অনন্তকাল টিকে থাকবে না মহাবিশ্ব : ধ্বংস হয়ে যাবে ২০ বিলিয়ন বছর পর!
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অক্টোবর ১৮, ২০২৫: আমাদের পৃথিবী থেকে আগামী ১০০ কোটি বছর পর সব প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটবে এই দাবীর পর এবার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, আগামী ২০০০ কোটি বছর পর খোদ মহাবিশ্বই ধ্বংস হয়ে যাবে!
এখন বিজ্ঞানীদের এই দাবি কতটুকু সত্য তা দেখার জন্য ২০০০ কোটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ১০০ কোটি বছর পর তো পৃথিবীতে আর মানুষই থাকবে না। তাহলে মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে, বিজ্ঞানীদের দাবি কতটুকু সত্যি তা দেখারও তো কেউ থাকবে না!

তবে আমরা জানি বিজ্ঞান প্রমাণ ছাড়া বা যুক্তি ছাড়া কথা বলেনা। তারা দাবী করছেন, প্রায় ২০০০ কোটি বছর পর মহাবিশ্ব নিজ গুরুভারে সংকুচিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা এই প্রক্রিয়াকে বলছেন ‘বিগ ক্রাঞ্চ’। অর্থাৎ বিগ ব্যাংয়ের উল্টো এক ধ্বংসাত্মক সংকোচন।
এই গবেষণার একজন বিজ্ঞানী হুয়াং ন্যান লু । তিনি স্পেনের ডোনোস্টিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিজিক্স সেন্টারে কর্মরত। তার সাথে আছেন চীনের শাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ-চেং কিউ। আর নেতৃত্বে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেনরি টাই। এই বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণে নিয়ন্ত্রণকারী রহস্যময় শক্তি ডার্ক এনার্জি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি’র বরাত দিয়ে জনকণ্ঠ জানায় গবেষক হেনরি টাই বলেছেন, “গত ২০ বছর ধরে মানুষ বিশ্বাস করেছিল যে কসমোলজিকাল কনস্ট্যান্ট ধনাত্মক এবং মহাবিশ্ব চিরকাল সম্প্রসারণের পথে থাকবে। নতুন তথ্য আমাদের দেখাচ্ছে, কসমোলজিকাল কনস্ট্যান্ট ঋণাত্মক হতে পারে, এবং মহাবিশ্ব শেষ হবে একটি বিগ ক্রাঞ্চে।”
টাই এই গবেষণার প্রধান হিসেবে “The Lifespan of our Universe” শীর্ষক নিবন্ধটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর Journal of Cosmology and Astroparticle Physics-এ প্রকাশ করেছেন।
গবেষণা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রায় ১১০০ কোটি বছর পর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে যাবে। এরপর ধীরে ধীরে এটি নিজ গুরুভারে সংকুচিত হতে শুরু করবে। সবশেষে প্রায় ২০০০ কোটি বছর পর মহাবিশ্ব এক বিন্দুতে এসে ধ্বসে পড়বে।
অন্যদিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মহাবিশ্ব একদিন ধ্বংস হবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন ঠিক, তবে এর পদ্ধতি এবং সময় নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচলিত আছে। অন্য একটি গবেষণা বলছে, এই ধ্বংস আরও দ্রুত হতে পারে। তবে, এই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন এবং এটি একটি চলমান গবেষণার বিষয়।
