মুসলিম পরিচয় পেয়ে হোটেল কর্মীকে হিংস্রভাবে মারধর

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অক্টোবর ৮, ২০২৫ : গত মাসে গ্রেটার টরন্টো এলাকার মার্কহ্যামে একজন হোটেল কর্মচারীকে হিংস্রভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ  যাকে “হিংসাত্মক, ঘৃণা-প্রণোদিত” আক্রমণ বলে অভিহিত করছে। খবর নাউটরন্টো.কম এর।

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস (এনসিসিএম) জানায়, ভুক্তভোগী একজন মুসলিম পুরুষ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে, এনসিসিএম জানিয়েছে যে, আবাসিক হোটেল এর একজন অতিথি হোটেল কর্মচারীকে তার জাতিগত এবং ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে সেই কর্মচারীটি যখন জানান তিনি মুসলিম তখনই তার উপর আক্রমণ চালান ঐ অতিথি।

টরন্টোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন হামলায় গুরুতর আহত মুসলিম হোটেল কর্মীর মেয়ে। ছবি: দ্য কানাডিয়ান প্রেস/শরীফ হাসান)

পুলিশ জানায় ,ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং ভুক্তভোগীকে ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির ক্রেডিট কার্ড ডিক্লাইন হওয়ার পরে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল এবং এটিকে কেন্দ্র করে হোটেল কর্মচারীর সাথে অতিথির মৌখিক ঝগড়া হয়েছিল।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে কর্মচারীটি মুসলিম এ কথা জানতে পেরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী, অন্টারিও’র প্রিমিয়ার এবং টরন্টার মেয়র এই হামলার নিন্দা করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার প্রতি তাদের হতাশা এবং অবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং দেশজুড়ে ইসলামোফোবিয়া মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ড্যাগ ফোর্ড এই আক্রমণকে “সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন যে তার সরকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে রয়েছে।

“কাউকে কখনও তাদের বিশ্বাসের কারণে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয় বা কেউ বিশ্বাসের কারণে অনিরাপদ বোধ করবেন সেটাও উচিত নয়।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম  X-এ কথা লিখেছেন প্রিমিয়ার ফোর্ড।

পরে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনাটিকে “ভয়াবহ” বলে অভিহিত করেন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশকে তার পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।

“কানাডায় সহিংসতা এবং ইসলামোফোবিয়ার কোনও স্থান নেই,”  মার্ক কার্নি X-এ এ কথা বলেন।

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস জানিয়েছে যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী কার্নির প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছে এবং আক্রমণের ঘটনার আরও বিশদ বিবরণ প্রদান করেছে। তারা আক্রমণটিকে “ভয়াবহ এবং নৃশংস” হিসাবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে যে এটি ভুক্তভোগীর জীবন পরিবর্তনকারী আঘাতের কারণ হয়েছে।

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস এর পক্ষ থেকে বলা হয়, “দ্রুত বর্ধমান ঘৃণা এবং ইসলামোফোবিয়ার এই সময়ে, আমাদের সিস্টেমিক এবং সহিংস ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একসাথে কাজ করা উচিত।”

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে শহরে এই ধরনের সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরো বলেন, “আমাদের শহরে অসহিষ্ণুতার মূলে থাকা সহিংসতার কোথাও কোনও স্থান নেই। আমরা কোনওভাবেই ইসলামোফোবিয়া বা ঘৃণা সহ্য করব না – একসাথে, আমরা এমন একটি শহর গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে সবাই নিরাপদ, সম্মানিত এবং মূল্যবান বোধ করবে।”

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস বলেছে ,”গত দুই বছরে দেশজুড়ে ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণ বেড়েছে… আমাদের নেতাদের এই ঘৃণার ঢেউ মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিতে হবে।”