প্রতারকদের পাল্লায় পড়ে অন্টারিও’র তিন মহিলা ৬৭ হাজার ডলার খুইয়েছেন

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, আগস্ট ২৫, ২০২৫ : প্রতারকরা সম্প্রতি আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে এবং ব্যাংক কর্মচারীর ছদ্মবেশে টার্গেট করা লোকদের একাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ করে নিচ্ছে। সম্প্রতি তিনজন মহিলার সাথে এইরকম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রতারকরা তাদের একাউন্ট থেকে ৬৭,৫০০ ডলার সরিয়ে নিয়েছে। এই তথ্য জানায় সিটিভি নিউজ।

এই প্রতারণার কৌশল আসলে বহু বছর ধরেই চলে আসছে কানাডায়।

প্রতারকরা প্রথমে টার্গেট করা লোকের নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, জন্মতারিখ, ইমেইল নম্বর ইত্যাদি কৌশলে যোগার করে নেয়। এরপর টেকনলজী ব্যবহার করে টার্গেটকৃত লোককে ফোন দেয়। কল ডিসপ্লেতে নাম উঠে সেই ব্যাংকের যেখানে টার্গেট কারা ব্যক্তির একাউন্ট থাকে। এতে করে টার্গেটকৃত ব্যক্তি সহজেই ধরে নেন যে ফোন কলটি তার ব্যাংক থেকেই এসেছে। এবং এটি জেনুইন কল।

পেত্রা শিম (বামে), ক্রিস্টেন আর্নেস্ট (মাঝে), এবং রাকেল পিনেদা (বামে), সকলেই সিটিভি নিউজকে জানিয়েছেন যে তাদের ব্যাংকের জালিয়াতি বিভাগের ছদ্মবেশে ফোন কলের মাধ্যমে তারা প্রতারিত হয়েছেন। ছবি : সিটিভি নিউজ

ফোন রিসিভ করার পর প্রতারকরা তখন বলতে থাকেন যে, ‘আপনার ব্যাংক একাউন্টে যে টাকা আছে সেটি বিপদের মধ্যে আছে এবং এখনই তা সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। নয়তো প্রতারকরা তা হাতিয়ে নিবে।

তাদের এই ফাঁদে পা দিলেই ঘটে সর্বনাশ। সম্প্রতি এই ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার পর, অন্টারিও’র তিনজন মহিলা কথা বলছেন সিটিভি নিউজের সাথে যাদের সম্মিলিত লোকসান হয়েছে ৬৭,৫০০ ডলারেরও বেশি ।

এদেরই একজন হলেন পোর্ট হোপ এলাকার পেত্রা শিম। তিনি বলেন, “প্রতারকরা আমার ঠিকানা জানত, তারা আমার পুরো নাম, আমার জন্ম তারিখ জানত, তারা আমার ইমেল এবং স্পষ্টতই আমার ফোন নম্বর জানত।”

শিম জানান, তার ব্যাংকে কাজ করেন দাবী করে একজন তাকে ফোন দেন। ফোনে শিমকে বলা হয়েছিল যে, তার অ্যাকাউন্টগুলি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং তাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরল বিশ্বাসে শিম তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। এরপর দশ ঘন্টার মধ্যে তার একাউন্ট থেকে ৪৫, ০০০ ডলার গয়েব হয়ে যায়।

“আমার ব্যাংক আমাকে বলেছে যে তারা আমাকে সেই টাকা ফেরত দেবে না কারণ আমিই লেনদেন অনুমোদন করেছি,” এই কথা বলেন শিম।

একইভাবে, লন্ডন অন্টারিও’র বাসিন্দা ক্রিস্টেন আর্নেস্ট বলেছেন যে তিনিও তার ব্যাংকের কাছ থেকে একটি ফোন কল পান। ফোনের ডিপ্লেতে ব্যাংকের নামেই প্রদর্শিত হচ্ছিল। তাই তিনি ধরে নেন ফোনের অপরপ্রান্তের ব্যক্তিটি তার ব্যাংকেরই কোন একজন কর্মী। সেই ‘কর্মী’টি দাবী করছিলেন যে, ব্যাংকের ‘এন্টি ফ্রড ডিপার্টমেন্টে’ কাজ করেন তিনি যেখানে জালিয়াতির বিষয়গুলো তদন্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আর্নেস্ট বলেন, টেলিফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি তাকে জানিয়েছিলেন যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া টাকা মাদক পাচার এবং অর্থ পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

এরপর সেই ব্যক্তিটি বলেছিলেন যে “আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে রয়েছে।  তাই তহবিল সুরক্ষিত করার জন্য আপনাকে আমার নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে হবে।”

আর্নেস্ট তখন সেই ব্যক্তির নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে রাজী হন এবং এরপর সেই নির্দেশালী মানতে গিয়ে তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১৩,৫০০ ডলার গায়েব হয়ে যায়।

আর্নেস্ট বললেন, “ব্যাংকে থাকা আমার সমস্ত টাকা খোয়া গেছে জেনে খুব খারাপ লাগলো।”

টরন্টোর অধিবাসী রাকেল পিনেদার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। পিনেদা বলেন, তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোনকল পান। ঐ ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংক কর্মচারী বলে পরিচয় দেন। তারপর তার নির্দেশ অনুসরণ করতে গিয়ে তিনি ৯,০০০ ডলার হারান।

পিনেদা বলেন, “টরন্টোতে আমি একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসাবে কাজ করি। তাই ৯,০০০ ডলার আমার জন্য অনেক টাকা।”

চতুর্থ ভুক্তভোগী সিটিভি নিউজের সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি তার পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি কারণ তিনি নিজেই একটি ব্যাংকে কাজ করেন। তিনি বলেন  তার কাছ থেকে ৫০,০০০ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।

প্রতারকদের হাত থেকে নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন

কানাডিয়ান অ্যান্টি-ফ্রড সেন্টার (CAFC) এর তথ্য অনুসারে, অপরাধীরা প্রতারণার উদ্দেশ্যে এমন কৌশল অবলম্বন করে ফোন দেয় যে, মনে হবে আপনার ব্যাংক থেকেই ফোন করা হয়েছে।

এইসব জালিয়াতি এড়াতে CAFC এর পরামর্শ হলো, কখনও পাসওয়ার্ড বা অ্যাকাউন্ট নম্বরের মতো ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার করবেন না। ব্যাংকগুলি কখনও টেলিফোনের মাধ্যমে  গোপন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বলবে না, মিথ্যা বলতে বলবে না, পাসওয়ার্ড দিতে বলবে না।

তবে প্রতারণার শিকার তিনজনই সিটিভি-কে বলেছেন যে, জালিয়াতি রোধে ব্যাংকগুলিকে আরও বেশি কিছু করতে হবে।