বাংলাদেশী – কানাডিয়ান রেস্তোরাঁ মালিক শরীফ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ স্কটিশের বিচার হবে কানাডায়

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অক্টোবর ২১, ২০২৫ : অন্টারিওতে বাংলাদেশী-কানাডিয়ান এক রেস্টুরেন্ট মালিক শরীফ রহমানকে হত্যার দায়ে যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডে এক আদালত ২৫ বছর বয়সী রবার্ট ইভান্সের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যদিকে তার বাবা, ৪৭ বছর বয়সী রবার্ট বাসবি ইভান্স এবং ৫৪ বছর বয়সী তার চাচা ব্যারি ইভান্সকে ঘটনার পর আনুষাঙ্গিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর সিবিসি নিউজের।

ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সন্যাশনাল ফৌজদারি আইনের অধ্যাপক রবার্ট কারি বলেন, শিগগিরই এই তিনজনকে স্কটল্যান্ড থেকে কানাডায় পাঠানো হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, প্রায় দুই বছর আগে টরন্টোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মফস্বল শহর Owen Sound এ স্কটিশ এই তিন দুর্বৃত্তের হামলায় বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট মালিক শরীফ রহমান (৪৪) নিহত হন। ঐ হামলায় আহত হয়েছিলেন তাঁর এক ভাগনে।

রবার্ট বাসবি ইভান্স, রবার্ট ইভান্স, ব্যারি ইভান্স। ছবি : ব্যারি ইভান্স এর ফেসবুক থেকে নেওয়া

খুনি ঐ স্কটিশ নাগরিকরা হলেন রবার্ট ইভান্স (২৫), রবার্ট বাসবি ইভান্স (৪৭) এবং ব্যারি ইভান্স (৫৪)। এদের মধ্যে রবার্ট ইভান্সকে খুনের প্রধান আসামী করা হয়েছে। বাকি দুজনকে সহযোগী আসামী করা হয়েছে। অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দারা ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছিলেন।

গত সোমবার সকালে এই তিন ব্যক্তিকে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ শেরিফ কোর্টে হাজির করা হয়, যেখানে তারা তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য কানাডায় আসার বিষয়ে সম্মত হন। আইনজীবীরা পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে অন্টারিও কারাগারের অবস্থা এতটাই খারাপ যে এটি তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে। আর এই কারণে তাদেরকে কানাডার অন্টারিওতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে লড়াই করা হবে।

স্কটিশ আদালতের নথি অনুসারে, ইভান্স জুনিয়র এবং সিনিয়র ২০২৩ সালের জুনের প্রথম দিকে কানাডায় ভিজিটর হিসেবে প্রবেশ করেন বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্টে কিন্তু ভুয়া নাম ব্যবহার করে।  

ভিসার শর্ত অনুযায়ী কানাডায় কাজ করার জন্য তদের কোন অনুমতি ছিল না। কিন্তু পুলিশ বলছে যে ইভান্স পরিবার গ্রীষ্মকালে অন্টারিওজুড়ে ঘুরে বেড়াত এবং বিভিন্ন বাড়ির ড্রাইভওয়ে মেরামত, ফ্রন্ট ইয়ার্ডে বা ব্যাক ইয়ার্ডে পেভিং এর কাজ করে দিত ক্যাশ টাকার বিনিময়ে।

খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট রাতে। স্থানীয় পুলিশ জানায় ঐ দিন রাতে কাজ শেষে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শরীফ রহমান ও তার এক ভাগনে। এই সময় তিনজন কাস্টমার খাবার খেয়ে বিল পরিশোধ না করেই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যান। বিলের পরিমান ছিল প্রায় ১৫০ ডলার। তখন শরীফ ও তার ভাগনে তাদের পিছু নেন। রেস্টুরেন্ট এর বাইরে সাইডওয়াকে এসে ঐ তিন কাস্টমারকে বিল পরিশোধের কথা বললে তারা ক্ষেপে যান এবং শরীফের উপর হামলা চালান। হামলায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন শরীফ। আহত হন তার ভাগনেও।

মারাত্মকভাবে আহত শরীফকে পরে হাসপালে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহ তিনি লাইফ-সাপোর্টে ছিলেন। কিন্তু সে অবস্থা থেকে তিনি আর ফিরেননি। হাসপাতালেই তিনি লাইফ-সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

খুনের ঘটনার পরপরই অপরাধীরা কানাডা ত্যাগ করেছিলেন। পরে অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দারা গত বছর ১৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে খুনিদের পরিচয় পরিচয় প্রকাশ করে এবং জানায় তারা যুক্তরাজ্যে গ্রেফতার হয়েছে। তবে সেই সময় খুনিদের সম্পর্কে বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেনি আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে।

খুনিদের গ্রেফতারের খবরে ঐ সময় শরীফ রহমানের স্ত্রী শায়লা নাসরিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান। এক লিখিত বক্তব্যে নাসরিন বলেন, ‘আমি ১৭ আগস্ট, ২০২৩ সাল থেকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছি এবং আমি বিশ্বাস করি খুনিদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবে আমার প্রয়াত স্বামী।

আমি কমিউনিটির কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি তার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

শরীফ রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সেদিন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী, ছয় বছর বয়সী কন্যা, ভাই ও ভাগনে। গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিতেও।