কানাডায় আমার মা হবার গল্প
শুভ্রা শিউলী সাহা
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
আলো আঁধারে অনেকটা পথ পার হয়ে এসেছি
দুঃখ সুখের সাদা কালো দিন গুলো, চিরদিন সমান নাহি যায়। যখন যা আসে সবই গ্রহণ আমরা করি খুশী মনে। জীবনে সব যে সঠিক ভাবে করতে পারি তা নয়। কিছু সীমাবদ্ধতা তো আমাদের রয়েছেই। তারপর কত অজানাকে জানা, কত কিছু মনিয়ে নেয়া, মেনে নেয়া। তবে আমি হাল ছাড়িনি। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি অসম্ভব বলে কিছু নেই। কানাডাকে ভালোবাসলে, কানাডা আমাকে ভালোবাসবে। কারো জন্য কিছু করতে পারলে নিজের কাছেই ভীষণ ভালো লাগে। সবচেয়ে important হল নিজের wellness, সুস্বাস্থ্য, তবেই তো পরিবারারের সবাইকে ভালো রাখা যায়। চেহারাটা রাধারানীর দান, বিগত জন্মের পুণ্যের ফল, ভালো কাজের পুরস্কারও বটে। তবে কিছুটা হলেও ভালো থাকা যায় ডায়েট আর ফিটনেস মানলে। বিবেকানন্দ বলতেন খাবার খাও ওষুধের মত, তা না হলে ওষুধ খাবারের মত খেতে হবে। রোগ শোকে শয্যাশায়ী হয়ে পরিবারের অন্য সকলের বিরক্তি আর করুণার পাত্র হওয়াটা কতটা ভয়াবহ ভাবতেই গায়ে কাঁটা দেয়। ঈশ্বরমুখী থাকা, অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ক্ষমা করা, হিংসা বিদ্বেষ না ছড়ানো, কটুকথা না বলা, পরের উপকার করা সবই সুস্বাস্থ্যের উপাদান। পৃথিবীতে সব ভালো কাজই মা হবার মত কষ্টের, ব্যথার। সব সৃষ্টিরই প্রসব বেদনা আছে।

সত্যিই তো নতুন দেশে এসে আমরা কত struggles করে চলি, আমাদের সন্তানরা সত্যিকার ভালো মানুষ হবে – পরবর্তী প্রজন্ম এদেশে জায়গা করে নিয়ে ভালো থাকবে এই প্রত্যাশায়। তবে এটা ঠিক, ইদানীং আমাদের অধিকাংশের ছেলেমেয়েরা আজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ, ব্যারিস্টার কতশত ভালো ভালো পজিশনে কাজ করছে যা নিয়ে অহংকার করা যায় বৈকি। তবে সমাজে ভালো কিছু করার জন্য যে কষ্ট করে সে শুধু কষ্টই করে যায় – এটাই জাগতিক নিয়ম। মানুষকে অভিশাপ মুক্ত করার প্রচেষ্টার জন্য যীশু খৃষ্টকে ক্রশবিদ্ধ হতে হল, মানুষের দু:খ কষ্টের মুক্তির কথা ভেবে বুদ্ধ ঘর ছাড়লেন। বিনা অপরাধে কতজন শাস্তি ভোগ করে- অকারণে ফাঁসি হয় , যাবৎ জীবন কারাদণ্ড হয়। অধিকাংশ মহা মনিষীরা, বিজ্ঞানীরা, কবি সাহিত্যিকেরা তাদের জীবিত অবস্থায় তাদের ভালো কাজের শুধু তীব্র সমালোচনা পেয়ে যান, তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি মেলে না। তাদের ভালো কাজের সুফল ভোগ করে অন্যরা। তাই বলে কি আমরা সমালোচনার ভয়ে কর্ম বিমুখ হতে পারি? নিজের কাজে অবহেলা করতে পারি? যীশুখৃষ্ট ক্রস বিদ্ধ হয়েছেন, কলম্বাস কে মারতে চেয়েছে তার সাথীরা, চিন্ময় প্রভু জেলে। তাই বলে তো ভালোকাজ কখনোই বন্ধ হয়ে যায়নি। নিজেকে ভালোবাসতে পারলেই অন্যকে ভালোবাসা যায়। মানবতার জয় হবেই, প্রকৃতি চলবে তার নিয়মে। আমারা বিশ্বাস করি সকলের আশীর্বাদ সাথে আছে, ঈশ্বর আছে, অন্তরে আছে আমার রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা কথা। চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির – জগতে তখন কিসের ভর।
মায়ের কাছ থেকে প্রত্যাশার চাপ তো থাকেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। আমার ছেলেরা এদেশে লেখাপড়া করবে বড় হবে সেই স্বপ্ন এ প্রত্যয় ছিল। আমার কলেজের পড়া শেষ হতেই শুরু হলো placement. Cyner Drinks নামে ইটালিয়ান একটা বেভারেজ কোম্পানি- সেই দূরে মিসিসাগাতে। এখানে কাজ করেই কানাডার একটা business কিভাবে চলে a to z শেখা। কমাস পরেই business টা বিক্রি হল তারপর তারা করলো Bankruptcy । Cyner থেকে পাওয়া শেষ pay cheque টি NSF হল। মানে Non-Sufficient Funds. – পুরো ১ মাসের কষ্টের রোজগার। শুনেছি কোথায় যেন ৬ মাসের মধ্যে complain করা যায় কিন্তু আমি করিনি। ভাবলাম ওরা হয়ত আসুবিধায় আছে, পরে হয়ত দিয়ে দেবে। কিন্তু আজও পাইনি। শুরু হলো এজেন্সিতে পরীক্ষা দেয়া আর কাজ খোঁজা। কাজ পেলাম একটা Government এর program এ।
তিন ছেলের একজন teen, আর এক জন middle School, আর ছোটোটি অভিক Kindergarden এ। প্রতিদিনই মিটেন আর টুপি হারাতো অভিক। স্কুলে যাবার সময় অভিকের জ্যাকেটের সাথে হাতের মিটেন আর টুপি সেলাই করে আটকে দিতাম যাতে না হারায়। সেটা তার খুবই অপছন্দের ছিল। ক্লাসে গিয়ে টিচারের কাছ থেকে কাঁচি নিয়ে সেটা কেটে ফেলতো। বাইরে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বরফের দিনেও ৩/৪ বার করে খেলতে বার করতো স্কুলের মাঠে ওদের । আর তখন কিসের জ্যাকেট, টুপি বা মিটেন। অবশেষে স্কুলের প্রিন্সিপালকে অনুরোধ করলাম ওকে যেন ঠান্ডায় বাইরে না নেয়া হয়, ওর কোল্ড অ্যালার্জি আছে। তাতেও কোন কাজ হোল না। খেলা ফেলে রুমে বসে থাকার মত ছেলে সে নয়। আর teen age এ শীতের কাপড় কম পরাই যেন ফ্যাশন। তারপর মহাসমারোহ ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, বমি এসব বাধিয়ে নিয়ে – রাত জাগা, কান্নাকাটি, ডাক্তারের কাছে দৌড়োনো, কাজ থেকে ছুটি নেয়া, তুলসীপাতা-আদা-মধু-লেবুর রস-হলুদজল এসব চলত। এই নিয়ে আমার অন্তহীন ব্যস্ত জীবন। বেশ Struggle তো বটেই। নতুন একটা দেশে সব মিলে গুছিয়ে উঠতে একটু সময় তো লাগবেই। হতাশ যে হয়নি তা নয়। তারপর নিজেই সোশ্যাল ওয়ারকারের সাথে কাজ করেছি। নিজেকে counselling করেছি। শুনেছি যে সয় সেই রয়, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। আপন মনে ব্যাটিং করেছি, ৬ কিংবা ৪ এর আশা করিনি তেমন একটা। আমার Husband চলে গেল মন্ট্রিল এর Concordia university তে Master’s করতে। কিন্তু বাবাকে ছাড়া teen age boy সামলানো বেশ কঠিন। তাই সে ফিরে এলো আবার Rayerson university টরেন্টোতে। ছোট্ট একখানা ঘর কেনা হল। টানা ৩ বছর কাজ করলাম Finance & procurement এ। তারপর আমার IT Skills দেখে আমাকে CMDB Configuration Specialist হিসেবে asset management এ কাজ দিল। job এর requirement হিসেবে PMP certification পাশ করতো হলো। চার ঘণ্টা লম্বা professional exam গুলো বেশ challenging. কাজ, পড়া, সংসার, ছোট বাচ্চা বেশ কঠিন। তবে কখনোই হতাশ হয়নি, সাহস হারাইনি। দেখতে দেখতে দুই ছেলের একজন Waterloo University তে, অন্যজন McMaster University তে পড়তে গেল। weekend এ ওদের দেখতে যেতাম।
ছেলেদের শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করলো আমার বোনের ছেলে, MS এবং PhD করলো আমাদের সাথে থেকে। আমার husband তার ইঞ্জিনিয়ারিং লাইসেন্সিং শেষ করে তার নিজের Field এ কাজ শুরু করলো। ছেলেরা university পড়া শেষ করে job এ join করলো। দেখতে দেখতে ছোট ছেলেটা কখন যে বড় হয়ে গেল টের পাইনি। অভিকের সাথে কোথাও গেলে আগে থেকে সাবধান করে – তুমি উল্টো পাল্টা কিছু বলবে না, আমি যেন embarrassed না হই। দেখতে দেখতে ছেলেটা বড় হয়ে গেল, ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় কদিন বাদেই তার McMaster university তে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তারপর কোথায়, কেমন তার কর্ম জীবন নিয়তি লেখা আছে সে ভগবানই জানে। একবার ঘরের বাইরের পৃথিবীতে পা রাখলে কি সাধ্য বেধে রাখার। যতদিন দেহে আছে বল হয়ত ঘুড়ির নাটাই টেনে যাবো। তারপর সুতো কেটে কোথায় গিয়ে পরবে তা বড্ড অনিশ্চিত। সত্যিই বয়সটা যে কখন কিভাবে বেড়ে গেল একদমই টের পাইনি। একদিন আমিও বাবা মাকে ছেড়ে এসেছিলাম- জীবনের বিভিন্ন ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়, চাকরী, বিদেশ। বাবা- মা একাকিত্বের সন্তাপ বরণ করে আমাকে এগিয়ে দিয়েছে, ধাপে ধাপে যা সব বাবা মা করে থাকে। অথচ যখন ছোট ছিলাম বাবা মায়ের এই কষ্টটা তেমন করে অনুভব করতে পারিনি। “কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে। ” এখন অনুভব করি- নিজের ছেলেগুলোকে তাদের জীবনের তাগিদে এগিয়ে দিতে হয় ঘরের বাইরে আর শুণ্যতাকে গ্রহণ করতে হয়। এটাই জীবনের চিরাচরিত ধরন। এই কঠিন সত্যটা অনুধাবন করতে বড্ড দেরী হয়ে যায়, ততদিনে বাবা মা চলে গেছে ওপারে। তিল তিল করে গড়ে তোলা সব অর্জন, সৃষ্টি পিছনে ফেলে রেখে চলে যেতে হয় বিশ্বপিতার কাছে। “তোমারি গেহে পালিছ স্নেহে, তুমি ধন্য ধন্য হে।”
এভাবেই সবমিলে প্রবাসে কানাডাতে পার করলাম দু দশক। এর মাঝে অবসরেও থেমে নেই, Christmas এর ছুটিতে বাবা মাকে দেখতে দেশে যেতাম। কিছুটা সংস্কৃতি চর্চা, Community তে কাজ করা, বন্ধু বান্ধব, গান বাজনা, হৈ চৈ, বই পড়া, ঘুরে বেড়ানো, সামান্য লেখালেখি সবমিলে আনন্দে থাকতে চেষ্টা করেছি সবসময়ই।
একসময়ে আমি যেখানে কাজ করতাম সে কাজ গুলো out source করা হল। একসাথে অনেকেই layoff পেলাম। জীবন চলার পথে বাঁধা আসতেই পারে তাই বলে থেমে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। যেখানে বাঁধা আসবে সেখান থেকেই আবার শুরু করতে হয়। আবার পড়তে গেলাম Computer Networking আর সেই সাথে join করলাম Hellenic Home এ। Accountant হিসেবে কাজ করলেও IT Lead ও আমি। আমার বস, আমাদের CFO চিত্রা তারই অনুপ্রেরণায় শুরু করেছি CPA Designation এর জন্য পরীক্ষা দেয়া, অনেকটাই এগিয়েছি। সামনে আর একটা পরীক্ষা রয়েছে। সবাই মজা করে বলে নাতনী হয়েছে, ছেলের বৌ এসেছে, শাশুড়ি হয়েছ আর কত পড়া? কিন্তু আমার পড়তে ভালো লাগে, ভালো লাগে নিজেকে নানান কাজে ব্যস্ত রাখতে। কাজের মধ্যে আত্মতৃপ্তি কাজের মধ্যেই মানুষের পরিপূর্ণতা।
কাজটাই যে আমাদের নিত্যদিনের পূজা। সব দায়িত্ব, কাজই তো ভগবানের। শুনেছি “অসম্ভব “ কথাটি কেবল মূর্খ ও অলসদের অভিধানে লেখা থাকে। প্রতিটি মেয়ে বাবা মা কে ছেড়ে এসে স্বামী সন্তান কে নিয়ে গড়ে তোলে তার আপন ভুবন। যখন মা হয় তখন প্রায় সব মেয়েকেই মৃত্যুর কাছাকাছি যেতে হয়। তারপর রক্তঘামে, চোখের জলে, হাসি আনন্দে ভালোবাসায় তাদের কে বড় করা। তারপর কোন মায়ের সন্তান হয় বিদ্যাসাগরের মত মাতৃভক্ত কেউবা তার বিপরীত। মেয়েদের কেবল হারাতেই হয়। বাবা মা চলে গেল। বেঁচে থাকতে কখনোই মনে হয়নি এভাবে মিস করবো; ভাবতেই পারিনি একদিন ত্রিভুবনের কোথাও যে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেন অক্সিজেনের সমুদ্রে ডুবে আছি বলে বুঝতেই পারিনা – প্রকৃতি যদি ১/২ মিনিট অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ রাখতো তবে কি হত। ছেলেমেয়েরা বাবা-মাকে যতই অশ্রদ্ধা, অপমান আর ignore করুক না বাবা-মায়ের আশীর্বাদ সন্তানের হৃদয়ে সর্বদাই বিরাজমান। সম্পর্কগুলো এখন কেমন যেন; অনেকেই ঠাকুর দা, কাকা, জ্যাঠু আত্মীয় পরিজনদের নাম পর্যন্ত জানে না। শুধুই নিজের জন্য বাচা – নিজেকে নিয়েই। সবাইকে নিয়েই তো ভালো থাকার আনন্দ। মনের অশুদ্ধতা থাকলে ভগবান ভগবান করে মন্দিরে শত শত ফুল বেলপাতা অর্পণ করলেও কিছুই লাভ হয় না। আত্মজ্ঞান লাভ করা তো অনেক পরের ব্যাপার। সমাজে ভালো আর মন্দ, এর ফারাক টুকুও আমরা অধিকাংশ মানুষ বুঝতে পারি না। প্রতিটা মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর আছেন, সেটাও আমরা ধর্তব্যের মধ্যে আনি না। মানুষের একটা বড় অসুখের নাম “ঈর্ষাপরায়ণতা”। বাস্তবিক এর কোনো ওষুধ হয় না। এর চিকিৎসা নিজেকেই নিজের জন্য করতে হয়। প্রধানত কোনো সৎ ব্যক্তি নিজের যোগ্যতা এবং কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা একটা উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সেখানে একজন অলস, হীনমন্যতায় ভুগতে থাকা অত্যন্ত নিচু মনের একজন মানুষের ওই ব্যক্তিকে ঈর্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এই অসুখ থেকে না বেরোলে অতলে তলিয়ে যেতে হয়। একমাত্র মহাপুরুষদের অমোঘ বাণী মেনে চললে এবং উচ্চ মনের মানুষদের সান্নিধ্য লাভ করে মনের সংকীর্ণতা দূর করলে, এর থেকে বেরোনো যায়। মনের সংকীর্ণতা শরীরের উপর রেখাপাত করে। তাই সবার প্রথমে নিজের মনটাকে নিজেকেই বুঝতে হবে। সত্য বড় নির্মম এবং কঠোর। এর বিনাশ নেই, কিন্তু মিথ্যার বিনাশ আছে। সত্যকে ধরে রাখা সহজ নয়। মানসিক দিক দিয়ে অনেক উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলেই সেটা সম্ভবপর হয়। তার জন্য মনের দৃঢ়তা লাগে। তবেই সত্যকে জানা যায় এবং ধরে রাখা যায়। অতঃপর আনন্দের সাগরে ভাসতে শুরু করা যায়।
শিশুরা যখন আনমনে খেলে তখন ভারী মিষ্টি লাগে। ও খুব smart , খিদে পেলে নিজেই খাবার খুঁজে খেতে পারে। পরিবারে শিশুর কথা ভেবে জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের যত্ন নেয়া জরুরী। অবহেলায় নষ্ট হলে তাকে বাঁচানো কঠিন। কয়েক রান নিতেই, সেঞ্চুরি না হতেই উইকেট পতন। সামারে কত যত্ন করে গাছ লাগাই তারপর কদিন বেড়াতে গেলে, বাড়িতে না থাকলে সব গাছের চারা, ঘরের indoor plant গুলো জলের অভাবে শুকিয়ে মারা যায়। ফিরে এসে কত জল দেই, কিন্তু কোন লাভ হয় না।
চাওয়া, পাওয়ার হিসেব নিকেষের কথা বলছি না। যথাযথ সম্মান টুকু যেন পায় বিশ্বের প্রতিটি নারী প্রতিটি মা। মায়েদের জীবনের দিন গুলো আনন্দে কাটুক আর ভালোবাসায় কাটুক। অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা, দুঃখ না দেয়া, নিজের যত্ন নেয়া, অন্যকে ভালো রাখা, দয়া, ক্ষমা, স্নেহ, প্রেম ভক্তি নিয়ে যেন আমরা পরম শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারি এ ক্ষণিকের জীবনে। বাসনাশূন্য মনই হচ্ছে শুদ্ধ মন। শুদ্ধ মন আর শুদ্ধ আত্মা এক। একমাত্র উচ্চ আধ্যাত্মিক চিন্তাই বাসনাশূন্য মন তৈরি করে। যারা এই গুণের অধিকারী, তারা সাত্ত্বিক মানুষ। কি পেয়েছি আর পাবো তা কখনোই ভাবিনি। তেমন কোন বর্ণাঢ্য জীবন আমার নয়। নিতান্ত সাধারণ মা। বাঙালি মেয়ের মা হবার গল্পের এ জীবনের ক্ষুদ্র কোলাজ যদি এদেশে নতুন আসা কোন মেয়ের মনে সাহস ও শক্তি জোগায় তবে আমার ভালো লাগবে। কখনোই মরার আগেই মরতে চাইনা। সংগ্রাম চলবে দেহে আছে যতক্ষণ প্রাণ। গতিই জীবন। জীবনটা সাইকেল চালানোর মত। নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিজেকে অবশ্যই চলতে থাকতে হয়। সেটিই আনন্দের, প্রাণ সাগরে ভেসে থাকার মূলমন্ত্র। যে কোন বয়সে নিজেকে ব্যস্ত রেখে আনন্দে বাঁচিয়ে রাখার মত অনেক কাজ পৃথিবীতে আছে। ঈশ্বর অনুরাগী মানুষ যখন স্বার্থহীন নিষ্কাম কাজে নিজেকে ডুবিয়ে রাখে তখন তার চেয়ে সুখী আর কে আছে?
শুভ্রা শিউলী সাহা
টরন্টো
লেখক পরিচিতি : পেশাগত জীবনে শুভ্রা শিউলী সাহা একজন কৃষি অর্থনীতিবিদ, সংস্কৃতি কর্মী। টরন্টোর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরেই জড়িত। জেন্ডার ও উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণায় সম্পৃক্ত ছিলেন দীর্ঘদিন জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডে। তিনি প্রকৃতি প্রেমিক এবং কবিতা পড়তে ভালোবাসেন। প্রবন্ধ, গল্প লেখা তার শখ।
