কানাডায় বসবাসকারী প্রায় ৪৪ শতাংশ পুরুষ অকাল মৃত্যুবরণ করছেন

ক্যান্সার, করোনারি হৃদরোগ, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা এবং মাদক সংকটের কারণে এই অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ৩০ জুলাই ২০২৫: Movember Institute of Men’s Health এর একটি নতুন প্রতিবেদন অনুসারে দেখা গেছে কানাডায় বসবাসকারী প্রায় ৪৪ শতাংশ পুরুষ অকাল মৃত্যুবরণ করছেন। প্রতিবেদনে ৭৫ বছর বয়সের আগে পুরুষদের মৃত্যুকে অকাল মৃত্যু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ক্যান্সার, করোনারি হৃদরোগ, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা এবং opioid ( ড্রাগ) সংকটের কারণে এই অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে যা টিকা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন যেমন ধূমপান ত্যাগ করা বা আঘাত এড়ানোর মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেত। খবর আমিনা জাফর / সিবিসি নিউজ।

একটি নতুন প্রতিবেদনে কানাডিয়ান পুরুষদের ৭৫ বছর বয়সের আগে মৃত্যুর কারণগুলি পর্যালোচনা করা হয়েছে – যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনের সময় সাহায্য না চাওয়া। প্রতিবেদন অনুসারে, পরিবার, সম্প্রদায় এবং অর্থনীতি সবই এর ফলে প্রভাবিত হয়। ছবি : জেলজকোডান/শাটারস্টক

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ৭৫,০০০ পুরুষ অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন।

গত মাসে পার্লামেন্ট হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে মুভেম্বার কানাডার ক্যাথেরিন করিভো বলেন, “অনেক পুরুষ খুব অল্প বয়সে মারা যাচ্ছেন, মূলত প্রতিরোধের উপায় বা কৌশলগুলো অনুসরণ না করার কারণে,”

ক্যান্সার, করোনারি হৃদরোগ এবং দুর্ঘটনার পর পুরুষদের অকাল মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ  আত্মহত্যা। কানাডায় আত্মহত্যার কারণে মৃত্যুর প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই পুরুষ, বলেন করিভো।

প্রতিবেদনের লেখকরা বলেছেন, লজ্জা, লিঙ্গ বৈষম্য এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞানের স্বল্পতা প্রায়শই পুরুষদের চিকিৎসা সেবা নিতে বাধা দেয়। আর যখন বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিতে আসে তখন দেখা যায় অনেক দেরি হয়ে গেছে। এর প্রভাব পরিবার, সম্প্রদায় এবং অর্থনীতিতেও পড়ে।

প্রতিবেদনের লেখকরা জাতীয় মৃত্যুহারের প্রবণতাও বিশ্লেষণ করেছেন। পূর্বে, কানাডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ইনফরমেশন (CIHI) বলেছিল যে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর হার মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে দ্বিগুণ।

ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রধান ডঃ ভিনসেন্ট আগিয়াপং বলেন, এই আবিষ্কারে তিনি অবাক।

“এই আবিষ্কার প্রতিফলিত করে যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আরও সহানুভূতির সাথে রোগীদের কথা শুনতে হবে। পুরুষদের পক্ষে সাহায্য চাওয়া সবসময়ই খুব কঠিন,” আগিয়াপং বলেন।

আগিয়াপং আরো বলেন, যখন পুরুষরা সাহায্য চান, তখন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সংবেদনশীল হওয়া এবং পটভূমির প্রশ্নের তালিকা তৈরির পরিবর্তে, সেই মূল উদ্বেগের দিকে মনোনিবেশ করা গুরুত্বপূর্ণ যা ব্যক্তিকে শুরু থেকেই সমস্যায় ফেলেছিল।

আগিয়াপং বলেন, স্কুল এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পুরুষদের মানসিক ব্যাধির লক্ষণ ও উপসর্গগুলি চিনতে এবং ওষুধ এবং মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলি নিরাময়যোগ্য তা জানানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

যদি আপনি অথবা আপনার পরিচিত কেউ সমস্যায় পড়েন, তাহলে সাহায্যের জন্য নিচের নম্বরে যোগাযোগ করুন:

• কানাডার সুইসাইড ক্রাইসিস হেল্পলাইন: ৯-৮-৮ নম্বরে কল করুন অথবা টেক্সট করুন। কথা বলার জন্য একটি নিরাপদ স্থান, দিনের ২৪ ঘন্টা, বছরের প্রতিটি দিন। www.988.ca

• কিডস হেল্প ফোন: ১-৮০০-৬৬৮-৬৮৬৮। অথবা ৬৮৬৮৬৮ নম্বরে টেক্সট করুন।

• কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন: একটি ২৪-ঘন্টা ক্রাইসিস সেন্টার খুঁজুন।