অশোয়ায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার শিকার এক মুসলিম নারী
হামলাকারীরা ঐ নারীর হিজাব ছিড়ে ফেলে এবং মাথায় আঘত করে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুলাই ৩, ২০২৫: অশোয়ায় মুসলিম মালিকানাধীন একটি পিজ্জা রেস্টুন্টে মধ্য রাতে হামলা চালায় একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক। এই সময় তারা রেস্টুরেন্ট এর মালিক মুসলিম মহিলার মাথার হিজাব টেনে ছিড়েঁ ফেলে এবং তার মাথায় আঘাত করে। স্থানীয় মুসলিম নেতৃবৃন্দ বলছেন এটি ঘৃণা-প্রণোদিত হামলা হতে পারে। খবর সিবিসি নিউজের।

ডারহাম পুলিশ বলছে যে তারা নিরাপত্তা ভিডিওতে ধরা পড়া একটি সহিংস হামলার তদন্ত করছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২:৩০ টার দিকে অশোয়ার ওয়েন্টওয়ার্থ স্ট্রিট ওয়েস্ট এর একটি পিজ্জা রেস্টুরেন্টে এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের মতে, একদল লোক, যাদের ধারণা করা হচ্ছে যুবক বয়সী, রেস্তোরাঁর ভেতরে “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল”। এরপর তাদের মধ্যে একজন কাউন্টার থেকে একটি জিনিস চুরি করার চেষ্টা করে। এই সময় রেস্টুরেন্ট এর মালিক তার মুখোমুখি হন এবং একটি “হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়।”
পুলিশ জানিয়েছে ,”সেই লড়াইয়ের সময় আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি কাউন্টারের পিছনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দল বেধে ভুক্তভোগীর উপর আক্রমণ করে।”
সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধারণকৃত এই হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস (এনসিসিএম) এবং এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা এই ঘটনায় “সম্পূর্ণভাবে আতঙ্কিত এবং বিরক্ত”।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “আমরা স্থানীয় পুলিশকে এই ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি এবং এই ঘটনাটিকে ঘৃণা-প্রণোদিত হিসেবে তদন্ত করারও আহ্ববান জানচ্ছি।”
এদিকে আক্রমণের শিকার মহিলার মেয়ে বলেন ভাগ্যগুণে তার মা বেঁচে গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস এবং ফেডারেল ও প্রাদেশিক রাজনীতিবিদদের প্রতিনিধিদের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর মেয়ে বলেন যে হামলায় তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি আরো জানান তার মা এখনও আক্রমণজনিত আঘাত থেকে সেরে উঠছেন। পাশাপাশি তিনি আক্রমণের এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত।
মহিলাটি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তার পরিবার তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম-বিরোধী মৌখিক নির্যাতন এবং হয়রানির একাধিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে।
এনসিসিএম-এর চীফ অপারেটিং অফিসার এবং সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তাদের একজন ওমর খামিসা গত কয়েক মাসে ডারহাম অঞ্চলে ইসলামোফোবিক ঘটনার একটি ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন, যার মধ্যে আছে গত মার্চ মাসে অ্যাজাক্সের একটি লাইব্রেরিতে হিজাব পরা এক মহিলার উপর আক্রমণের ঘটনাও।
লাইব্রেরিতে হিজাব পরা ঐ নারী পড়াশোনা করছিলেন। তখন একজন অজ্ঞাত নারী তার কাছে এসে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার মাথায় কিছু একটা ছুঁড়ে মারে। ২৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন নারীটি তখন লাইব্রেরিতে থাকা নারীর হিজাব খুলে ফেলার চেষ্টা করে এবং তার উপর অজানা তরল ঢেলে দেয়। এরপর সন্দেহভাজন নারীটি একটি লাইটার হাতে নিয়ে হিজাবে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। আক্রান্ত নারীটি তখন সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে নিরাপত্তারক্ষীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
খামিসা আরো বলেন, সম্প্রতি ক্লারিংটনের বেশ কয়েকটি মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং হুইটবিতে সম্প্রতি মুসলিম-বিরোধী গ্রাফিতিও দেখা গেছে।
