এইভাবে বেঁচে থাক এইভাবে

জসিম মল্লিক

অনেকেই আমার কাছে জানতে চায় আপনি আজকাল কম লিখেন! সেদিন এক অনুষ্ঠানে একজন সুদর্শন মানুষ আমাকে দেখেই বললেন, জসিম ভাই টরন্টো একবারে চলে আসলাম। মানুষটাকে এমন চেনা চেনা লাগছে! আগে নিশ্চয়ই দেখেছি। তিনিও আমাকে দেখেছেন না হলে এই কথা বলবেন কেনো! কিন্তু মানুষটাকে কোথায় দেখেছি! বাংলাদেশে নাকি এই টরন্টো শহরেই! নামটা মনে পড়ছে না কেনো! এটা আমার বিরাট সমস্যা। হঠাৎ চেনা মানুষকেও চিনতে পারিনা। নাম মনে করতে পারি না। তা সত্বেও আমি অমায়িক হেসে বললাম, ভাল করেছেন। টরন্টোই ভাল। তারপর গল্পে মেতে উঠলাম আমরা। কিন্তু মনে মনে ক্লু খুঁজছি। কোথায় দেখেছি! কোথায়! অস্থির লাগছে আমার। নিজেকে ভর্ৎসনা করছি। তারপর হঠাৎই মনে পড়ে গেলো। আরে এতো বাবু ভাই! কানাডা চলে এসেছি এই কথার মানেও বুঝতে পারলাম। তিনি আসলে ইউএনওতে চাকরি করেন। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কায় পোস্টিং ছিল মনে পড়েছে। এখন অবসরে গেছেন।

বাবু ভাই বললেন, আপনার লেখা আজকাল বেশি দেখি না। বাবু ভাই যে আমার ফেসবুকে আছেন তাই আমি জানতাম না। কিন্তু তা বলিনা। পাঁচ বছর দেখা তার সাথে। তিনি বললেন, আপনার সব লেখাই আমি সামনে এলে পড়ি। বড় লেখাগুলোও মন দিয়ে পড়ি। একবার শুরু করলে শেষ না করে পারি না। বাবু ভাইর কথা শুনে আমি একটু লজ্জা পাই। হেসে বলি, হ্যাঁ বাবু ভাই একটু কম লেখা হচ্ছে আজকাল। অন্যান্য ঝামেলায় লেখার সময় পাচ্ছি না। কিন্তু বাবু ভাইকে বলি না যে লেখার টেবিলে বসি ঠিকই কিন্তু লেখা আর হয়ে উঠে না। ফেসবুকে বন্ধুদের ছবি, লেখা আর নানা কিছু দেখতে দেখতেই সময় চলে যায়। আমার আরো দুই তিনজন বন্ধু প্ৰায়ই জানতে চায় নতুন কি লিখছি! টরন্টোর এক বন্ধু প্রায় প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় নতুন যে উপন্যাস লেখার কথা সেটা শুরু করেছি কিনা! আমি আমার এই বন্ধুর সাথে আমার লেখালেখির কথা অল্প বিস্তর শেয়ার করি। এর কারণ হচ্ছে সে অতি আগ্রহ নিয়ে আমি যাই লিখি মন দিয়ে পড়ে। মন্তব্য করে। ভুল হলে সমালোচনা করতে দ্বিধা করে না। এটা আমার ভাল লাগে। ঢাকা থেকে এক বন্ধু প্রায়ই মনে করিয়ে দেয় জসিম ভাই লেখাটা ঠিকঠাক চালিয়ে যান। লেখালেখি ছাড়া আপনার আর কিছু নাই। বইমেলার প্রস্তুতি নেন। উপন্যাসটা তাড়াতড়ি শুরু করেন। আরো অনেক পরামর্শ দেয়।

পৃথিবী এখন বড়ই অস্থির সময় পার করছে। অস্থির মানুষের মনও। দেশে দেশে অশান্তি, যুদ্ধ বিগ্রহ। মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই অস্থিরতা মানুষকেও ছুঁয়ে যায়। মানুষতো আর পাথর না। মানুষের মন আছে, আশা আছে, স্বপ্ন আছে, বুকে প্রেম আছে। আমাদের বাংলাদেশও অস্থির সময় পার করছে। আশা নিরাশার দোলাচলে মানুষের দিন কাটে। আমি নিজেও এসবের বাইরে নই। এই অস্থিরতা আমাকেও ছুঁয়ে যায়। লেখালেখির জন্য যে মনোসংযোগ দরকার সেটার অভাব দেখা দেয় তীব্রভাবে। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কগুলো নিয়ে আমি অনেক ভাবি। সম্পর্কগুলো আর আগের মতো নাই। আত্মীয় আর নাই আত্মীয়, বন্ধু আর নাই বন্ধু। যাদের কাছে বেশি প্রত্যাশা তারাই দেখি বদলে গেছে। চেনা মানুষটাকেও বড় অচেনা লাগে। পৃথিবী এতো বেশি ক্লিশে হয়েছে, মানুষ এতো বেশি আত্মকেন্দ্রিক আর স্বার্থপর হয়ে গেছে যে আপনজনকে এভোয়েড করতে দ্বিধা করছে না। ভালবাসা, মায়া, মমতা শব্দগুলো মনে হচ্ছে লাইফ সাপোর্টে চলে গেছে। কিন্তু আমার এই মন সবসময় আশাবাদী। স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে। সবসময় ভালবাসার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। ভালবাসা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে। সবসময় মনে ভাবি ভালবাসাই বেঁচে থাকবে। আত্মঅহমিকা, ঘৃণা, উপেক্ষা এসব মানুষকে কিছুই দেবে না, শুধু দূরে সরিয়ে দেবে।

টরন্টো ১০ জুলাই ২০২৫

পৃথিবীতে নিরপেক্ষ জায়গা নেই..

এই দেশে অবসর বলে কিছু নাই আসলে। মৃত্যুই হচ্ছে অবসরের জন্য ভাল সময়। সেই যে শুরু করেছি জীবন সংগ্রাম আজও থামেনি। ঢাকা শহরে পা দিয়েই এক অনন্ত লড়াইয়ের মাঠে অবতীৰ্ণ হয়েছিলাম। চোখে লেখক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু লড়াই ছাড়া টিকে থাকব কিভাবে! বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি ততদিনে। হলে থাকি। একটা খরচতো আছে! বাড়ি থেকে টাকা পয়সা নেবো না জানা কথা। আমি কখনো কারো কাছে চেয়ে নিতে পারি না। অন্যধারা মানুষ যে তাই! বিচিত্রায় সাংবাদিকতা দিয়ে শুৱু কর্ম জীবন। আজ এতোটা পথ পারি দিয়ে আসার পর শুধু মনে হয় একটু অবসর দরকার। একটু নিজস্ব সময় যাপন করা উচিত।

ছেলে মেয়ে নিয়ে ভাবনা নাই। তারা কৃতী। স্ত্রীরা কখনও স্বামীদেৱ খুব একটা বুঝে উঠতে পারে না। কাজেই ওসব নিয়ে সমস্যা নেই, তাই চাইলে সরে আসা কঠিন কিছু না। কিন্তু কতটুকু সরে আসা যায় সেটা ভাবার ব্যাপার আছে। কিলোমিটারের দূরত্বটা আসলে তেমন কিছু না। আসল দূরত্ব হচ্ছে মনে মনে সরে যাওয়া। সেটাওবা কতটুকু পারা যায় কে জানে! কখনও কখনও মনে হয় অনেকটা ব্যবধান রচনা হয়ে গেছে। কখনও মনে হয় না, তেমন কিছু না। শুধু সংসার থেকে সরে আসাই নয়, এতোকালের জীবনচর্যা, পারিপার্শ্বিক, চারিদিকের নোংরামি, রাজনীতি, ভোট, উচ্চাশা, সবকিছু থেকেই অনেকটা সরে একটা নিস্তরঙ্গ কোণ রচনা করা, যেটা পেরে ওঠা কঠিন। পৃথিবীতে নিরপেক্ষ জায়গা তো কিছু নেই।

টরন্টো ১৭ জুলাই ২০২৫

বন্ধুর সন্ধানে

আজকাল আমাৱ খুব গুটিয়ে থাকতে ভাললাগে। ঘৱই প্ৰিয় জায়গা। বই পড়া আৱ মুভি দেখা আমাৱ প্ৰিয়। অথবা প্ৰিয় কাৱো সাথে আৱামেৱ কোথাও বসে গল্প কৱতে ভাললাগে। মুখোমুখি বসে চা কফি খেতে ভাললাগে। ওয়ান টু ওয়ান। আমি চট কৱে ঘৱ থেকে বেৱ হয়ে পড়তে পাৱি না। আমাৱ প্ৰস্তুতি লাগে। দূৱে কোথাও বেড়াতে ভাললাগে আমাৱ। হোটেলেৱ আৱামপ্ৰিয় কক্ষে বসে বাইৱেৱ সৌন্দৰ্য‍্য উপভোগ কৱতে ভাললাগে। গাড়িৱ সীটে বসে দ্ৰুত অপস্ৰিয়মান ভুট্টা ক্ষেত, দূৱেৱ পাহাড়, গ্ৰাম, নদী আৱ সমুদ্ৰ দেখতে ভাললাগে। পথে পথে ব্ৰেক আৱ সুস্বাদু খাবাৱ খেতে ভাললাগে। আমি ক্ষানিকটা অলস আৱ আৱামপ্ৰিয় হয়ে গেছি। আমাৱ কষ্টকৱ কোনো এডভেঞ্চার ভাল লাগে না। এই ধৱণেৱ অভিজ্ঞতাৱ কোনো ইচ্ছা হয় না। আমাৱ সংগঠন ভাল লাগে না, ৱাজনীতি ভাল লাগেনা, জনসভা ভাল লাগেনা, স্ট্ৰিট প্ৰোগ্ৰাম ভাল লাগে না, পিকনিক, বিয়েৱ অনুষ্ঠান, দলবদ্ধ খাওয়া দাওয়া ভাল লাগে না। আমি ক্ৰাউড নিতে পাৱিনা। অচেনা বা অল্পচেনা মানুষদেৱ সাথে আমি স্বচ্ছন্দ না। আমি আড্ডাবাজ না। আমি আসলে কিম্ভুত। আমাকে বেশি মানুষ বেশিদিন সহ‍্য কৱতে পাৱে না। যাৱা পাৱে তাৱাই প্ৰকৃত বন্ধু। তাৱা আমাৱ দৃষ্টিতে মহামানব।

টৱন্টো ২০ জুলাই ২০২৫

 ভালবাসাই শক্তি, ভালাবাসাই জীবন

আমার চাওয়াগুলো খুউব ছোট। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চাওয়া। ক্ষুদ্র মানুষের ক্ষুদ্র চাওয়া। এতোটাই ক্ষুদ্র যে চোখে দেখা যায় না। আমি অল্পে সন্তুষ্ট একজন মানুষ। কেউ মিষ্টি করে একটু কথা বললেও গলে যাই। মনে হয় তার জন্য জীবন দিয়ে দেই। কেউ ডেকে এককাপ চা খাওয়ালে খুশীতে ডগমগ হয়ে যাই। বিনিময়ে তার জন্য কী করব ভেবে অস্থির হই। অথচ আমার উল্টো টাইপ মানুষ অনেক আছে। তাঁদের জন্য যতই করি কিছুতেই মন পাই না। যত তাদের জন্য ভাবি তত তারা দূরে সরিয়ে দেয়। যত ভালবাসি তত অবহেলা পাই। পক্ষান্তরে আমিও ভালবাসার মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি, উপেক্ষা দিয়েছি। সবকিছুরই একটা বিচার আছে। টরন্টোতে যখন প্রথম আসি তখন সোশ্যাল ওয়ার্কারের কাজ করতেন একজন আপা একদিন আমাকে বললেন, “শোনেন জসিম, কাউরে কইলজা কাইট্টা টুকরা টুকরা কইরা খাওয়াইলেও মন পাইবেন না।” মাঝে মাঝে কথাটা খুউব মনে হয়। এমন না যে আমি মানুষের কাছে কিছু চাই। কোনো কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে বসে আছি। আমি কারো উপর কোনো কিছুর জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারি না। যেনো কারো মনে না হয় আমি বিব্রত করছি। কারো বোঝা হতে চাইনি কখনও। কিন্তু তাৱপৱও ভালবাসার একটা দাবী থাকে। অবচেতনে এই দাবী প্রতিষ্ঠিত হয়। ভালবাসার মানুষের কাছে তখন কিছু চাইতে দ্বিধা করি না। দ্বিধা করবো না।

তবে সঠিক মানুষ চিনতে প্রায়শঃই আমরা ভুল করি। যার কাছে কিছু প্রত্যাশা করি দেখি সেই প্রত্যাখান করে। যার কাছে প্রত্যাশা করি না সেই পাশে দাঁড়ায়। পৃথিবীতে সবসময় কিছু রহস্য থাকে। মানুষের চরিত্রের রহস্য, সম্পর্কের রহস্য, মনেৱ ৱহস্য, প্রকৃতির রহস্য। এই রহস্য কিছুতেই ভেদ করা যায় না। মাঝে মাঝে এমন হয় যে সামান্য কারণে হতাশায় ভেঙ্গে পরি, ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাই। মনে হয় এই হতাশা কাটিয়ে আর উঠে দাঁড়াতে পারব না। গভীর শঙ্কা নিয়ে জীবন যাপন করি। উদ্বেগ উৎকন্ঠায় শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাই। খাওয়া থাকে না, ঘুম থাকে, আশ্লেষ থাকে না এমন হয়। মনে হয় জীবনের আশা, স্বপ্নের এখানেই সমাপ্তি। জীবনে আসলে নিরবচ্ছিন্ন কোনো সুখ নাই। নিরবচ্ছিন্ন দুঃখও নাই। যখন খুব কাছের মানুষও তুচ্ছ কারণে ভুল বুঝে দূরে সরিয়ে দেয় তখন কষ্ট পাই। কিন্তু কারো ভুল শুধরে দিতে যাই না। জানি একদিন সে তার ভুল বুঝতে পারবে বা হয়ত কখনোই বুঝবে না। এটাই জীবন। আমিও অনেক ভুল করি। কোনো একটা সম্পর্কই চিরস্থায়ী না। বন্ধু চিরকাল বন্ধু থাকে না, স্বামী-স্ত্রী চিরকাল স্বামী বা স্ত্রী থাকে না, প্রেমিক থাকেনা প্রেমিক, আত্মীয়তার সম্পর্কও ভেঙ্গে যায়। ভাই বোনের সাথেও দূরত্ব তৈরী হয়। এই বৈপরীত্ব নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে।

তবে যতই হাতাশায় আক্রান্ত হই না কেনো, যতই আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় বিরাট বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, যতই মনে হোক না কেনো জীবনেৱ সব আশা স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে তারপরও মনের গহীন কোনে সবসময় একটা আশার প্রদীপ টীম টীম করে জ্বলে। মনে ভাবি একদিন ঠিক হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারব, বিপদ থেকে মুক্তি পাব। মাথার উপর ভেঙ্গে পড়া আকাশটা হঠাৎ দূরে সরে যাবে। এভাবেই বিপদ থেকে মুক্তি মেলে মানুষের। জীবনে বিপদ আপদ থাকবে, আবার মুক্তিও থাকবে, ভৱসাৱ জায়গা থাকবে। জীবন এমনই দু’হাত ভরে দেয় আবার কেড়েও নেয়। একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেলে দুটো দরজা খুলে যায়। জীবনে কিছুই অনিবার্য না। কেউই অনিবার্য না। কারো জন্যই জীবন থেমে থাকবে না। কোনো কিছু না পেলেও জীবন বৃথা হয়ে যাবে না। একসাথে চল্লিশ পঞ্চাশ বছর সংসার করার পরও একজন কেউ যখন চলে যায় অপরজনকে তো বেঁচে থাকতে হয়। বেঁচে থাকে। আমার জীবনটা সবসময় মিরাকল। শিশুকাল থেকেই। আমার স্বপ্নের কথা কেউ জানে না। খুব সঙ্গোপনে এসব আমি লালন করি। আজও তা অব্যাহত আছে। যেহেতু আমার চাওয়াগুলো ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র তাই যা পাই সেটাই আমার কাছে বড় হয়ে আসে। আমি যতখানি মানুষের ভালবাসা পেয়েছি বা পাই তার কাছে ছোট ছোট অবহলো, উপেক্ষা অতি তুচ্ছ। ওসব গোনায় না ধরলেও চলে। ভালবাসলেই ভালবাসা পাওয়া যায়।

টরন্টো ২৭ জুলাই ২০২৫

কানাডা একটি চমৎকার দেশ কিন্তু…

কানাডায় আসা বা পিআর পাওয়ার সহজ কোনো রাস্তা নাই। রাস্তা এখন অনেক কঠিন। যারা বিগত দিনে ২০/২৫ লাখ টাকা খরচ করে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ভিজিট ভিসায় এসে ৱিফিউজি ক্লেম কৱেছেন তারাও বিশাল অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন যাপন করছেন। এখানে এসেও লইয়ারদের পকেটে হাজার হাজার ডলার ঢেলেছেন অনেকে। কিন্তু কিছুই নিশ্চিত নয়। কাজ কর্মের সংস্থানও এতো সহজ নাই আর। সরকার যে ভাতা দেয় তা দিয়ে দিন যাপন করা কষ্টকর। অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধান্দাবাজ এজেন্সির মিথ্যা লোভনীয় বিজ্ঞপ্তিতে কান দিবেন না। ইমিগ্রেশনের নিয়ম কানুনগুলো ফলো করুন। এগুলো নিয়মিত আপডেট হয়। ভুয়া এজেন্সির খপ্পরে পরবেন না। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ভাল কলেজ এবং ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করুন।

আমি যখন ২০০০ সালে কানাডার ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদন করি তখন প্রায় সবধরণের ক্যাটাগরি ওপেন ছিল। আমি সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে কানাডা এসেছিলাম। এখন আর সেই সুযোগ নাই। আমার সময় পয়েন্ট দরকার ছিল ৭০। স্পাউসের শিক্ষাগত যোগ্যতার পয়েন্ট কাউন্ট হতো না তখন। আমার কোনো ব্লাড রিলেটিভও ছিল না। আমি একার যোগ্যতায় কোয়ালিফাই করেছিলাম। ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম লসএঞ্জেলেস গিয়ে। পরবর্তীকালে স্কিল ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে ৬৭ পয়েন্ট দরকার হতো এবং স্পাউস মাস্টার্স ডিগ্রী হলে পাঁচ পয়েন্ট এবং রিলেটিভ থাকলে আরো পাঁচ পয়েন্ট যোগ হতো। তবে আইইএলটিএস লাগে। এখনও সম্ভবত সেই নিয়ম বহাল আছে তবে ক্যাটাগরি সীমিত হয়ে গেছে। সুতরাং বুঝে শুনে পা ফেলুন। কানাডা সরকারের অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে এসেসমেন্ট করুন। কানাডা একটি চমৎকার দেশ। মানবিক দেশ। প্রপার ওয়েতে আবেদন করুন। এসে ডিপোৰ্টেশনেৱ ঝুঁকিতে পৱবেন না।

টরন্টো ২৮ জুলাই ২০২৫

আমি কেমন করে বেঁচে আছি

জীবন থেকে খুব বেশি চাওয়ার নাই আমার। আবার চাইলেই সব পাওয়া যায় না। তাই যা পাই তাই নিয়ে সন্তষ্ট থাকতে চেষ্টা করি। আবার যা পেয়েছি তাওতো কম না। এতোকিছু পাওয়ারতো কথা ছিল না। এখন এই বয়সে এসে কী চাই! একটু সুস্থ্য জীবন, একটু গৃহসুখ, কয়েকজন ভাল বন্ধু নিয়ে জড়িয়ে মরিয়ে থাকা আর লেখালেখি, এইটুকুই চাওয়া। আমার মনে হয় না এটা অনেক বেশি চাওয়া। বাঁচার জন্য এটুকু খুব দরকার। সুস্থ্যতা একটা আর্শীবাদ। পৃথিবীটা ঘুরে দেখা, ভাল বইগুলো পড়া, ভাল সিনেমাগুলো দেখা, এসবও জীবনের অংশ। ধর্ম কর্মও মানুষের মনকে শান্ত করে, পবিত্র রাখে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার সাথে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা। সুখ এটাতেই। সুখী হতে বেশি কিছু লাগে না আসলে।

বস্তুত আমি খুবই একাকী একজন মানুষ। আমার নিজের সৃষ্ট এই একাকীত্ব। আমি চাইলেই অনেক মানুষের ভীড়ে হারিয়ে যেতে পারি, চাইলেই চায়ের আড্ডায় তুফান তুলতে পারি। অন্ততঃ শ্রোতা হতে পারি। আমি ভাল শ্রোতা এব্যাপারে কোনো সন্দেহ না। এর প্রধান কারণ আমি ভাল বক্তা না। কথা পিঠে কথা আসে না। কেউ কথা দিয়ে আক্রমণ করলেও আমি নিরুত্তর থাকি। আমার কথার ভান্ডার কম। তাই অন্যের বাক্যবানে জর্জরিত হই এবং কষ্ট পাই। আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা সবকিছু নিয়ে আমি অনেক দ্বিধান্বিত থাকি। সিদ্ধান্ত নিতে পারি না সহজে। এই সমস্যা আমার সবসময় ছিল। নিজের সাথে নিজের প্রবল দ্বন্দ্ব আমার। নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ। আমার নিঃসঙ্গতার এটাও একটা বড় কারণ। ঘরে বাইরে দুই জায়গায়ই আমি প্রায়ই নির্বাক হয়ে থাকি।

আমার অনেক সমস্যা। আমি একদমই পারফেক্ট মানুষ না। ভুল মানুষ। মোটাদাগে জীবনে আমি অনেক ভুল করেছি। আবেগি মানুষেরা বেশি ভুল করে। ভুলের পাশাপাশি কিছু সঠিক কাজও করেছি। ভুল বা সঠিক সবই জীবনের অংশ। সুখ দুঃখও অনেকটাই আপেক্ষিক। সবকিছু মনের ব্যাপার। নিজেকে খুবই বঞ্চিত মনে হয়, হতচ্ছাড়া টাইপ মনে হয়। মনে হয় যা চাই সেভাবে হচ্ছে না কিছুই। আমার মতো করে কিছু ঘটছে না। অনেক কিছুই আছে জীবনে যা কখনো বলতে পারিনি, লিখতে পারিনি। কাউকে সহজে কষ্ট দিতে পারি না। কিন্তু তারপরও অনেকেই আমার আচরণে কষ্ট পায়। আমার অজন্তেই এমন ঘটে। আমিও অন্যের আচরণে কষ্ট পাই। কিন্তু সেটা প্রকাশ করতে পারি না। এটাই আমার ব্যর্থতা, আমার সীমাবদ্ধতা।

টরন্টো ১২ আগষ্ট ২০২৫