আমেরিকান গায়িকার সঙ্গে জাস্টিন ট্রুডোর প্রেমোপাখ্যান

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ : জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের প্রায় সবাই চিনেন তাঁকে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হয়ে উঠেছিলেন রাজনীতির মঞ্চে এক সুপারস্টার। এমনকি বিশ্ব মঞ্চেও। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও ডিরেক্টরদের কাছে তিনি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আকর্ষণীয় এক ব্যক্তিত্ব। ক্ষমতায় ছিলেন প্রায় নয় বছর। তবে শেষের দিকে কানাডায় তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমতে থাকে। এক পর্যায়ে তা তলানিতে এসে নামে। এমনকি তার সংসারও ভেঙ্গে যায় সেই সময়। প্রথমে গুজব রটেছিল সেই সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  সুন্দরী মেলানিয়া জোলির সঙ্গে ট্রুডোর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এবং সে কারণেই তার সংসার ভেঙ্গেছে।

জাস্টিন ট্রুডো ও গায়িকা কেটি পেরি । ছবি : গেটিইমেজ

uksnackattack.com এর এক খবরে বলা হয় মেলানিয়া জোলির সঙ্গে ট্রুডোর পরকীয়া সম্পর্ক আছে এমন গুজবের কথা আগেও শুনা গিয়েছিল। তবে ট্রুডো – সোফির সেপারেশনের পর সেই গুজব আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রুডো আর জোলির কয়েকটি ঘনিষ্ঠ ছবি সেই গুজবকে এবার আরো বেশী উস্কে দেয়।

মেলানিয়া জোলি অবশ্য ট্রুডোর সঙ্গে রোমান্টিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন এসবই গুজব ও ভিত্তিহীন।

ক্ষমতা হারানো, সংসার হারানো জাস্টিন ট্রুডো এবার আরেকবার আলোচনায় এসেছেন তার আরেক প্রেম কাহিনীর সুবাদে। শুধু কানাডায় নয়, বলতে গেলে গোটা বিশ্বেই তার নতুন প্রেম কাহিনী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর যার প্রেমে পড়েছেন ট্রুডো তিনি হলেন আমেরিকার জনপ্রিয় গায়িকা কেটি পেরি। বয়স ৪০। ট্রুডোর বয়স ৫৩। সম্প্রতি তাদের একটি ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ছবিও ভাইরাল হয়েছে স্যোসাল মিডিয়াতে এবং প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও। ঐ ছবিতে দেখা গেছে সমুদ্রের মাঝখানে একটি বিলাসবহুল ইয়টে তারা দুজন দুজনকে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ধরে আছেন।

জাস্টিন ও কেটি। ছবি : স্যোসাল মিডিয়া X থেকে নেয়া (@Sarcasmcat24)

ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারা উপকূলে এই দৃশ্যগুলো ধরা পড়ে এক পর্যটকের ক্যামেরায়। তার ভাষায়, ‘তারা নৌকা থামিয়ে হঠাৎ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, চুমু খান। প্রথমে চিনতে পারিনি,পরে ট্রুডোর হাতে থাকা ট্যাটু দেখে নিশ্চিত হই।’

ট্রুডো আর কেটির মধ্যে সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয় গত জুলাই মাসে, যখন মন্ট্রিয়লের এক রেস্তোরাঁয় তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। এরপর একাধিকবার তাদেরকে ঘুরতে দেখা গেছে মন্ট্রিয়ল শহরের পাশেই অবস্থিত মাউন্ট রয়্যাল পার্কে।

গায়িকা কেটি পেরি গত জুনে হলিউড অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে নয় বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান আছে ৫ বছর বয়সের। অন্যদিকে ট্রুডোর রয়েছে তিন সন্তান। তাদের বয়স ১৭, ১৬ এবং       ১১।

তবে ট্রুডো ও কেটি কেউই এখন পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য যে, ট্রুডো তার সাবেক স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সেপারেশন হয় ২০২৩ সালে। সেই সময়  তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ ইনস্টাগ্রাম পেজে সেপারেশনের একটি অভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁরা বলেন, ‘সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, অনেক অর্থবহ, খোলামেলা ও দুরূহ আলোচনার পর আমরা আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সবসময়ের মত আমরা পরষ্পরকে গভীরভাবে ভালবাসবো এবং একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবো। এবং আমরা ঘনিষ্ঠ পরিবার হিসাবেই থাকবো। আমরা উভয়ে এ যাবতকাল যা কিছু গড়ে তুলেছি এবং আগামীতে যা কিছু গড়ব তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকবে। আর আপনাদের সবার প্রতি অনুরোধ, আমাদের সন্তানদের মঙ্গলের কথা ভেবে আপনারা আমাদের এবং তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।’ 

ট্রডো ও সোফি এই ঘোষণা দেয়ার আগেই সেপারেশন সংক্রান্ত আইনি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। আর তার মধ্য দিয়ে ইতি ঘটেছিল তাদের ২০ বছরের সম্পর্ক। সোফি স্বামী ও সন্তানদের রেখে অটোয়াতে অন্য একটি বাড়িতে উঠেন।

ইতিপূর্বে তাঁদের এক বিয়ে বার্ষিকীতে ট্রুডো ইন্সটাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে বলেছিলেন, ‘আমার স্ত্রী সোফি আর আমি রৌদ্রজ্জ্বল দিনের ভেতর দিয়ে যেমন গিয়েছি, তেমনি গিয়েছি ঝড়ের ভেতর দিয়েও আবার গিয়েছি এ দুটোর মাঝখান দিয়েও।’

ট্রুডো তাঁর আত্মজীবনীতে বৈবাহিক জীবনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেছিলেন, ‘সোফি আর আমার বিয়ে পুরোপুরি ঠিক ছিল না। আমরা নানা রকম উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে গিয়েছি। তারপরেও সে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে আছে। আঘাত আসলেও আমরা একজন আরেকজনের প্রতি সৎ ও আন্তরিক থেকেছি।’ আত্মজীবনীটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৪ সালে।

ট্রুডো ও সোফির জীবনটা শুরু হয়েছিল রোমান্টিকতার মধ্য দিয়ে। প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। সোফি গ্রেগওয়ার জন্ম ১৯৭৫ সালের ২৪ এপ্রিল। সোফিকে জাস্টিন চিনতেন সেই শৈশব থেকেই। কারণ তিনি ছিলেন জাস্টিনের ছোট ভাই মিশেল ট্রুডোর সহপাঠীনি। তবে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে আরো অনেক পরে। সেটি ছিল ২০০৩ সালের ঘটনা যখন দুজনে একটি চ্যারিটি প্রগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হন। তখন থেকেই একজন আরেকজনের প্রতি কৌতুহলী হয়ে উঠেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই তা গভীর প্রণয়ে পরিণত হয়। ২০০৪ সালের অক্টোবরে এঙ্গেজমেন্ট এবং ২০০৫ সালের মে মাসে বিয়ে হয়েছিল।

এখন অপেক্ষার পালা এটি দেখার জন্য যে, ট্রুডো আর কেটি’র নতুন প্রণয় বা প্রেম কোন দিকে মোড় নেয়।