টরন্টোতে বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা

আলোচনা ও অবৃত্তিতে অংশগ্রহণকারী কবি,সাহিত্যিক, গবেষক, লেখক ও সাংবাদিকগণ

মোয়াজ্জেম খান মনসুর : গত ২৬ শে অক্টোবর, শনিবার ২০২৫ বাংলা সাহিত্য পরিষদ টরন্টো, ক্যানাড ‘র  উদ্যোগে আয়োজিত হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা ।

টরন্টো শহরে হেমন্ত ঋতুর বাতাসে কার্তিকের আকাশে হালকা শীতের হীমেল কোলাহল। প্রকৃতি জুড়ে দৃশ্যমান ঋতু বদলের পালা। ম্যাপল লীফ ,পাইন গাছের পল্লবে -পল্লবে চলছে রং বদলের খেলা । লাল, কমলা, বেগুনী রঙে -রঙে সেজে গুজে এবার হেমন্তের বিদায়ের পালা। মৌসুম তার বদল দিনে বলে যায় মনে রেখো আমারে! “সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে।”

শহুরে সন্ধ্যার বাতি জ্বেলে টরন্টো শহরের একদল কবি,সাহিত্যিক গবেষক, লেখক,সাংবাদিক ও সাহিত্য বোদ্ধা এসে জড়ো হন বাংলার দুই নক্ষত্রের স্মরণে এক সাহিত্য আসরে । বন্ধু কেমন আছ বল! এমনি ধারার কোলাহল, আনন্দ ও কুশল বিনিময় চলে কিছুক্ষণ। তার সাথে ধুমায়িত চায়ের কাপে কফির পেয়ালায় চুমুকে চুমুকে চলে যাপিত জীবনের রঙ বিনিময়।

সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় আসর। বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল আলোচনা পর্ব। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেছিলেন : লেখক গবেষক সোনা কান্তি বড়ুয়া, কবি অধ্যাপক ড. গওসর রেজা, লেখক অধ্যাপক মাহমুদা নাসরিন, কবি লেখক কলামিস্ট রীনা গুলশান, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক জাসিম মল্লিক, প্রবাসী কন্ঠ ম্যাগাজিনের সম্পাদক খুরশিদ আলম, কবি লেখক ঋতুশ্রী ঘোষ ও কবি গল্পকার প্রাবন্ধিক মোয়াজ্জেম খান মনসুর।

আলোচকদের প্রাণবন্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় উঠে এসেছিল বাঙালীর রেনেঁসা যুগের এক প্রাণ ভোমরার নাম। যার নাম এবং তার বিশাল কর্মযজ্ঞের ইতিহাস তার জন্মের ২০৫ পাঁচ বছর পর আজ প্রায় বিবর্ণ এবং অনুচ্চারিত। তিনি হলেন বাঙালীর ইতিহাসে কিংবদন্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ধর্মের কুসংস্কারে নিমজ্জিত গভীর অন্ধকার থেকে যিনি নারীদের আলোর মশাল হাতে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন।

হিন্দু সমাজের পর্বতসমান প্রবল বাধা – বিপত্তি ভেংগে অসহায় অবহেলিত নির্যাতিত বিধবা নারীদের আইন করে বিবাহের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। অক্ষর বর্ণজ্ঞানহীন নারীদের জন্য শিক্ষার দরজা উন্মোচন করেছিলেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত চেষ্টায় ৩৮টি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

শিশুদের জন্য উপহার দিয়েছিলেন সহজ ‘বর্ণমালা’ বই। বাংলা সাহিত্যে প্রথম যতি এবং বিরামচিহ্ন ব্যবহার চালু করেন।

আলোচকদের আলোচনায় আসে ‘আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়’ কবি জীবনানন্দ দাশের ব্যক্তি জীবনের পাওয়া না পাওয়ার কথা, কাব্য সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার তার অনন্য অনুপম উচ্চতার কথা। নির্জনতার কবি, কবিতার জাদুকর,শুদ্ধতম কবি এবং কবিদের কবিকে নিয়ে হয় এক সমৃদ্ধ অপূর্ব মুগ্ধকর আলোচনা।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল আবৃত্তি অনুষ্ঠান

অংশগ্রহণে ছিলেন: কবি লেখক জালাল কবির, লেখক অধ্যাপক মাহমুদা নাসরিন, কবি গল্পকার নার্গিস দোজা, কবি লেখক ঋতুশ্রী ঘোষ, কবি লেখক মোয়াজ্জেম খান মনসুর।

সবশেষে গান গেয়ে শুনিয়েছেন টরন্টোর জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সূমি বর্মন।

সাহিত্য আসরে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক কুয়েট ডিন অধ্যাপক ড. কাজিম খন্দকার, প্রকৌশলী পিযুষ বর্মন , বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সারোয়ার, ফরিদা আক্তার ইয়াসমীন এবং সাবেক প্রিন্সিপাল রিয়েলটর ও সমাজকর্মী সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।  

অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে এবং অনবদ্য মনমুগ্ধকর সঞ্চালনায় ছিলেন আহ্ববায়ক কবি মোয়াজ্জেম খান মনসুর।

সম্পাদক খুরশিদ আলম এবং ফরিদা আক্তার ইয়াসমীন ভাবীর গৃহে আমরা আপ্যায়িত হয়েছিলাম পরম যত্নে এবং আন্তরিক ভালবাসায়। তাদের প্রতি যারপর নেই আমাদের কৃতজ্ঞতা । অনুষ্ঠানে ছবি তুলেছেন কাজী সারোয়ার ও পিযুষ বর্মন।