শিকড় টিভি কানাডা’র জমকালো উদ্বোধন

প্রবাসী কণ্ঠ, আগস্ট ২৪, ২০২৫ : গতকাল ২৩ আগস্ট টরন্টোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করলো শিকড় টিভি কানাডা। ‘প্রবাসে দেশের শিকড়’ এই স্লোগান নিয়ে পাঁচ শতাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশী অধ্যুষিত স্কারবরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং এর এমপিপি ডলি বেগম। এই সময়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিকড় টিভির প্রধান নির্বাহী ওয়াজির হোসেন মুরাদ, স্কারবরো সাউথওয়েস্ট এর সিটি কাউন্সিলর পার্থি কান্দাভেল, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসসহ টিভির কলাকুশলীগণ। আরো উপস্থিত ছিল হাতে নানান রঙের গ্যাস বেলুনসহ একদল শিশু। উদ্বোধ ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে শিশুরা তাদের হাতের বেলুন ছেড়ে দেয় মুক্ত আকাশে। একই সময় দর্শক তুমুল করতালি দিয়ে স্বাগত জানায় শিকড় টিভির অনুষ্ঠানিক নবযাত্রাকে।
ডলি বেগম তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, শিকড় টিভির প্রধান নির্বাহী ওয়াজির হোসেন মুরাদ ও তার পুরো গ্রুপকে আমি ধন্যবাদ জানাই এরকম একটি বড় কর্মোদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য এটা একটা বড় অর্জন।

শিকড় টিভি কানাডাকে স্বীকৃতিস্বরূপ এর প্রধান নির্বাহীর হাতে ডলি বেগম একটি ‘টোকেন অব এপ্রিশিয়েশন’ তুলে দিয়ে বলেন, আমি মনে করি শিকড় টিভি এই নামটা সত্যিই খুব সুন্দর। এর অর্থ হলো- উই আর গোয়িং ব্যাক টু আওয়ার রুটস। কানেকটিং আওয়ার রুটস। তিনি শিকড় টিভির সাফল্য কামনা করেন।
শিকড় টিভি কানাডা’র প্রধান নির্বাহী ওয়াজির হোসেন মুরাদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, আমি প্রথমেই স্মরণ করছি মহাল আল্লাহ তালাকে যিনি আমাকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। এরপর উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা অনেক কষ্ট করে আমাদের এখানে এসেছেন। আমাদেরকে সময় দিয়েছেন। আমাদেরকে কৃতজ্ঞ করেছেন, সম্মানিত করেছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাদের ডলি বেগমকে। আমাদের প্রিয় মানুষ, প্রাণের মানুষ ডলি বেগম। ধন্যবাদ জানাচ্ছি মঞ্চে উপস্থিত আমাদের প্রিয় অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসকে। আমাদের টিমের সকল সদস্যের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনাদের কারণেই আজ আমি এখানে।
উদ্বোধনের আগে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক খন্দকার ইসমাইল বলেন, আমি সংক্ষেপে বলতে চাই, শিকড় টিভি কানাডার কিছু উদ্দেশ্য এবং কেন আজ থেকে আত্মপ্রকাশ করলো। শিকড় টিভি আসলে কিছু পরিবর্তনের কথা চিন্তা করেছে। শিকড় টিভির প্রধান নির্বাহী ওয়াজির হোসেন মুরাদ মনে করেন যে বেশ কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। এবং মিডিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাংলাদশের জনগোষ্ঠি যারা এখানে আছেন- বাংলাদেশ, কানাডা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের খবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে, এই প্রজন্মের শিশুদেরকে নিয়ে, এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদেরকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানানোর জন্য শিকড় টিভির এই প্রয়াস। এবং শিকড় টিভি কানাডা আজ থেকে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করলো।

আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কানাডা ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশী, বাংলাদেশীদের সংস্কৃতি ঐতিহ্য এবং কণ্ঠকে একত্রিত করা। অর্থাৎ আমরা যে যেখানেই আছি সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবং বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি, শিল্প এবং যে ঐতিয্য রয়েছে আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এগুলোকে ফুটিয়ে তোলা।
উপস্থাপক আরো বলেন, শিকড় টিভি শুধুমাত্র একটি টেলিভিশন চ্যানেল নয়, এটি হবে আমাদে কমিউনিটির আবেগ, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের এক প্রতিচ্ছবি। আমাদের সংস্কৃতি কি,
আমাদের আবেগ অনুভূতি কেমন সেটি আমরা শিকড় টিভির মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চাই।


তিনি বলেন, বিশেষ করে কানাডায় বাংলাদেশ কমিউনিটির যারা আছেন তারা এর সাথে সম্পৃক্ত হবেন এবং তাদের খবরগুলো সবার আগে শিকড় টিভি উপস্থাপন করার চেষ্টা করবে। এছাড়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যে খবরগুলো রয়েছে সেগুলোও শিকড় টিভি উপস্থাপন করবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানগুলোতে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করবে শিকড় টিভি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক যে সকল অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন সেই অনুষ্ঠানগুলো শিকড় টিভি নিয়মিত উপস্থাপন করবে।
আমাদের উদ্দেশ্য হলো, প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে শিকড়ের সাথে যুক্ত রাখা। শিকড় টিভির স্লোগান হচ্ছে ‘প্রবাসে দেশের শিকড়’। এই প্রবাসে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা, নতুন প্রজন্ম যারা এখানে বেড়ে উঠছে তাদের মধ্যে বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করা শিকড় টিভির উদ্দেশ্য হবে। যাতে নতুন প্রজন্ম গর্বের সাথে নিজেদের পরিচয় বহন করতে পারে।

আমাদের লক্ষ্য শুধু বিনোদন নয় বা খবর নয়, আমরা চাই প্রবাসী বাংলাদেশীদের জীবন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাদের পাশে থাকতে। শিকড় টিভ আমাদের সবার। এটিই হবে আমাদের কমিউনিটির কণ্ঠ স্বর। এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গর্ব করার মত একটি প্রতিষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজনও। এই পর্বে নাচ ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীগণ। ছিল কবিতা পাঠেরও আয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
