গাড়ি চোরদের দৌরাত্ম : এবার প্রিমিয়ার ড্যাগ ফোর্ডের বাড়ি থেকে গাড়ি চুরির চেষ্টা!
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুন ১৭, ২০২৫: টরন্টোতে গাড়ি চোরদের দৌরাত্ম এবং উন্মত্ততায় এবার হতবাক নগরবাসী। কারণ তারা দেখলো গাড়ি চোরেরা এবার খোদ প্রিমিয়ার ড্যাগ ফোর্ডের গাড়ি চুরির জন্য হানা দিয়েছিল তার বাড়িতে। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেই!
নাউটরন্টো.কম জানায়, ঘটনার সময় পুলিশের দুটি গাড়ি অবস্থান করছিল নিকটেই। আর সেই পুলিশের নজর এড়িয়ে চোরেরা চেষ্টা করেছিল প্রিমিয়ারের দামী গাড়ি চুরি করার। এই যদি হয় টরন্টার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি তবে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ? খোদ প্রিমিয়ার ড্যাগ ফোর্ডই এই প্রশ্ন তুলেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ জুন মাঝ রাতে। পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা সন্দেহভাজনদেরকে একটি গাড়িতে দেখতে পায়। তারা মুখোশ পরে ছিল এবং ড্যাগ ফোর্ডের বাড়ির ড্রাইভওয়ের কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথে গাড়ির গতি কমে যায়।

পুলিশ তখন গাড়িটি থামায় এবং চেক করে আরোহীদের কাছে একটি গাড়ির চাবি প্রোগ্রামিং ডিভাইস এবং একটি প্রোগ্রামযোগ্য মাস্টার চাবি খুঁজে পায়। গাড়িতে চারজন আরোহী ছিল। এদের মধ্যে দুইজনের বয়স ২৩ এবং বাকি দুইজনের একজনের বয়স ষোল এবং অন্যজনের বয়স ১৭।
টরন্টোর বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোটর গাড়ি চুরির জন্য একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস রাখা এবং বেআইনিভাবে একটি অটোমোবাইল মাস্টার চাবি কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি দুইজন কিশোরের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে।
ড্যাগ ফোর্ড বলেন, “আমাদের দুর্বল বিচার ব্যবস্থা দেখে আমি ক্লান্ত।” জামিন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অপরাধীরা উন্মত্ত হয়ে উঠছে এবং একটি আইনহীন সমাজ তৈরি করেছে।” তিনি জামিন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, “এই অপরাধীদেরকে জেলে ঠেলে দেওয়া শুরু করা উচিত। একবার কল্পনা করুন সেই সমস্ত দুর্ভাগ্যবান মানুষদের যাদের বাড়িতে নিরাপত্তা নেই।”
উল্লেখ্য যে, তদন্তকারী সংস্থা ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান গ্যাস্টি ইতিপূর্বে গ্লোবাল নিউজকে বলেছিলেন, কানাডা চুরি করা “গাড়ির উৎস দেশ” হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক চোরেরা এই দেশকে টার্গেট করেছে কারণ এখানে চুরি করা সহজ। চোরেরা মুনাফা অর্জনের জন্য চুরি করা গাড়ি আফ্রিকার মত বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে।
গাড়ি বেশি চুরি যাওয়ায় বীমা কোম্পানিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেটস.সিএ-র তথ্যমতে, ২০২২ সালে কোম্পানিগুলি চুরি যাওয়া গাড়ির বীমা দাবি মেটাতে ১০০ কোটি ডলারের লোকসানের মুখে পড়ে। এটি ছিল ২০২১ সালের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
তদন্তকারী সংস্থা ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিওতে গাড়ি চুরির হার ২০২১ সালের চেয়ে ২০২২ সালে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, আর কুইবেকে বাড়ে ৫০ শতাংশের বেশি, আলবার্টায় বাড়ে ২০ শতাংশের কাছাকাছি এবং আটলান্টিক কানাডায় প্রায় ৩৫ শতাংশ।
