অতি বেদনাদায়ক ঘটনার বর্ণনা শুনেছি যেখানে সন্তানরা তাদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

Seniors First B.C. এর তথ্যমতে ২০২০ সালে তাদের হটলাইনে প্রায় ৫,৩০০টি কল এসেছিল নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ করার জন্য। আর এই বছর সেই কলের সংখ্যা প্রায় ৮,০০০ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  

উল্লেখ্য যে, কানাডায় এলডার এবিউজ বা বয়স্কদেরকে নির্যাতন করার ঘটনা নতুন বা সাম্প্রতিক কোন বিষয় না। আর এই একই চিত্র দেখা যায় কানাডায় বাংলাদেশী-কমিউনিটির মধ্যেও। দুঃখজনক হলেও এ কথা সত্যি যে অনেক বয়স্ক বাংলাদেশী এখানে পরিবারের সদস্যদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছেন।  

ইতিপূর্বে টরন্টো স্টার পত্রিকার এক প্রতিবেদনেও বলা হয় নতুন আসা কিছু কিছু ইমিগ্রেন্ট পরিবারে এলডার এবিউজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এর কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেটার টরন্টো এলাকার কমিউনিটি ওয়ার্কারগণ আগের চেয়ে বেশীমাত্রায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। কারণ তারা প্রতিনিয়তই দেখতে পাচ্ছেন কোন কোন ইমিগ্রেন্ট পরিবারে স্পন্সর করে আনা বৃদ্ধ বাবা-মা পরিবারে সদস্যদের হাতে নিগৃহীত হচ্ছেন।

এলডার এবিউজের বিষয়ে টরন্টোর ওয়েলেসলি ইনস্টিটিউট কয়েক বছর আগে এক রিপোর্ট প্রকাশ করে। ঐ রিপোর্টে ৪৩ জন বয়স্ক তামিল মহিলার কেস স্টাডি করে দেখা হয়।

স্বল্প পরিসরে পরিচালিত ঐ রিপোর্ট থেকে কিছু কিছু তামিল ইমিগ্রেন্ট পরিবারের যে আপাত ও সংক্ষিপ্ত চিত্রটি উঠে এসেছে তাতে দেখা যায় পরিবারের নিকটতম সদস্যকর্তৃকই বয়স্ক ব্যক্তিরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছেন। নির্যাতনকারীর মধ্যে আছেন তাদের নিজেদের সন্তান, সন্তানদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নিজের স্বামী। শারীরিক ভাবে নির্যাতিত হওয়া, আর্থিক ভাবে অনটনের মধ্যে থাকা এবং অবহেলার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনেছেন এই বয়স্ক মহিলারা। এমনকি যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে এই বয়স্ক মহিলাদের কারো কারো কাছ থেকে।

অন্যদিকে ইন্দো কানাডিয়ান ‘ভয়েস’ পত্রিকায় প্রকাশিত ইতিপূর্বের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কানাডায় বসবাসরত সাউথ এশিয়ান ইমিগ্রেন্ট পরিবারের কিছু কিছু বয়স্ক ব্যক্তি অধিকহারে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সাউথ এশিয়ান বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫% বাস করেন তাদের আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে। সার্বিকভাবে কানাডিয়ানদের মধ্যে এই হার ৫%। সাউথ এশিয়ানদের মধ্যে এই হার বেশী হওয়ার কারণ- স্বল্প আয়, ভাষাগত সমস্যা, ইমিগ্রেন্ট স্ট্যাটাস, উচ্চমূল্যের বাসা ভাড়া এবং সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিত। সাউথ এশিয়ান এই বয়স্ক ইমিগ্রেন্টদের কেউ কেউ নিভৃতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন কিন্তু তা প্রকাশ করছেন না লজ্জার কারণে এবং পরিবারিক ‘সম্মান বা সম্ভ্রম’ নষ্ট হবে এই ভয়ে।

টরন্টোর বাঙ্গালী কমিউনিটিতে বয়স্ক ব্যক্তিদের কেউ কেউ কিভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তা নিয়ে প্রবাসী কণ্ঠ ম্যাগাজিন ইতিপূর্বে স্থানীয় লেখকদের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ধারাবাহিকভাবে। সেখানে একটি প্রতিবেদনে লেখক মনিস রফিক  লিখেছেন, “আমি তার কপালের কালো দাগের কারণ জানতে চাইলাম। এবার তিনি আবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। তিনি জানালেন, তিনি এখন প্রায় সবকিছু ভুলে যান আর কোনো কাজ করতে লাগলে প্রায়ই তার হাতটা কাঁপতে থাকে। কয়েকদিন আগে ছুটির দিনে তার তিন বছরের নাতিকে ঠিক সময়ে খাবার দিতে ভুলে যাওয়ায় তার বউমা তাকে বকাঝকা শুরু করে দেয়। তখন ভয়ে তিনি দ্রুত তার নাতির খাবার তৈরী করে তাকে খাওয়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু যেহেতু তার হাত কাঁপে, সেজন্য দ্রুত কাজ করতে গিয়ে তার হাত থেকে প্লেটটা মেঝেতে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে যায়। এতে তার বউমা তাকে গালাগালি করতে করতে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম সেই সময় তার ছেলে বাড়ীতে ছিলো কিনা। তিনি জানিয়েছিলেন, ছেলে বাড়ীতেই ছিল, সে তার সাথে তার বউয়ের মতই আচরণ করে আর বাচ্চাকে সময়মত না খাওয়ানোর জন্য বকাঝকা করে। ভদ্রমহিলা কিছুক্ষণ থেমে আবার বলতে থাকেন, তারা বলে আমি নাকি কোনো কাজ করতে চাই না, আর আমি নাকি ইচ্ছা করেই জিনিসপত্র হাত থেকে ফেলে দিই। কিন্তু বাবা আমিতো আমার ছেলে আর নাতিনাতনির জন্য আমার সব দিয়ে কাজ করতে চাই, কিন্তু আমার শরীরটাতো এখন ভালো যায় না…।”

এরকম আরো বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক কাহিনী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল প্রবাসী কণ্ঠ ম্যাগাজিনে। এলডার এবিউজ বিষয়ে টরন্টোর সুপরিচিত ডাক্তার আবু আরিফ প্রবাসী কন্ঠ ম্যাগাজিনের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, এটা প্রায়ই ঘটে। অনেকেই বাবা-মাকে নিয়ে আসেন ঠিকই কিন্তু ঠিকমত দেখাশুনা করেন না। তাদেরকে দিয়ে ঘরের সমস্ত কাজ করানো হয়, থাকতে দেয়া বেসমেন্টে, ঘরের বাইরে কাজ করতে চাপ দেয়া হয়, জরুরী ওষুধপত্র কিনে দেয়া হয় না। এ কারণে যারা বাংলাদেশ থেকে ডায়াবেটিস বা অন্যান্য রোগ নিয়ে এখানে আসেন তাদের অবস্থা আরো খারাপের দিকে যায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেছিলেন, আমার মনে হয় বাবা-মাকে নিয়ে আসার আগে স্পন্সরকারীদের অবশ্যই আগে থেকেই ভেবে দেখা উচিৎ, তাদেরকে ভরণ পোষণ করতে পারবেন কিনা। কারণ বাবা-মা তো বয়স্ক। তারা এখানে এসে কাজ করতে পারবেন না। সেহেতু এদের ভরণ পোষণ করার সামর্থ্য থাকলে তবেই তাদের নিয়ে আসা উচিৎ। আনার পর এতো কষ্ট দেয়া ঠিক না। আমি বলবো এটা এক ধরণের নির্যাতন।

উল্লেখ্য যে, ইউনিভার্সিটি অব অন্টারিওর ইনস্টিটিউট অব টেকনলজী ও রেহমা কমিউনিটি সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে সাউথ এশিয়ান পরিবারে যে সকল বয়স্ক ইমিগ্রেন্ট দশ বছরের কম সময় ধরে কানাডায় আছেন এবং যাদের ইংরেজী ভাষায় দখল কম তারাই নির্যাতনের শিকার হন বেশী। অন্যদিকে যারা দশ বছর বা তারো বেশী সময় ধরে আছেন কানাডায় এবং ইংরেজী ভাষার উপর মোটামুটিভাবে দখল আছে তারা নির্যাতনের শিকার হন কম।

এলডার এবিউজের ধরণ

এলডার এবিউজ বা বয়স্ক নির্যাতন নানা ধরণের হতে পারে। elderabuseontario.com  এ বিষয়ে বিস্তরিত একটি বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, কানাডায় সবচেয়ে কমন বা প্রচলিত যে  নির্যাতনগুলো হয়ে থাকে সেগুলো হলো শারীরিক নির্যাতন, আর্থিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন এবং অবহেলার মাধ্যমে নির্যাতন।

শারীরিক নির্যাতন:

শারীরিক নির্যাতন হলো এমন আক্রমণ করা যার ফলে কেউ শারীরিকভাবে আহত হতে পারেন অথবা নাও হতে পারেন কিন্তু ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।  শারীরিক আক্রমণের মধ্যে আছে – ধাক্কা দেওয়া, পদাঘাত করা, চড় মারা, খোঁচা দেওয়া, ঝাঁকুনি দেওয়া, চুল ধরে টান দেওয়া, লাঠি বা অন্য কিছু দিয়ে আঘাত করা, কামড় দেওয়া, হাত মোচড়ানো, থুথু নিক্ষেপ করা, কোন ঘরে জোর করে বন্দি করে রাখা ইত্যাদি।

আর্থিক ভাবে নির্যাতন:

মানুষকে আর্থিকভাবেও নির্যাতন করা যায়। বয়স্কদেরকে আর্থিকভাবে নির্যাতন করা কানাডায় একটি কমন বিষয়। এই ধরণের নির্যাতন ঘটে যখন কেউ একজন কাউকে না জানিয়ে তার সম্পদ (স্থাবর বা অস্থাবর) হাতিয়ে নেন। অন্টারিতে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বয়স্কদের সম্পদ হাতিয়ে নেন পরিবারের সদস্যরাই।

মানসিক নির্যাতন:

মানসিক নির্যাতন হলো এমন নির্যাতন যার মাধ্যমে একজন মানুষের পরিচয়, আত্মমর্যাদা, সম্ভ্রম, সন্মান এবং আবেগের উপর আঘাত আসতে পারে। এই আঘাত মৌখিক ভাবে করা যেতে পারে আবার আচার আচরণের মাধ্যমেও করা যেতে পারে। লেখার মাধ্যমেও কাউকে মানসিক নির্যাতন করা যেতে পারে।

মানসিক নির্যাতনের উদাহরণ:

-এমনসব কথাবার্তা বলা যার মাধ্যমে একজন বয়স্ক ব্যক্তি নিজেকে অযোগ্য বা মূল্যহীন ভাবতে পারেন।

– কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে গুরুত্ব না দেওয়া। সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

-কারো ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করা কিংবা তার গৃহপালিত পশু-পক্ষীকে নির্যাতন করা।

– কাউকে কোন বিষয়ে হুমকী দেওয়া।

-শিশুদের প্রতি যেমন আচরণ করা হয় সেরকম আচরণ বয়স্কদের প্রতি করা।

-অবজ্ঞা করা বা এড়িয়ে চলা।

-ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য করা।

-‘বাড়ি থেকে বের করে দিব বা ওল্ড হোমে পাঠিয়ে দিব’ এই জাতীয় হুমকী দেওয়া।

-বয়স্কদেরকে সামাজিকভাবে মিশতে না দেওয়া, টেলিফোনে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধা দেওয়া, বাড়িতে অতিথি আসলে তাদের সঙ্গে মিশতে না দেওয়া।

-নাতি-নাতনীদের সঙ্গে মিশতে না দেওয়া।

যৌন নির্যাতন:

বয়স্ক ব্যক্তিরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। অনেকের কাছে হয়তো এটি অবিশ্বাস্য বা অকল্পনীয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এরকম ঘটনার নজীর অনেক আছে। তবে এ জাতীয় নির্যাতনের ঘটনা সাধারণত ওল্ডহোম বা  নার্সিং হোমগুলোতে ঘটে।

সরাসরি যৌন নির্যাতন করা ছাড়াও কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছোঁয়া বা চুমু খাওয়া যৌন নির্যাতন হিসাবে বিবেচিত হয়। যৌন মন্তব্য করাও যৌন নির্যাতনের মধ্যেই পড়ে।