কঠিন সব রোগের সঙ্গে বসবাস করে এখনও বহাল তবিয়তেই আছেন অমিতাভ

জীবন্ত কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন। ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫: ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন। ১৯৭০-এর দশকে জঞ্জির, শোলে, দিওয়ার-এর মতো হিট সিনেমার মাধ্যমে উদয় তার। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বলিউডের সেরা অভিনেতাদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
অমিতাভ বচ্চন বলিউডের শহেনশাহ হলেও, তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল স্ট্রাগলে ভরা। কলকাতার এক পার্সেল অফিসে চাকরি করতেন, অভিনেতা হওয়ার জন্য স্ট্রাগলও করেছেন। এটাতো গেল তার জীবনের একটা স্ট্রাগলের দিক। তিনি শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও স্ট্রাগল করে আসছেন বহু বছর ধরে। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এটিএন নিউজ জানায়, তার লিভারের ৭৫ শতাংশই নাকি নষ্ট! আশির দশকের শুরুর দিকে ‘কুলি’ সিনেমার শুটিংয়ে স্টান্ট করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন এই গুণী অভিনেতা। তখন অনেকেই তাকে রক্ত দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের শরীরে ছিল ‘হেপাটাইটিস বি’ ভাইরাস। সেখান থেকেই তার শরীরে সংক্রমিত হয় এই রোগ। এতে ধীরে ধীরে তার লিভার অনেকাংশে কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।
বর্তমানে তার বয়স ৮৩। তারপরও পুরোদমে অভিনয়ের পাশাপাশি সঞ্চালনার কাজ করছেন। এই অসুস্থ্য শরীর নিয়েই।
লিবারের সমস্যা ছাড়া তিনি যক্ষ্মার মতো রোগেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেটা ২০০০ সালের কথা। সংবাদ সংস্থা ‘পিটিআই’কে তিনি বলেছিলেন, ‘২০০০ সালে আমার টিবি ধরা পড়েছিল এবং প্রায় এক বছর ধরে খুব কঠোর চিকিৎসার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম। যেদিন আমি টিভি শো কেবিসি শুরু করতে যাচ্ছিলাম সেদিনই আমি টিবিতে আক্রান্ত হয়েছিলাম। এটি মেরুদণ্ডের টিবি ছিল। এটি খুব অস্বস্তিকর। আপনি বসতে বা শুয়ে থাকতে পারবেন না। বেশিরভাগ সময়, আমি যখন গেম শো উপস্থাপক করছিলাম তখন বেঁচে থাকার জন্য আমি দিনে ৮ থেকে ১০টা ব্যথানাশক ওষুধ খেতাম।’
সাম্প্রতিক সময়ে অমিতাভ সুস্থ থাকতে খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। মাছ-মাংসও খান না। ডাল, সব্জি, রুটি খান। বেশিরভাগ দিন দই-ভাত খান। এ ছাড়াও আমলা, তুলসীর রস খান। মদ্যপান, ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেছেন।